ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক নেতায় পরিণত হয়েছেন: এমপি ফখরুল স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক নিয়োগ দেবে এসএমসি, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মতলবে ছেলের হাতে মা খুন প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতা বহিষ্কার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন রিয়াদ মাহরেজ জার্মানি-নাগেলসম্যানের বিচ্ছেদ! থাইল্যান্ডে ধর্মীয় শোভাযাত্রা দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৪০ জাল যার-জল তার‌: প্রতিমন্ত্রী টুকু র‌্যাগিংয়ের দায়ে হাবিপ্রবির ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ ফুটবলের উৎপত্তি প্রসঙ্গে আলাস্কার পাগল স্ল্যাকে১ ফুটবল খেলা চলছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী টেড হিউজ ও মিরোস্লাভ হোলুবের কবিতা কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করবে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গ্রামে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পদ্মার নৌকাভ্রমণ খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া দেশে বন্যা হতে পারে জুলাই-আগস্টে: এফএফডব্লিউসি ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ রস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

রাজশাহীতে শিক্ষককে ছাত্রীর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম
রাজশাহীতে শিক্ষককে ছাত্রীর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা
ছবি: খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মারুফ কারখীকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষার্থী সামিয়া রেজার (১৬) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) বিকালে ভুক্তভোগী শিক্ষক মারুফ কারখী বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন। সন্ধ্যায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটের রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এক কিশোরী হেল্প, হেল্প বলে চিৎকার করছিল। ঠিক এমন সময় সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মারুফ কারখী। ওই কিশোরীর চিৎকার শুনে মোটরসাইকেল থামাতেই পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে শিক্ষককে ছুরিকাঘাত করে ওই কিশোরী। শিক্ষককে ছুরিকাঘাতের সময়ের একটি সিসিটিভির ফুটেজ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্ট স্কুল থেকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছেন। এমন সময় ওই কিশোরী ‘হেল্প হেল্প’ বলে চিৎকার করছে। ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে সামান্য অদূরে ওই শিক্ষক মোটরসাইকেল থামান। এসময় ওই ছাত্রী পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ শিক্ষক মারুফ কারখীকে আক্রমণ করেন। গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। তখন আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ভেতরে নিয়ে যান।

কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন আক্রমণ করেছে জানতে চাইলে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল মোছা. তাসনুভা রুবাইয়াত আমিন বলেন, প্রথমত ওই শিক্ষার্থী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থী নয়। দ্বিতীয়ত বারবার একাডেমিক ডিসিপ্লিন ভায়োলেট করায় ২০২৩ সালে তাকে টিসি দেওয়া হয়। তখন থেকেই হয়তো একটি ক্ষোভ পুষে রেখেছিল। যে শিক্ষককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে সে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিল না। এমন ঘটনা ঘটানোর পর ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তার আক্রোশ মূলত প্রতিষ্ঠানের ওপর। সে বলেছে, প্রতিষ্ঠানের যাকেই পেত, তাকেই মারতো।

শিক্ষককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক বুধবার বোয়ালিয়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান ভাইস প্রিন্সিপাল।

প্রদীপ নামে এক ব্যক্তি জানান, ক্যান্টনমেন্টের সামনে আমার অফিস। বাইরে বের হয়ে দেখি, অনেক লোকজন। কী হয়েছে জানতেই শুনি ওই স্কুলের সাবেক এক ছাত্রী এক শিক্ষককে ছুরিকাঘাত করেছে। পরে শিক্ষককে স্টাফরা ভেতরে নিয়ে যায়। এসময় ওই ছাত্রী স্কুল সম্পর্কে অনেক খারাপ খারাপ কথা বলছিল।

ইউনুস নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, মেয়েটি স্কুলটির পাশেই দাঁড়িয়েছিল। স্যার বের হয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকারে দাঁড়ানো মাত্রই ওই শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে চাকু মেরে দিয়েছে। আমি এতটুকু দেখেছি।  

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৩ সালে টিসি দেওয়ায় স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর ওই শিক্ষার্থীর ক্ষোভ ছিল। শুধু শিক্ষক মারুফ কারখী নন, যে কারও ওপর হামলা হতে পারত। দুর্ভাগ্যক্রমে শিক্ষক মারুফ কারখী হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় ওই শিক্ষকের হাত ও ঘাড় কেটে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে রাজশাহীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যান। সেখানে ওই শিক্ষকের শরীরে তিনটি সেলাই লাগে। পরে ওই শিক্ষককে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ওই ছাত্রীর অভিভাবককে ফোন করে ডাকা হয়। অভিভাবক আসার পরে মেয়ের এমন কাণ্ডের কথা জানানো হয়। পরে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন স্টাফ তাদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসেন। এখন ওই ছাত্রী পরিবারের জিম্মায় আছে।

এনায়েত করিম/মাহফুজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কসবার তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হক (১৯)। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন। কিন্তু জান্নাত তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হকের সহযোগিতায় এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবি দিয়ে এআই ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্র সচিব এ. কে. আজাদের বিষয়টি সন্দেহ হলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা উপ-নিয়ন্ত্রককে অবগত করা হয়। পরে যাচাই শেষে প্রবেশপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হলে জান্নাত ও তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুলকে আটক করা হয়। 

পরে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের ভবিষ্যতে আর এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

