রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার পর তিন মাসেও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। সর্বশেষ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ২১ মে পদত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী ভিসি ড. মো. হযরত আলী। এর আগে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির কারণে ২৫ এপ্রিল সাবেক ভিসি ড. মুহাম্মদ মাছুদ ও প্রো-ভিসি ড. শেখ শরীফুল আলমকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে পরপর দুজন ভিসি দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন করে এখনো কাউকে ভিসির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে কবে নাগাদ অচলাবস্থার নিরসন হবে, তাও কেউ বলতে পারছেন না। অন্যদিকে ভিসির দায়িত্বশীল পদে কেউ না থাকায় তার স্বাক্ষরের অভাবে আটকে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক, কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও পাঁচ শতাধিক স্বল্প বেতনের কর্মচারী। ভিসির স্বাক্ষর না হওয়ায় আউটসোর্সিংয়ের ৩০ নিরাপত্তাকর্মী এপ্রিল মাসের বেতন এখনো পাননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের আর্থিক ক্ষমতা ভিসির হাতে। তার স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল পাস হয় না। ফলে নতুন ভিসি নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার সুরাহা সম্ভব নয়।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। ভিসির স্বাক্ষরের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না। সাবেক ভিসি ড. মুহাম্মদ মাছুদকে অব্যাহতি দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী ভিসি উন্নয়নকাজের কোনো বিলে স্বাক্ষর করেননি। ফলে ঠিকাদারকে বিল প্রদান না করায় উন্নয়নকাজও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তার (ভিসি) কাছে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্নের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একই সঙ্গে কুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে একজন পূর্ণাঙ্গ যোগ্য ভিসি নিয়োগের দাবিও করেছি। নতুন ভিসি নিয়োগ হলে তার সঙ্গে শিক্ষক সমিতি বৈঠক করে উদ্ভূত পরিস্থিতি তুলে ধরব। তারপর তিনি অচলাবস্থা নিরসনে পদক্ষেপ নেবেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলেই শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরবেন।’
একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের কোনো বিবাদ নেই। তারা বার বার শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু শিক্ষকরা তাদের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। এরই মধ্যে কুয়েটে বড় ধরনের সেশন জট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, সাবেক ভিসি ড. মুহাম্মদ মাছুদ কুয়েটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নানাভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেছেন। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন করেন। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন। ফলে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।