সুন্দরবনের একটি হরিণ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরায় এসে আটকা পড়ে। পরে হরিণটিকে উদ্ধার করে একটি ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে স্থানীয়রা হরিণটি দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে বনবিভাগকে খবর দিলে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের বনরক্ষীরা সেখান থেকে হরিণটিকে উদ্ধার করে করে পুনরায় বনের ভেতর কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে ছেড়ে দেয়।
শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা সুন্দরবনের গা ঘেঁষা গ্রাম। গ্রামটিকে সুন্দরবন থেকে আলাদা করেছে খোলপেটুয়া নদী। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, চোরা শিকারি বা অন্য কোনো বন্য প্রাণীর তাড়া খেয়ে নদীর কোল ঘেঁষে বা পাড় থেকে নদী পার হয়ে গ্রামে লোকালয়ের নদীর কিনারে চলে আসে হরিণটি।
বন বিভাগ ও স্থানীয় লোকজন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন হরিণটিকে খোলপেটুয়া নদীপাড়ের ৯নং সোরা গ্রামে দেখতে পায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি বন বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরিণটিকে উদ্ধার করে। পরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে হরিণটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার এলাকায় নিরাপদে পুনরায় বনের ভেতরে অবমুক্ত করা হয়।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, স্থানীয়রা হরিণটি উদ্ধার করে আমাদেরকে খবর দেয়। পরবর্তীতে হরিণটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। সুস্থ থাকায় সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে এলে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বনবিভাগকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, চোরা শিকারিদের ধাওয়ার মুখে পড়েই হরিণটি সুন্দরবন লাগোয়া লোকালয়ে চলে আসতে পারে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে সুন্দরবনে অবৈধ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিরাজ/মেহেদী/