ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

নাজমিনের খাবার যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪, ১১:২২ এএম
নাজমিনের খাবার যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে
নাজমিন শিলা নিজের বানানো খাবার অনলাইনে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। ছবি : খবরের কাগজ

সাংসারিক কাজের পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চেষ্টা করছেন নাজমিন শিলা। নিজের বানানো খাবার বিক্রি করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। নিজ জেলার বাইরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার বাড়ির তৈরি খাবার ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। স্বামী আহসান আলমের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় সংসারে বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে ফেসবুকে ‘স্বপ্ন সিঁড়ি’ নামে একটি পেজ খুলে খাবারের অর্ডার নিয়ে থাকেন। এখান থেকে নাজমিন প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার খাবার বিক্রি করছেন। সাংসারিক আয়ে স্বামীর সঙ্গে অংশীদার হচ্ছেন। 

নাজমিন শিলা চুয়াডাঙ্গা শহরের সদর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের হালুয়া, মাংসের আচার, নারকেলের নাড়ু তৈরি করছেন। এ ছাড়া তার তৈরি খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে, সিরিঞ্জ পিঠা, ছোলার ডালের বরফি, হালুয়া, পিঠা, পায়েস, রসুনের আচার, আমের আচারসহ বিভিন্ন ধরনের আচার, ফ্রোজেন করা সমুচা, চিকেন রোল, ভেজিটেবল রোল, চিকেন মোমো, পটেটো চিপস।

নাজমিন শিলা বলেন, ‘ইউটিউবে খাবার বানানোর ভিডিও দেখে আগ্রহ হয়। প্রথমে খাবার বানিয়ে অনলাইনে পেজ খুলে বিক্রি শুরু করি। ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রশংসা দেখে আমার মনোবল এবং কাজ করার আগ্রহ বেড়ে যায়। এরপর ১৫ থেকে ২০ পদের খাবার বানিয়ে অর্ডার নিতে শুরু করি। এখন গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার অর্ডার পাচ্ছি। নারকেলের নাড়ু, মাংসের আচার ও ছোলার হালুয়ার চাহিদা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্ডারের খাবার নিখুঁতভাবে তৈরি করি এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারি দিই। এতে আমার পরিচিতি বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার এবং ব্যবসার প্রসার আরও বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা অর্ডার করেন। তাদের সঠিক সময়ের মধ্যেই কুরিয়ারে খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আশপাশে কেউ অর্ডার করলে আমার স্বামী নিজেই ডেলিভারি দিয়ে আসেন। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি নারীরাও যে স্বাবলম্বী হতে পারেন তা আমি দেখিয়ে দিয়েছি।’

নাজমিনের স্বামী আহসান আলম বলেন, ‘সংসারের যাবতীয় কাজ আমার স্ত্রী একাই করে। সংসার চালানোর ক্ষেত্রেও সে সহযোগিতা করছে। তাই আমি বলতে চাই অসচ্ছল নারী যারা রয়েছেন তারা হোমমেড খাবার তৈরি করে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন।’ 

চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিক বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়ছে। দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নারীদের এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশে বেকারত্ব দূর হবে। 

বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ দরে পেঁয়াজ-আলু বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৭ এএম
বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ দরে পেঁয়াজ-আলু বিক্রি
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের আগে ৫৫-৬০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও কমছে না দাম। গত বছরের এই সময়ে পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা কেজি ছিল। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭৫-১১৬ শতাংশ। বিক্রেতারা বলছেন, দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। একই দশা আলুর। গত বছরের এ সময়ে ২৮-৩০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫০-৫৫ টাকায় ঠেকেছে। বছরের ব্যবধানে ৮০-৮৩ শতাংশ বেড়েছে। ঈদের পর মুরগি, গরুর মাংসের দাম কমেছে। তবে ডিমের ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা হয়ে গেছে। ঈদের পর বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। সরকার চালের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলেও কমেনি এক পয়সাও। 

