ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগাতে ভালোবাসতেন। বড় হয়ে নিজের একটি বাগান করার স্বপ্ন ছিল তার। তবে নানা ব্যস্তায় সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারছিলেন। ২০২০ সালে আক্রান্ত হন ব্লাড ক্যানসারে। ডাক্তার ওষুধের পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন। আর তাতেই শাপে বর হলো। গড়ে তুলেছেন এক অনন্য বাগান। বাগানে রয়েছে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে চার শতাধিক ফুল, ফল ও ঔষধিগাছ। তার বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। তার বাগানে যেন প্রকৃতির ছোঁয়া লেগেছে।
বলছিলাম ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরুল এহসান চন্দন ও তার বাগানের কথা। কলেজে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও ব্যবসার পাশাপাশি শখের বাগান গড়ে এলাকায় দারুণ সাড়া ফেলেছেন। বাগানে রয়েছে, অ্যাভোকাডো, রামবুটান, তিন ফল, পার্সিমন, ননি ফল, করোসল, জাবুটিকাবা, আম, লিচু, পেয়ারা ও অ্যাডেনিয়াম, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস, সাকুলেন্টসহ অসংখ্য ফুল ও ফলের গাছ। রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় গাছের চারাও।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার বাড়ির আঙিনা যেন এক টুকরো সবুজ স্বর্গ। চন্দন নিজেই ঘুরে ঘুরে অতিথিদের বাগান দেখান। বাগানের পাশে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেন। রয়েছে কবুতর, দেশি মুরগি, নানাজাতের সবজি ও ফলের গাছ।
স্থানীয়রা জানান, ভালুকা শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে খ্যাত। এই উপজেলার জমির দাম বেশি। পৌর এলাকায় যাদের জমি রয়েছে, তাদের ভাগ্য ভালো, এমনটাই বিবেচিত করা হয়। কারণ, এসব জমিতে মিল-কারখানা, বাসা-বাড়ি, রেস্তোরাঁ কিংবা নানা ধরনের স্থাপনা করে অতিরিক্ত টাকা কামানো যায়। কিন্তু কামরুল এহসান চন্দন প্রকৃতিকে ভালোবেসে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গড়ে তুলেছেন বাগান।
কামরুল এহসান চন্দন বলেন, ‘২০২০ সালে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হই। এ অবস্থায় সুস্থ হতে চিকিৎসকরা ওষুধের পাশাপাশি আমাকে কঠোর পরিশ্রমের পরামর্শ দেন। এদিকে ছোটবেলা থেকেই আমার বাগান করার শখ ছিল। তাই ১০ শতাংশের জমিতে শখের বাগান করেছি। করোনার সময় বাগানে ব্যাপকভাবে মনোযোগ দিই। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা প্রজাতির শাক-সবজি, দেশি-বিদশি ফল, ফুলসহ ঔষধিগাছ সংগ্রহ শুরু করি। বর্তমানে আমার বাগানে দেশি-বিদেশি চার শতাধিক ফল ও ফুলের গাছ রয়েছে। রয়েছে অনেক বিলুপ্তপ্রায় গাছের চারা। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে বিদেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করছে। স্ত্রীকে নিয়ে এখানেই বসবাস করছি। বাড়ির আঙিনায় বাগান করে দারুণ সময় উপভোগ করছি। যত দিন বেঁচে আছি, বাগানটি পরিচালনা করব।
কামরুল এহসান চন্দনের সহধর্মিণী সাবিহা সুলতানা লাকি বলেন, ‘বাগান তৈরির এ কাজকে প্রথমে আমার ভালো লাগেনি। তবে এখন ভালো লাগে। বাগান পরিচর্যায় স্বামীকে সহযোগিতা করি।’
কামরুলের প্রতিবেশী মহিউদ্দিন বলেন, এই বাগান যে কাউকে মুগ্ধ করবে। থরে থরে সাজানো ছোট ছোট চারা, নানা প্রজাতির গাছ। অনেক অপরিচিত গাছ সম্পর্কে জানতে পারছেন দর্শনার্থীরা। আমরা চাই ভালুকায় আরও এমন বাগান হোক।
ভালুকা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মতিউর রহমান জগলু বলেন, ‘জীবনে অনেক বাগান দেখেছি। তবে কামরুল এহসান চন্দনের বাগানটি যে-কারও দৃষ্টি কাড়বে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে ভালুকায় শিল্পায়ন হচ্ছে, সেখানে প্রকৃতি রক্ষায় চন্দনের এ উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের মধ্যে উৎসাহ জোগাবে। এমন সুন্দর বাগান গড়ার মধ্যে দিয়েও প্রমাণিত হয়, কামরুল এহসান চন্দন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ।’
এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলায় কামরুল এহসান চন্দন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তার এ কাজে জৈবসার তৈরিসহ পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।