ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদার জন্য হত্যা পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নের আর্জেন্টিনা কোচের কড়া জবাব নিয়োগ দেবে মীনা বাজার ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু আগস্টে মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক নেতায় পরিণত হয়েছেন: এমপি ফখরুল স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক নিয়োগ দেবে এসএমসি, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মতলবে ছেলের হাতে মা খুন প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতা বহিষ্কার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন রিয়াদ মাহরেজ জার্মানি-নাগেলসম্যানের বিচ্ছেদ! থাইল্যান্ডে ধর্মীয় শোভাযাত্রা দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৪০ জাল যার-জল তার‌: প্রতিমন্ত্রী টুকু র‌্যাগিংয়ের দায়ে হাবিপ্রবির ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ ফুটবলের উৎপত্তি প্রসঙ্গে আলাস্কার পাগল স্ল্যাকে১ ফুটবল খেলা চলছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী টেড হিউজ ও মিরোস্লাভ হোলুবের কবিতা কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ

বীরগঞ্জে শিক্ষককে অনুপস্থিত দেখিয়ে সাসপেন্ড, বিলম্ব তদন্তে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৩ পিএম
বীরগঞ্জে শিক্ষককে অনুপস্থিত দেখিয়ে সাসপেন্ড, বিলম্ব তদন্তে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুর বীরগঞ্জের মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিমকে একই দিনে সকালে অনুপস্থিত দেখিয়ে বিকেলে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার ঘটনায় ৯ মাস পর তদন্ত শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এই তদন্ত পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান।

তবে তদন্তে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম ও বর্তমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দু’জনেই অনুপস্থিত ছিলেন।

তদন্তের খবর পেয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন করে অভিযুক্ত সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের শাস্তির দাবি জানান।

জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম অসুস্থ থাকায় প্রধান শিক্ষক প্রভাস চন্দ্র দাসের কাছে দুই দিনের ছুটি নেন। কিন্তু ওই সময় সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে একই দিনে সকাল ১০টা ৮ মিনিটে তাকে “অনুপস্থিত” দেখিয়ে বিকেলেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করেন। সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী এটি স্পষ্ট বিধি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং চিঠিতে ৭ দিনের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ থাকলেও প্রায় ৯ মাস পর এসে তদন্ত অনুষ্ঠিত হলো।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতিবাজ ডিপিইও নজরুল ইসলাম নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এতোদিন তদন্ত বিলম্ব করেছেন।

এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘‘রেজাউল স্যার অসুস্থ ছিলেন, প্রধান শিক্ষককে বলে ছুটি নিয়েছিলেন। অথচ ডিপিইও সকালে ফোন করে অনুপস্থিত দেখান, বিকেলেই বরখাস্ত করেন— এটা অন্যায়।”

অভিভাবক মোছা. রুবিনা খাতুন বলেন, আমাদের স্কুলের ভালো শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে অপমান করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

এলাকাবাসীর দাবি, বরখাস্তকে বৈধ দেখাতে পরদিন ৩ অক্টোবর ২০২৪ “বিষ্ণু গং” নামে একজনের মিথ্যা অভিযোগপত্র ডিপিইও নিজেই দাখিল করেন। কিন্তু বিষ্ণু গং পরে বলেন, ‘‘আমি কোনো অভিযোগ করিনি, কে আমার নামে আবেদন দিয়েছে জানি না।’’

অসহায় শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমি অসুস্থ থাকার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। তবুও অন্যায়ভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এতে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন ন্যায়বিচারের আশায় ঘুরছি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, তদন্ত চলছে। যদি সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হবে।

অতীতের অভিযোগ দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু বলেন, ডিপিইও নজরুল ইসলাম দিনাজপুরে কর্মরত থাকাকালে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। বেশ কয়েকটি তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সুলতান মাহমুদ/মাহফুজ

 

সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদার জন্য হত্যা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদার জন্য হত্যা
হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহিন মিয়া। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মুমিনুল মিয়া নামে এক অটোরিকশা চালককে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ দেড় মাস পর শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে মেঘনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহিন মিয়া দড়িকান্দি এলাকার নসর আলমের ছেলে। শুক্রবার তাকে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদি হয়ে শাহিন মিয়াকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। 

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাস ট্যান্ড এলাকায় শাহিন মিয়া একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করেন। গত ১৭ মে রবিবার বিকেলে অটোরিকশাচালক মমিনুল মিয়া তার অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাস স্ট্যান্ডে গেলে শাহিন মিয়া তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় মমিনুল মিয়া তাকে এক দফা টাকা দিয়েছেন বলে জানায় এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। 

পরে শাহিন মিয়া তার লোকজনদের নিয়ে অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে অটোচালককে মাথায় আঘাত করে। এতে মমিনুল অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্বজনরা ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ২০ মে বুধবার ভোর সাড়ে ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

অটোরিকশাচালক মুমিনুল মারা যাওয়ার পর থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত শাহিন মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ দেড় মাস পর শুক্রবার ভোরে মেঘনা এলাকা থেকে প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.গোলাম সারোয়ার বলেন, চাঁদার দাবিতে অটোরিকশাচালক মুমিনুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

ইমরান/নাঈম

মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু
মারা যাওয়া সহোদর ভাই। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের আজমনগর এলাকায় মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১ জুলাই) বড় ভাই মিজানুর রহমান হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

এদিকে বড় ভাইয়ের সংকটাপন্ন অবস্থার খবর শুনে ছোট ভাই মুজিবুর রহমান গভীরভাবে মর্মাহত হন। পরদিন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা তখন তার দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে একই দিন রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ভাই মিজানুর রহমানও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

একই দিনে মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক তৈরি হয়। 

স্থানীয় সামাজিক নেতা মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, “একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে। বিকেলে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরেই আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু রাতেই বড় ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ আরও বেশি হৃদয়বিদারক। এমন ঘটনা এই এলাকায় আগে দেখিনি। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে দুই ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”

তারেকুর রহমান/নাঈম

স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা
ছবি: খবরের কাগজ

স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন অপতথ্য, গুজব ও অপপ্রচার। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৎ, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তথ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন ভাবনায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কক্সবাজার স্থানীয় ২৫ জন সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন, তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান।

কর্মশালায় উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাছিনা আক্তার বলেন, 'সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিক ও সময়োপযোগীভাবে পৌঁছে দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুর্যোগ ও সংকটকালে গুজব প্রতিরোধ এবং নির্ভুল তথ্য প্রচারেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, এআইভিত্তিক মিডিয়া মনিটরিং, আধুনিক ডিজিটাল নিউজরুম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।'

গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা বিষয়ে উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। অপতথ্য শুধু জনমনে বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই তথ্য যাচাই করে প্রচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।'

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা তথ্যপ্রবাহ আরও সহজ করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, 'সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে। তৃণমূলের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, "চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

কর্মশালায় বক্তব্য দেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। 

তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে কসবার তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হক (১৯)। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন। কিন্তু জান্নাত তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হকের সহযোগিতায় এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবি দিয়ে এআই ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্র সচিব এ. কে. আজাদের বিষয়টি সন্দেহ হলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা উপ-নিয়ন্ত্রককে অবগত করা হয়। পরে যাচাই শেষে প্রবেশপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হলে জান্নাত ও তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুলকে আটক করা হয়। 

পরে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের ভবিষ্যতে আর এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

আজিজুল সঞ্চয়/অন্তরা/

মতলবে ছেলের হাতে মা খুন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
মতলবে ছেলের হাতে মা খুন
অভিযুক্ত ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নে মো. জনির হাতে তার মা মজিদা বেগম (৫০) খুন হয়েছেন। ওই এলাকার একটি কলাবাগান থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় মজিদা বেগমের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে খুনি জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জনির দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, তার মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা'কে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, 'ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, 'এই মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে।'

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা