রাজশাহী-কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর চরে আধিপত্য বিস্তার ও খড় কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। এ ঘটনায় আহত দুইজন বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে অনেক গুলির খোসা ও কয়েকটি তাজা গুলি জব্দ করে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল ‘রাজশাহীর বাঘা নাকি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর’, তা নির্ণয় করতে দেরি হওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
নিহতরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চরখানপুর গ্রামের মিনহাজ মণ্ডলের ছেলে আমান মণ্ডল (৩৬), শুকুর মণ্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩৩) ও রায়টা নতুনহাট এলাকার জামিরুল ঘোষের ছেলে লিটন সরকার (২৬)। নদীভাঙনের কারণে তারা অস্থায়ীভাবে রাজশাহীর বাঘা এলাকায় বসবাস করতেন।
জানা যায়, ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম ও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন মঙ্গলবার গুগল মানচিত্র ব্যবহার করেন। তদন্তে দেখা গেছে, ঘটনাস্থল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার মধ্যে পড়ে। এতে রাজশাহী পুলিশ সুপার ঘোষণা দেন, মামলা দৌলতপুর থানায় হবে।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, ‘নিহতরা মূলত দৌলতপুরের বাসিন্দা। নদীভাঙনের কারণে তারা বাঘায় থাকতেন। ঘটনাস্থলও আমাদের থানার মধ্যে।’ তিনি জানান, উদ্ধার করা গুলির খোসার সংখ্যা ৭০-৮০টির মতো হতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার চরাঞ্চলে বালু ও জমি দখল নিয়ে কাঁকন ও মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সোমবার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ে দুজন নিহত হন। পরে নদীতে লিটনের মরদেহ ভেসে ওঠে।
ঈশ্বরদী নৌপুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শফিউদ্দিন বলেন, ‘সকালে নদী থেকে লিটন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্ন রয়েছে। সোমবার দৌলতপুরে গোলাগুলি আর লিটনের মৃত্যু একই ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কাঁকন বা মণ্ডল বাহিনীর সদস্য। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
এনায়েত/এসজি/