দীর্ঘ ৯ মাস ধরে একটি বর্জ্য অপসারণকারী ট্রাক বিকল থাকায় পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সময়মতো ময়লা সরাতে না পারায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌর এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে আবর্জনার স্তূপ জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়কে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে হাজারও শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, এ দুটি ডাস্টবিন মাড়িয়ে ফটিকছড়ি সরকারি করোনেশন স্কুল, জামেউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি বালিকা বিদ্যালয় ও ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া পাশে রয়েছে সরকারি ডাকবাংলো ও পাবলিক লাইব্রেরি। ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় চরমভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে। রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে মানুষের শরীরে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকের মধ্যে একটি ট্রাক দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বিকল। ফলে পুরো কার্যক্রম কেবল একটি ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত ভোরে বর্জ্য অপসারণের কথা থাকলেও একটি ট্রাক দিয়ে সময়মতো কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এর ফলে স্কুল শুরুর পরও সড়কের পাশে আবর্জনা পড়ে থাকছে।
সরেজমিনে ফটিকছড়ি বিবিরহাটের ডাকবাংলো সড়কে গিয়ে দেখা যায়, ওই রোডে পৌরসভার দুটি ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার হচ্ছে না। আবর্জনা উপচে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। সড়কটি ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ, ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ফটিকছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জামেউল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রধান চলাচলের পথ। ডাস্টবিন উপচে আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নাকে হাত চেপে রাস্তা পার হতে বাধ্য হচ্ছে।
ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মুহাম্মদ রোহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘প্রায় সময়ই ময়লার দুর্গন্ধে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। অন্য কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এদিক দিয়ে যেতে হয়।’
ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা আক্তার বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থেকে ডাস্টবিনগুলো সরিয়ে নিলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারতাম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কায়সার মাহমুদ বিজয় বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী হাজারও শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে এবং পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এই সড়ক থেকে আবর্জনার ডাস্টবিনগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া অপরিহার্য।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার ময়লা ফেলার দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান জানান, একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কারণে সেখানকার ময়লা সরাতে গিয়ে ডাস্টবিনের আবর্জনা যথাসময়ে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, দুটি গাড়ির মধ্যে একটি নষ্ট থাকায় অন্য গাড়িটি দিয়েই সব বর্জ্য অপসারণের কাজ করতে হচ্ছে।
ট্রাক নষ্ট থাকার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ফটিকছড়ি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গাড়ির কাজ করা যায় না, সিজন প্রয়োজন হয়।’ গাড়ি ঠিক করতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র মুহুরী বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি জানতে পেরেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রশিক্ষণের ছুটি শেষ করে এলে তাকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’