‘সেবার ব্রতে চাকরি’ স্লোগানকে সামনে রেখে শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন ২১ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের ঘুষ, দালাল কিংবা তদবির ছাড়াই সরকারি ফি বাবদ মাত্র ১২০ টাকা খরচে তারা অর্জন করেছেন এই চাকরি।
রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ তরুণ-তরুণীরা জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। জেলা পুলিশের কঠোর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদারকির মাধ্যমে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হয়। প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই, শারীরিক মাপ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরীক্ষা শেষে গত ৪ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় মোট ২৩৯ জন চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন।
এরপর রবিবার সকালে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলে ৪৩ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ মোট ৪৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে তারা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সব ধাপ শেষে ২০ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ মোট ২১ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে নিয়োগ বোর্ড।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় ডিশ চ্যানেল, পত্রিকা, মাইকিং ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সচেতন করা হয়। একইসঙ্গে প্রতারক ও দালালদের শরণাপন্ন না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।’
ফলাফল ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন- মোহাম্মদ আতিকুল হক, মোসফেকুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মিজানুর রহমান/রিফাত/