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর টাউন হল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের পর সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দামও বাড়ছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে ৬৫-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য যাচাই করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির ওয়েবসাইটেও দেখা গেছে, গতকাল ৬৫-৭০ কেজি পেঁয়াজ। আলুর কেজি ছিল ২৮-৩০ টাকা। বর্তমানে ভরা মৌসুমেও সেই আলু ৫০-৫৫ টাকা কেজি। সরকার বুধবার বোতলজাত তেলের লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করলেও আগের দরেই ১৬৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মিলগেট থেকে নতুন রেটের তেল না আসা পর্যন্ত এই দরেই বিক্রি হবে। আগের মতোই আদার কেজি ২০০-২২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ২০০-২২০ টাকা ও দেশি রসুন ১৩০-১৫০ টাকা কেজি।

এক পয়সাও কমেনি চালের দাম

সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কমেনি চালের দাম। রমজান মাসে কেজিতে ৫-৬ টাকা বাড়ার পর আর কমেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২১ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চালের বস্তায় জাত ও মূল্যসহ ৭ নির্দেশনা দেওয়া হয়; যা ১৪ এপ্রিল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, কোনো দোকানে নতুন বস্তার চাল আসেনি। কারওয়ান বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির মালিক মাঈন উদ্দিন বলেন, আগের বস্তাতেই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো দাম কমেনি। প্রতি কেজি নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৮০ টাকা, মিনিকেট ৭২-৭৫ টাকা, আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজি। অন্য খুচরা চাল বিক্রেতারাও বলছেন, কমেনি চালের দাম। নামিদামি ভালো মানের পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি। 

গরু ও খাসির মাংসের বাজারে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। যা ঈদে ছিল ৮০০-৮২০ টাকা পর্যন্ত। ঈদের সময় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া খাসির মাংস বর্তমানে প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা। গতকাল ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৮০ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। 

ঈদের পর সবজির দাম কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। আগে কম দামে বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে টমেটোর কেজি ৫০-৭০ টাকা, করলা ৬০-৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০-৬০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০ টাকা, শসা ৪০-৬০ টাকা, শজনে ডাঁটা ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, পটোল ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০-১৪০ টাকা।

চট্টগ্রামে ঈদের পরই ডিমের দাম বেড়েছে দুই দফা 

চাহিদা কম থাকা ও ক্রেতাসংকটে রোজার মাসে নিম্নমুখী ছিল ডিমের বাজার। কিন্তু ঈদ শেষ হতেই এখন পর্যন্ত পণ্যটিতে দুই দফা দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মার্চ মাসের শুরুতে পাইকারিতে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হয় ৯ টাকা ৩০ পয়সায়। পরবর্তী সময়ে ক্রেতাসংকটে রোজার মাসে দাম আরও কমে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হয় ৮ টাকা ৬০ পয়সায়। গত ১১ এপ্রিল ঈদ উদযাপনের পরই বাড়তে থাকে পণ্যটির দাম। গত ১৫ এপ্রিল প্রতি পিস ডিম বিক্রি হয় ৯ টাকা ৪০ পয়সায়। বর্তমানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা ৫০ পয়সায়। 

এদিকে ঈদের আগে ক্রেতাসংকটে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে নিম্নমুখী ছিল পেঁয়াজের বাজার। কিন্তু ঈদ শেষ হতেই আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি হালি পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

পতনের বৃত্তে বন্দি পুঁজিবাজার

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৪ পিএম
পতনের বৃত্তে বন্দি পুঁজিবাজার
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ঈদের পর টানা দরপতনের মধ্যে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল বুধবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে সবকয়টি মূল্যসূচক। এর মাধ্যমে ঈদের পর লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই সূচক কমল। এ তিন কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স  ১০০ কমেছে। 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যাংকে  টাকা রাখছেন। পাশাপাশি  ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে পুঁজিবাজারে এমন দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সুদের হার বাড়লে পুঁজিবাজারে এর  প্রভাব পড়ে এটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে আবার নতুন বৈশ্বিক সংকটের কারণে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আশা করা যায় শিগগিরিই এ আতঙ্ক কেটে যাবে। 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল পাল্টা হামলা করলে নতুন করে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বেধে গেলে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল সরবরাহ আটকে যেতে পারে। ফলে সৃষ্টি হবে নতুন সংকট।

তারা আরও বলছেন, টনা দরপতন থেকে দেশের পুঁজিবাজার যখন বেরিয়ে আসার আভাস দিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে আবার নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করল। 