আজিজুল সঞ্চয়/অন্তরা/

মতলবে ছেলের হাতে মা খুন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
মতলবে ছেলের হাতে মা খুন
অভিযুক্ত ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নে মো. জনির হাতে তার মা মজিদা বেগম (৫০) খুন হয়েছেন। ওই এলাকার একটি কলাবাগান থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় মজিদা বেগমের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে খুনি জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জনির দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, তার মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা'কে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, 'ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, 'এই মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে।'

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতা বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় জেলা যুবদলের এক নেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর বালুটুঙ্গি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আটক ও বহিষ্কৃত আব্দুর রহমান বিশ্বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ধাইনগর ইউনিয়নের বামুনগাঁও গ্রামের আবু বাক্কারের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখার সুবাদে বালুটুঙ্গি এলাকার কয়েকজন যুবক বাইরে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে অন্ধকারে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে উত্তেজিত জনতা। সেখানে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, সকালে তিনি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে এক যুবককে আটকের বিষয়টি জানতে পারেন। স্থানীয়রা দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় জাতীয়তাবাদী যুবদল। 

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তবিউল ইসলাম তারিফ যুবদল নেতার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, স্থানীয়রা দুজনকে আটকে রেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুজনকে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে প্রবাসীর স্ত্রী নিজে বাদী হয়ে আব্দুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। 

মো. আসাদুল্লাহ/অন্তরা/

সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার
নিহত চিকিৎসক। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধলাই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন জেলেরা। পরে পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন লাশ কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সাদাপাথরের জিরোপয়েন্টের ধলাই নদীতে নিখোঁজ হন তিনি।

পুলিশ জানায়, সুব্রত সাহা লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে। তিনি ৩ বন্ধুর সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটে বেড়াতে এসেছিলেন। নিখোঁজের পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ধলাই নদীতে বিকাশের সন্ধান চালায়। তবে চারিদিকে  অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭ টায় উদ্ধার কাজ বন্ধ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ভেসে ওঠে।

ময়নাতদন্তের জন্য সুব্রত সাহার মরদেহ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান জানান, নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তামান্না রুপা/

বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
মুদি দোকানের ছবি। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘোষিত শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রাথমিক প্রভাবে রাজধানীর খুচরা বাজারে ইতোমধ্যে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগিসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ দৈনিক বাজারদর প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে অথবা স্থিতিশীল রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ও সরবরাহসংক্রান্ত উদ্যোগে বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউ মার্কেট, রামপুরা ও মহাখালী এলাকার খুচরা বাজারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত টিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৫-৪৫ টাকায় নেমেছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮৬-১৯২ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৬০-১৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১২০-২১০ টাকা, দেশি আদা ১৩০-১৬০ টাকা এবং শসা ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কয়েকটি পণ্যের দাম সামান্য বেড়েছে। দেশি রসুন কেজিপ্রতি ৯০-১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০-১৪০ টাকা এবং বেগুন ৭০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সরু চাল (নাজির/মিনিকেট) কেজিপ্রতি ৭২-৮৫ টাকা, মাঝারি চাল (পাইজাম/আটাশ) ৫৫-৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকা এবং বড় মসুর ডালের দাম ৯০-১০৫ টাকা। গরুর মাংস ৭৮০-৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩৫০ টাকা, চিনি ১০৫-১১০ টাকা এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ ৩৮-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে উৎসে কর প্রত্যাহার এবং কয়েকটি খাদ্য ও কৃষিপণ্যের অগ্রিম কর কমানোর মতো বাজেটের পদক্ষেপের ফলে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে এবং বাজারে আস্থা বাড়ছে।

এই কর-সুবিধার আওতায় চাল, গম, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, লবণ, মাছ, পোলট্রি পণ্য, আলু ও বীজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মসলা, খেজুর, শিশুখাদ্য, সার, পশুখাদ্য, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের ওপর শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয় কমে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সম্প্রতি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায়নি। তিনি এর কৃতিত্ব সরকারের জনবান্ধব রাজস্বনীতিকে দেন।

তিনি বলেন, ‘৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট জনকল্যাণকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে।’

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল রেখেছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং নতুন অর্থবছরের রাজস্ব-সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হলে আমদানি ব্যয় আরও কমবে এমন প্রত্যাশাও বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার বাজার তদারকি অব্যাহত রাখবে, যাতে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।’

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, কর হ্রাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন আমদানি, দক্ষ সরবরাহব্যবস্থা এবং কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা সরকারের দেওয়া রাজস্ব-সুবিধার পূর্ণ সুফল পান।

তারা আরও বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতা রোধ করাও জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ (ওএসএল) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমান বলেন, সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর থাকলে সরকারের শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণের পদক্ষেপ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, কেবল আমদানি ব্যয় কমলেই খুচরা বাজারে দাম কমবে না। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে কার্যকর বাজার তদারকি অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আমদানি ও নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকে।’

রাশেদুর রহমান বলেন, এসব সহায়ক ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব-উদ্যোগগুলো আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং ভোক্তা কল্যাণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্ক ও কর হ্রাসের সুফল খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানো এবং পুরো অর্থবছরজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।

বিশ্লেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলে এবং দেশের সরবরাহব্যবস্থা নির্বিঘ্ন থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

তারা এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে অর্থ, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ধারাবাহিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তামান্না রুপা/