সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুলবশত পানি ভেবে কেরোসিন পান করার তিন দিন পর আঁখি সরকার নামের সাড়ে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার রমজান নগর ইউনিয়নের ভেটখালী (নতুন ঘেরী) গ্রামের বাবুরাম সরকারের কন্যা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটির পরিবার তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে ঘটনার পরপরই বিষয়টি পরিবার জানতে পারলেও তারা যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী (নতুন ঘেরী) গ্রামে গত সোমবার পানির বোতল ভেবে কেরোসিন পান করে ফেলেছিল সাড়ে তিন বছরের শিশু আঁখি সরকার। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানলেও তারা এটিকে হালকা ঘটনা বলে মনে করেন এবং শিশুকে চিকিৎসা করাতে আগ্রহ দেখাননি।
প্রতিবেশী গোপাল সরকার জানান, প্রথম দিকে স্বাভাবিক থাকলেও তিন দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে বৃহস্পতিবার সকালে শিশুর বমি, পেট ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটি মারা যায়। জন্মগতভাবে শিশু আঁখির হার্টে সমস্যা ছিলো এমনটা জানিয়েছেন তার বাবা বাবুরাম সরকার।
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনার পরিণতি নয়; বরং গ্রামীণ পরিবারে সচেতনতার অভাব, ক্ষতিকর তরল পদার্থ নিরাপদে সংরক্ষণের দূর্বলতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে উদাসীনতার একটি সামগ্রিক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
এলাকাবাসীর মতে, পরিবার ও আশেপাশের মানুষের সামান্য সতর্কতা শিশুটির জীবন বাঁচাতে পারত। পানির বোতল বা ঘরের অন্যান্য পাত্রে কেরোসিন, কীটনাশক, অ্যাসিড বা ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ রাখার বিপদ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সচেতন মহল।
তারা বলছেন, নিরাপদ সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ছোটখাটো উপসর্গ হলেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শাহাজান/মাহফুজ