এর আগে দেশের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন এক লাখ কোটি টাকার ওপরে কমে যায়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ফলে ঈদের পর পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ইসরায়েলে হামলা করে ইরান। দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক শ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। ইসরায়েলের মাটিতে এটিই প্রথমবার ইরানের সরাসরি হামলার ঘটনা। ইরান এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’ বা ‘সত্য প্রতিশ্রুতির অভিযান’।

এর আগে দেশের পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে পড়লে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে যায় এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। তবে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগে টানা তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ফলে ঈদের পর পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের।

কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে আবার পুঁজিবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম দুই কার্যদিবস দরপতনের পর বুধবার লেনদেন শুরুর দিকে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে।

তবে লেনদেনের শেষদিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায়। এতে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে একদিকে দাম কমার তালিকা বড় হয়, অন্যদিকে সবকয়টি মূল্যসূচক কমে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

গতকাল বুধবার লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৬টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২২২ প্রতিষ্ঠানের। আর ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে নেমে গেছে।

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সবকয়টি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৮২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বেশি অবদান রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২৭ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গোল্ডেন সন।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ফু-ওয়াং ফুড, ফু-ওয়াং সিরামিকস, বেস্ট হোল্ডিং, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং প্যরামাউন্ট টেক্সটাইল।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৬টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

জয়পুরহাটে কমেছে সবজির দাম

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৮ পিএম
জয়পুরহাটে কমেছে সবজির দাম
জয়পুরহাটে সরবরাহ বেশি থাকায় সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। ছবি: খবরের কাগজ

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটের হাটবাজারগুলোতে সরবরাহ বেশি থাকায় বেগুন, শসা, করলাসহ অন্যান্য সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে সবজিগুলোর দাম এখন এতই কম যে বিক্রি করে হাটের খাজনা ও ভ্যান ভাড়া উঠছে না কৃষকদের। ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

জেলা শহরের নতুনহাট সবজির পাইকারি বাজারে নিজেদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের দাম কিছুটা পাওয়া গেলেও বেগুন, শসা, করলার বাজার দর এখন খুবই নিম্নমুখী। কথা হয় সবজি বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার ধারকী চৌধুরীপাড়ার মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ১৫ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছেন। নতুনহাটে এক মণ শসা বিক্রি করেন ১০০ টাকায়। কেজি হিসাবে যার দাম পড়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা। 

হাটে শসার প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা মণ পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সেই শসা বিক্রি হচ্ছে এখন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি। দোগাছী ইউনিয়নের চকভারুনিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘শসা বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি, পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। কিন্ত এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত শসা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়।’

বর্তমানে শসা বাজারে নিয়ে গেলে ভ্যান ভাড়াও উঠছে না বলে মন্তব্য করেন কৃষক আবদুল লতিফ। পাঁচবিবি উপজেলার কাঁশড়া গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে আসা কৃষক দিলিপ কুমার জানান, এবার ২৫ শতাংশ জমিতে উন্নতমানের নবাব জাতের করলা চাষ করেছেন। সেই করলা ৫০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করছেন। কেজি হিসাবে যার দাম পড়ছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ খুচরা বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে সেই করলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। 

সদর উপজেলার চকমোহন গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এক মণ বেগুন পাইকারি বিক্রি করেন ৮০ টাকা। যা কেজি হিসাবে পড়ে ২ টাকা। বাড়ি থেকে হাটে আসার জন্য ৬০ টাকা ভ্যান ভাড়া এবং হাটের খাজনা দিতে হয়েছে ২০ টাকা। খুচরা বাজারে এই বেগুন এখন ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। নিজের শ্রমের কোনো দামই নেই বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে পটোলও প্রতি মণ ৫৬০ টাকা বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুনছেন বলে জানান বিষ্ণুপুর গ্রামের পটোল চাষি এনামুল হক। গতকাল বুধবার সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০ টাকা কেজির বেগুন ২০ টাকা, ১০০ টাকা কেজির পটোল ৬০ টাকা, ৭০ টাকা কেজির করলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, প্রতিটি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ৬০ টাকা কেজি গাজর ৩০ টাকা, ৮০ টাকার টমেটো ২০ টাকা, ৭০ টাকার ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ৮০ টাকার বরবটি ৬০ টাকা, ৫০ টাকার পেঁপে ৪০ টাকা, ৮০ টাকার কাঁকরোল ৬০ টাকা, ৭০ টাকার লতিরাজ কচু ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ৪০ টাকার মিষ্টি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ১০০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সবজির দাম কমছে বলে জানান বিক্রেতারা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে ২০২৩-২৪ রবি মৌসুমে শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি শেষ করেন জেলার কৃষকরা। জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে আগাম জাতের সবজিও রয়েছে। এতে সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। জয়পুরহাট জেলার হাটবাজারগুলোতে করলা, শসা ও বেগুনের অতিরিক্ত সরবরাহ থাকার কারণে দাম কমেছে বলে মন্তব্য করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাহেলা পারভীন। সূত্র: বাসস

পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সফল ঠাকুরগাঁওয়ের মোয়াজ্জেম

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৩ পিএম
পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সফল ঠাকুরগাঁওয়ের মোয়াজ্জেম
মোয়াজ্জেম হোসেনের খেতে হাতের স্পর্শেই কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজবীজের পরাগায়ন হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

কালো সোনা নামে পরিচিত পেঁয়াজ বীজ চাষ করে লাখপতি ঠাকুরগাঁওয়ের মোয়াজ্জেম হোসেন। এক সময়ের বেকার  মোয়াজ্জেম এখন হয়েছেন অন্যের অনুপ্রেরণা। তার উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজের চাহিদা থাকায় সেটি সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন গত বছর ৩৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে লাভ করেছিলেন প্রায় ১০ লাখ টাকা। এ বছর চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে  ৪৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন। আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও এ বছর ১৫ লাখ টাকা মুনাফার আশা করছেন তিনি।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমি একজন প্রান্তিক কৃষক। আমার বাবা কৃষি কাজ করতেন। কৃষি কাজ লাভজনক হওয়ায় আমি কৃষি কাজে ঝুঁকেছি। আমরা সবাই চাকরির পেছনে ছুটি। কৃষিতেও যে ভালো কিছু করা যায় বা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে যে ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায় আমি তার উদাহরণ। এক সময় আমার কিছুই ছিল না। পেঁয়াজের বীজ চাষ করে এখন আমি লাখপতি। নিজের টাকায় জমি কিনেছি। ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমি এখন সচ্ছল।’ 

ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন জেলার অন্য  কৃষকরাও।  উন্নতমানের বীজ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে তার উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজের চাহিদা বাড়ছে। উপকারী পোকা কমে যাওয়ায় হাতের স্পর্শেই কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন ঘটানোর জন্য তার খেতে কাজ করছেন এলাকার অনেকেই। এতে করে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। 

মোয়াজ্জেমের জমিতে কাজ করা শ্রমিক ফখরুল আলম বলেন, ‘মোয়াজ্জেমের জমিতে হাতের স্পর্শে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন ঘটানোর কাজ করি। আগে বেকার ছিলাম এখন আমার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার খুব ভালোভাবে চলে যায়। শুধু আমি নয় এখানে আমার মতো আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।’ 

কলেজছাত্রী হাফিসা বলেন, ‘আমি পড়াশোনা করার পাশাপাশি পেঁয়াজ বীজের খেতে কাজ করি। যা আয় হয় তা দিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারেও কিছু দিতে পারি।’ 

মোয়াজ্জেমের পেঁয়াজের বীজের খেত দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেক কৃষক বীজ আবাদ শুরু করেছেন। কৃষক মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমার খেতে আমি অন্য ফসল আবাদ করতাম। মোয়াজ্জেম ভাইয়ের পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা দেখে এবং লাভের কথা শুনে তার পরামর্শে আমি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছি। ভালো ফলন পেয়েছি; আশা করছি ভালো দাম পাব। 

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাম্মৎ শামীমা নাজনিন জানান, ভালোমানের পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ১০২ মেট্রিক টন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদিত হবে বলে আশা করছি। যার মূল্য প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। 

এ বছর  জেলায় ১১৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। এ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে পেঁয়াজের যে ঘাটতি রয়েছে সে ঘাটতি  পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগের দরই আছে চালের বাজারে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৯ পিএম
আগের দরই আছে চালের বাজারে
চট্টগ্রামে একমাস আগেও চালের দাম চড়া থাকলেও বর্তমানে তা অপরিবর্তিত রয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে একমাস আগে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছিল। রোজার মাসে চালের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকা ও সামনে বোরো মৌসুম থাকায় নতুন করে আর পণ্যটির দাম বাড়েনি। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীতে আগের বাড়তি দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে আমনের মৌসুমে চালের দাম কমার আশা দিলেও সে কথা রাখতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। যদিও বরাবরের মতো এবারও বোরো মৌসুমে বস্তাপ্রতি চালে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমার আশ্বাস দিচ্ছেন চট্টগ্রামের চাল ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীরা চাইলেই ভরা মৌসুমে চালের দাম ক্রেতার নাগালে রাখা সম্ভব বলে মনে করছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। 

গত জানুয়ারি মাসে আমনের ভরা মৌসুমে বস্তাপ্রতি চালে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আমনে মৌসুম শেষ ও ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে বস্তাপ্রতি চালে নতুন করে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। 

সে সময় মোটা সেদ্ধ চালের বস্তায় নতুন করে ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকা, স্বর্ণা চালে ১৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা, নুরজাহান চালে ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা, মিনিকেট চালে ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকা, জিরাশাইল সেদ্ধ চালে ১৬০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৪৬০ টাকা ও নাজিরশাইল সেদ্ধ চালের বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অপরদিকে মিনিকেট আতপ চালে ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৮৫০ টাকা, পাইজামে ১৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকা, বেতি ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭০০ টাকা ও কাটারি আতপ চাল ২০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইজাম চাল বিক্রি হয়েছে বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৬০০ টাকায়। বর্তমানে সেই বাড়তি দামটাই স্থির রয়েছে চট্টগ্রামে চালের পাইকারি বাজারে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাহাড়তলীর এক চাল ব্যবসায়ী খবরের কাগজকে বলেন, ‘রোজায় চালের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। তাই চালের বাজারে নতুন করে আর দাম বাড়েনি। সামনে বোরোর মৌসুম আসছে। ভরা মৌসুমে চালের দাম কমার সম্ভাবনা আছে। তবে সরকার ছয় ধরনের তথ্য দিয়ে মিলারদের চাল বাজারজাত করতে নির্দেশ দিয়েছে। মিলাররা সেটা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। এ নিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।’ 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘চালের বাজার আগের বাড়তি দরেই স্থির রয়েছে। নতুন করে আর দাম বাড়েনি। তার ওপর সামনে বোরো মৌসুম আসছে। কৃষকরা সামনে ধান কাটা শুরু করবেন। তখন বাজারে চালের সরবরাহ আরও বাড়বে, দামটা কমতির দিকে থাকবে। ভরা মৌসুমে সব ধরনের চালে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি দুসপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কমে আসবে।’ 

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ভরা আমনের মৌসুমে ক্রেতারা ন্যায্যদামে চাল কিনতে পারেনি। ওই মৌসুম শেষ হতে না হতেই সরকার ধান সংগ্রহ এবং কৃষকের ধানের দাম বাড়ানোর অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দরে চাল বিক্রির চিত্র আমরা দেখেছি। সামনে বোরো মৌসুম। বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কাজেই এই সময়টাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যন্ত সমানভাবে নজরদারি চালাতে হবে। সরকার চালের বস্তায় ছয় ধরনের তথ্য থাকার বিষয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেটা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না দেখতে হবে। তাহলে কেউ চালের দামে কারসাজি করার সুযোগ আর পাবে না।’

চালের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বস্তার ওপর ছয়টি তথ্য লেখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। গত ২১ ফেব্রুয়ারি এক পরিপত্র জারি করে সরকার। 

সরকারের নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ধান বা চালের জাতের নাম, উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, নিট ওজন এবং মিলগেট মূল্যের উল্লেখ। তবে সব মেনে নিলেও উৎপাদনের তারিখ ও মিলগেট মূল্যে আপত্তি রয়েছে চট্টগ্রামের মিলারদের। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত ১৪ এপ্রিল থেকে আমরা চালের বাজারে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছি। সেখানে দেখেছি বস্তার ওপর তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সরকারের যে নির্দেশনা ছিল মিলাররা তা এখনো বাস্তবায়ন করেননি। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নগরের বিভিন্ন বাজার তদারকি করছি। কোনো অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ পেলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’