ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আবারও দুর্ভোগের শঙ্কা দেখা দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। অবৈধ স্থাপনা, দখল হওয়া ফুটপাত, নিয়ন্ত্রণহীন তিন চাকার যান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলার কারণে ঈদযাত্রায় ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে ময়মনসিংহের বিভিন্ন অংশে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে প্রশাসনের ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ১৬ মে সন্ধ্যায় ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ হোসেন।
এ সময় ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা অভিযানে বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান স্থগিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা মহাসড়কে টায়ার ও বিভিন্ন বস্তুতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে দাবি-দাওয়া নিয়ে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঈদযাত্রায় ভালুকার সিডস্টোর বাজার, স্কয়ার মাস্টারবাড়ি, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, বৈল, চুরখাই, ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস মোড় ও পাটগুদাম ব্রিজমোড়ে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
চালক ও যাত্রীরা জানান, ময়মনসিংহ ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনার বিপুল সংখ্যক মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করেন। ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরগতি তৈরি হয়। এবারও একই পরিস্থিতির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে।
ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস মোড়ে কথা হয় যাত্রী আসাদুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোও সম্ভব হয় না। মহাসড়কে ছোট যানবাহনের আধিক্য ও অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে। তাই প্রশাসনের প্রস্তুতি উপযুক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে কোনো যানবাহনকে ইচ্ছা মতো থামতে দেওয়া হবে না। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যেসব পয়েন্টে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ‘সেসব জায়গায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাদাপোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।’