ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফিফা থেকে জাতিসংঘ! ইনফান্তিনোকে নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চমক তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৭ গাজীপুরের আলোচিত নাঈম মাঝি হত্যার রহস্য উদঘাটন নাটোরে টিভির তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন আবাসন খাতের বিকাশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির প্রতিকী মশাল মিছিল প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের ২১ দিনে রেমিট্যান্স এল ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান, স্বস্তিতে মতলবের কৃষকরা বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের টাকা-ডলার চুরি, কারখানার কর্মী গ্রেপ্তার ‘তিস্তা নদী পাগলা হয়া গেইছে, হামার আর কিছু থাকল না’ অপরাধবিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই ফটিকছড়িতে মিলল বিচ্ছিন্ন হাত আকস্মিক বন্যায় জম্মু-কাশ্মিরে ২৫ জনের মৃত্যু ইউপি নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, থাকছে না বিশেষ সুবিধা: মির্জা ফখরুল ভারতে সুড়ঙ্গ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী গাজী নজরুল ইস্যুতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি সাত মাস বেতনহীন রামেক ওসিসির কর্মীরা, কর্মবিরতিতে ব্যাহত জরুরি সেবা ধামরাইয়ে শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ল বসতঘর ডায়মন্ড সিমেন্টের ওমরাহ হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রশ্নফাঁসের জেরে সংসদে অচলাবস্থা, মোদির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নতুন সভাপতি আবু সুফিয়ান রাজশাহীতে হঠাৎ জ্বালানি আতঙ্ক, পাম্পে দীর্ঘ লাইন ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

১৫ বছরে ব্যাংক খাতে লোপাট ৯২ হাজার কোটি টাকা : সিপিডি

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৭ এএম
১৫ বছরে ব্যাংক খাতে লোপাট ৯২ হাজার কোটি টাকা : সিপিডি
ছবি : সংগৃহীত

২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৩-২৪: চলমান সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, জাল কাগজপত্র দিয়ে ঋণ, অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণসহ নানা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকে যে কেলেঙ্কারি বা অনিয়মগুলো হয়, সেগুলো অফিসিয়াল সূত্রে পাওয়া যায় না। সেগুলো সংবাদমাধ্যমে আসে। গণমাধ্যমকর্মীরা সেগুলো হয়তো অফিসিয়াল সূত্রেই আনেন। 

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এগুলো কম্পাইল করে ২০০৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত গণমাধ্যমে ২৪টি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এসব ঘটনায় ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিশাল এ অর্থ দিয়ে কী হতে পারে তা আপনারা হিসাব করতে পারেন। আমাদের রাজস্ব ঘাটতি কত সেটা আপনারা হিসাব করতে পারেন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে কত ব্যয় করছি। এই পরিমাণ দিয়ে আমরা কী করতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, এই পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে, অপচয় হচ্ছে। ব্যাংকে যে টাকা সেটা জনগণের টাকা। সেটা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা চিন্তার বিষয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাতে নিয়মকানুন বাস্তবায়ন ও সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জুলাইয়ের ২১ দিনে রেমিট্যান্স এল ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
জুলাইয়ের ২১ দিনে রেমিট্যান্স এল ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। দেশিয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক দিনেই প্রবাসী আয় এসেছে ৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশিয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে ১৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

রিফাত/

রাজবাড়ীতে সবজি ও মাছের বাজারে আগুন

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
রাজবাড়ীতে সবজি ও মাছের বাজারে আগুন
ঊর্ধ্বমুখী সবজি ও মাছের বাজার, রাজবাড়ী/ ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি ও ইলিশসহ সাধারণ মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

কয়েকদিন আগেও দেখা যায়, ঢেঁড়স ১৫-২০ টাকা কেজি ছিলো এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে।

একইভাবে মিষ্টি কুমড়ার দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা কেজি। কচুরমুখী ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কাকরোল ৩০-৪০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। ধুন্দল ২০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৭০ টাকা, পটল ২৫-৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মাঝারি আকারের একটি লাউ, যা আগে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়। বাজারে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে শুধু পেঁপেই পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে।

চাষের পাঙ্গাস, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে মাছ এখন অনেক পরিবারের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

বাজার করতে আসা রাইহান শেখ বলেন,‘আগে ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে পরিবারের জন্য কয়েক দিনের সবজি ও কিছু মাছ কিনে বাড়ি ফেরা যেত। এখন ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে শুধু কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। মাছ কেনার সুযোগই থাকে না। সংসারের খরচ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এভাবে বাজার করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনের সবজি না কিনে কম দামের যা পাওয়া যায়, তাই নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, ইলিশ এখন গরিব মানুষের স্বপ্নের মাছ হয়ে গেছে। এক কেজি দূরের কথা, ছোট ইলিশ কেনারও সামর্থ্য নেই। শুধু ইলিশ নয়, পাঙ্গাস মাছের দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। আগে সপ্তাহে এক-দুদিন মাছ কিনতাম, এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। 

সবজি বিক্রেতা রাজু মণ্ডল বলেন, আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আড়ত থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা বাজারে এসে আমাদের ওপর রাগারাগি করেন, কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। 

আরেক ব্যবসায়ী ইমান আলী বলেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে সবজি নষ্ট হয়েছে এবং আড়তে পর্যাপ্ত মাল আসছে না। এখন বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। 

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে সাধারণত দেশে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। এ সময় অনেক কৃষক সবজি চাষ কম করেন। আবার যেসব জমিতে সবজি আবাদ করা হয়, অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে গাছ মারা যায় বা ফলন নষ্ট হয়। ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যায়। এটি মৌসুমি একটি পরিস্থিতি। 

বর্তমানে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চি‌নি আতপ চালর দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষাকালে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সবজির দাম বাড়লেও যদি বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে। আর সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সীমিত আয়ের মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
 

সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/ 

হিলিতে লাফিয়ে বাড়ছে দেশি পেঁয়াজের দাম

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
হিলিতে লাফিয়ে বাড়ছে দেশি পেঁয়াজের দাম
পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী/ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। 

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায় পেঁয়াজের সরবরাহ কম। আমদানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বেচাকেনা কমে গিয়েছে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন যে পরিমান পেঁয়াজ বিক্রি হতো তার অর্ধেকে নেমে এসেছে।

পেঁয়াজ কিনতে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে পেঁয়াজের বাজার সহনীয় পর্যায় ছিলো। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিলো। তবে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর দাবি তাদের।

আরেক ক্রেতা মালেক বলেন, তরকারির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় কিছুটা বিপর্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কয়েক দিন আগেও তরি-তরকারি সাধারন ক্রেতাদের হাতের নাগামের মধ্যে থাকলেও হঠাৎ করে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিপাকে সবাই। চাইলেও চাহিদা মতো বাজার করা যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগে পেঁয়াজের বাজার ছিলো প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা মধ্যে বর্তমানে  সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দামে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাকিল হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পেয়াজ খেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাজারে সরবাহের ঘটতি দেখা দিয়েছে। ফলে দাম বেড়েছে।  সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে জানান তিনি।

পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা আতোয়ার গনি ওসমান জানান, পেঁয়াজ উৎপাদিত এলাকা বন্যার কারণে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পেঁয়াজের আমদানি কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের আমাদনি বাড়লে দাম করে আসবে বলে মনের করেন ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, দেশে বন্যার কারণে পাইকারী বাজার গুলোতে দেশি পেঁয়াজ সরবরাহ কম ও আমদানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা ।


কুদ্দুস খান/খাদিজা রুমি/

দেশে স্বর্ণের দাম বড় লাফ

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ এএম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
দেশে স্বর্ণের দাম বড় লাফ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সংগঠন।

বাজুস জানায়, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ দামই কার্যকর থাকবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, স্বর্ণালঙ্কারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণে গয়নার ডিজাইনভেদে মজুরি যুক্ত হবে। এ ছাড়া বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে না।

অন্তরা/

আমানত ফেরতে রোডম্যাপের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ এএম
আমানত ফেরতে রোডম্যাপের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে ব্যাংকটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে, অন্যদিকে আমানত ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের জমা টাকা ফেরতের দাবিতে তারা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
এরই ধারাবাহিকতায় আমানতের ওপর ঘোষিত ‘হেয়ারকাট’ব্যবস্থা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাতিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীন একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস, এমটিডিআরসহ সব ধরনের আমানত মুনাফাসহ ফেরতের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়মুখী লংমার্চ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন। বিক্ষোভ শেষে আমানতকারীরা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

সঞ্চয়কারীরা অভিযোগ করেন, বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ব্যাংকে জমা রেখেও আজ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ সঞ্চয়কারীদের। এ অবস্থায় আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন সরকারের ঘোষিত আমানত ‘হেয়ারকাট’ নীতির তীব্র বিরোধিতা করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির বক্তব্য, আমানতকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় থেকে কোনো ধরনের কর্তন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে শতভাগ আমানত দ্রুত ফেরত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকদের একে একে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রশাসকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানায়, পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমানতকারীদের জমা অর্থ প্রতিশ্রুত মুনাফাসহ ফেরত দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রশাসকদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদে আরও অভিজ্ঞ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। 

ইতোমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, পুনর্গঠন কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে গতকাল আমানতকারীরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় হেয়ারকাট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি আমানতের মুনাফা পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত প্রস্তাবও বাতিল করে অন্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমানতকারীরা দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে প্রভিশন করা অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, তাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন করবেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন প্রায় ৭৬ লাখ গ্রাহক ও তাদের প্রায় তিন কোটি পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি হেয়ারকাট হিসেবে সংরক্ষিত অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন।