কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া শুরু করেছে মানুষ। তবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরিঘাট এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত কাজ চললেও অনেক সংযোগ সড়ক এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে মহাসড়কের বড় অংশে রোড মার্কিং নেই। ফলে রাতে ও বৃষ্টিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই রুট ব্যবহার করে। এতে ঈদে চাপ বাড়ে আরও কয়েক গুণ।
শনিবার (২৩ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধির কারণে নৌরুটের লো ওয়াটার লেভেলের সংযোগ সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নদীর পানি আরও এক থেকে দুই হাত বাড়লে ওই সংযোগ সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ কারণে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় নতুন করে মিড ওয়াটার লেভেলের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪ নম্বর ঘাটের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ৩ নম্বর ঘাটের কাজ এখনো চলমান।
অন্যদিকে, ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মিড ওয়াটার লেভেলের সংযোগ সড়ক তৈরির পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ১ ও ২ নম্বর ঘাট প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফেরিঘাট এলাকার মাঝখানে থাকা লঞ্চঘাট সরিয়ে কিছুটা দূরে কড়ইতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গাবতলীর হাটে গরু নিয়ে যাওয়া ট্রাকচালক সোহেল বলেন, ‘এখন যে সংযোগ সড়ক আছে, সেটা দিয়েই মালামাল নিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়। নতুন যে সড়ক তৈরি হচ্ছে সেটাও খুব শক্তপোক্ত মনে হচ্ছে না। পানি আরও বাড়লে চলাচল অনেক কঠিন হবে।’
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার পান্না লাল নন্দী বলেন, ‘আমাদের লঞ্চঘাট এতদিন দুই ফেরিঘাটের মাঝখানে ছিল। এখন বাধ্য হয়ে কড়ইতলায় নিতে হচ্ছে। সেখানে কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। নতুন ঘাটে যাত্রীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঈদে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য এ নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি ফেরি চলাচল করবে। ঝড় বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি মাথায় রেখে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পন্টুনে সাইড রেলিং দেওয়া হয়েছে। নদীতে ফেরি নষ্ট হলে তা উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ ও ঘাট এলাকায় গাড়ি নষ্ট হলে তা উদ্ধারের জন্য রেকারও প্রস্তুত রাখা হবে।’
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ‘পদ্মায় পানি বাড়ায় ঘাটগুলো নিচু স্তর থেকে উঁচু স্থানে স্থানান্তরের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৪ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক প্রস্তুত হয়েছে ও ৩ নম্বর ঘাটের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন লঞ্চঘাটের কাজও প্রায় শেষ।’
এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। সম্প্রতি সংস্কার করা সড়কের বড় অংশে এখনো দেওয়া হয়নি রোড মার্কিং। মানিকগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশেই নেই সাদা বা হলুদ লেন নির্দেশক দাগ। এতে সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাতে ও বৃষ্টির সময়। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির আলোয় চালকরা লেন বুঝতে পারছেন না। ফলে বাড়ছে বেপরোয়া ওভারটেকিং ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বাসচালক মুরাদ হোসেন বলেন, ‘রাতে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। রোড মার্কিং না থাকায় রাস্তার মাঝখান বোঝা যায় না। আর এখন এই পথে গাড়ির চাপ অনেক বেশি।’ ট্রাকচালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘ভারী যান নিয়ন্ত্রণে রাখতে লেন মার্কিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন অনেক সময় আন্দাজে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সামান্য ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘মহাসড়কে ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএসটি) সংস্কার কাজ শেষ। তবে মহাসড়কের অনেক অংশ এখনো পুরোপুরি সমতল না হওয়ায় রোড মার্কিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে।’