ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

মাংস রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
মাংস রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ
মাংস (সংগৃহীত ফটো)

দেশে বিপুল পরিমাণ গরু, ছাগল উৎপাদন হওয়ায় মাংসে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ উৎপাদন হলেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রপ্তানি চুক্তি না থাকা এবং আন্তর্জাতিক মানের কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট না থাকায় গবাদিপশুর মাংস (রেড মিট) রপ্তানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না না বাংলাদেশ। আর ভালো মানের মাংস থাকার পরেও প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার রপ্তানির বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

নির্দিষ্ট রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে মাংসের জন্য হালাল সার্টিফিকেশন নীতি প্রণয়ন রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের দাবির সমাধান করেছে। অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত রপ্তানি-নির্ভর হালাল পণ্যের বিপণনে নিযুক্ত কোম্পানিগুলোকে এখন এনওসি ও সংশ্লিষ্ট লোগো প্রদর্শন করতে হবে। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে এনওসি প্রদানের জন্য মনোনীত কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হালাল পণ্যের প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাংলাদেশের বার্ষিক রেড মিট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার টন। এর মধ্যে কোরবানির ঈদে ৪০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয়। ঈদে ৩০-৪০ শতাংশ মাংস সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট বলে জানান সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ। মাংসের বেশির ভাগই আসে গ্রামীণ এলাকায় পালন করা গবাদিপশু থেকে। মাংস উৎপাদনের জন্য উদ্বৃত্ত গবাদিপশু জবাই করা হয় না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে হিমায়িত মাংস হিসেবে বিপুল পরিমাণ মাংস রপ্তানির সুযোগ হাতছাড়া হয়।

বেঙ্গল মিটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আল-আমিন খবরের কাগজকে বলেন, হিমায়িত গবাদিপশুর মাংস রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তি নেই।

তিনি বলেন, দেশে বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (ওআইই) থেকেও ছাড়পত্রের অভাব রয়েছে। যেটি প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়কারী, সমর্থন এবং প্রচারকারী আন্তঃসরকারি সংস্থা। যার অনুমোদন মাংস রপ্তানির জন্য বাধ্যতামূলক। বেশির ভাগ মাংস রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবং গরুর ব্যবসায় সিন্ডিকেট মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপের কারণে মাংস উৎপাদন ব্যয়বহুল।

তিনি বলেন, খামার থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি পশু বিক্রি করা হবে এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা যেতে পারে। দেশের মাংস রপ্তানির বাজারে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিনই আমরা বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে চাহিদা পাই। কিন্তু কোনো জিটুজি চুক্তি ও ওআইই সার্টিফিকেট না থাকায় আমরা পণ্য সরবরাহ করতে পারছি না। আরেকটি বড় সমস্যা হলো প্রতিবেশী দেশগুলো যে দামে মাংস রপ্তানি করে সেই দামে আমরা বিক্রি করতে পারি না। কারণ আমাদের উৎপাদন খরচ বেশি। ফলে দামের প্রতিযোগিতায় দেশের রপ্তানিকারকরা পিছিয়ে পড়ছে।

ভারত ও পাকিস্তানে প্রতি কেজি লাল মাংসের রপ্তানি মূল্য প্রায় ৪ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার, যা ৫২০ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশে প্রতি কেজি মাংস (গরুর মাংস) বিক্রি হয় ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। বাংলাদেশে এক কেজি মাটনের দাম ১১০০ টাকা, পাকিস্তানে ৪৪৩ টাকা।

ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের গবাদিপশুর খাদ্যের দাম এবং পরিবহন খরচ অনেক বেশি, অথচ ব্যবসায় অনেক মধ্যস্বত্বভোগী আছে যারা অযথা বিভিন্ন স্তরে দাম বাড়ায়।’

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মহাব্যবস্থাপক প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ শরীফ আহমেদ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন লাল মাংস রপ্তানিতে বাংলাদেশ যেসব বাধার সম্মুখীন হচ্ছে তা দূর করতে সরকারের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিদেশ থেকে মহিষের মাংস আমদানি বন্ধেরও পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলেন, পশু লালন-পালন ও পণ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করলে মাংস, হাড়, শিং ও চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের মতো দেশ থেকে মাংস আমদানি করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মানসম্পন্ন ও হালাল মাংস উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশের মাংসের চাহিদা ব্যাপক।

বেঙ্গল মিট দেশের একমাত্র গরুর মাংস রপ্তানিকারক। প্রতিষ্ঠার পর কোম্পানিটি দুবাই, কুয়েত, মালদ্বীপ এবং বাহরাইনে রপ্তানি বাজার খুলে দেয়।

গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট ২০২২-২৩ অনুযায়ী, হালাল খাদ্যের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ নাগাদ ৫ ট্রিলিওন ছারিয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলো ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের বাজারে দিন কে দিন বাড়ছে। হালাল খাদ্যের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারের বার্ষিক বৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশ, যার মূল্য আনুমানিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। ব্রিটেন ও আমেরিকায় মুসলিম ও অমুসলিমদের উভয়ের জন্য হালাল মাংসের বাজার ক্রমবর্ধমান। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি খুবই কম।

গবাদিপশু জবাইয়ের স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনা করে হালাল মাংসের বাজার দ্রুত বাড়ছে, যা শুধু মুসলিম ভোক্তাদের চাহিদার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমন পরিস্থিতিতে হালাল মাংস বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে নতুন পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোয় পাঠানোর জন্যও প্রয়োজনীয় কাঠামো উন্নয়ন সম্ভব হয়নি বলে জানান ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল
বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানার বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনিসুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে দূর্বল ব্যাংকের এমডি-ডিএমডি ভালো ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন না। এরকম অবস্থার মধ্যে বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানো হলো।

গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আগের দিন (সোমবার) সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আনিসুর রহমান ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ তার প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন। 

তিনি ১৯৮৮ সালে বিআরসির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, অঞ্চল প্রধান, সার্কেল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

অমিয়/

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০১ পিএম
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশে। যা গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পতন হয়েছে। আগের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও প্রবৃদ্ধি হারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থিরমূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৭৮ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সে তুলনায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ি, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প ও সেবার সব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। শুধুমাত্র কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

অপরদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতে কমেছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

শিল্প খাতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ১০ দশমিক ০০ শতাংশ। এবার কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে সেবা খতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবারের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে আইএএমএফ-এর পরামর্শ মোতাবেক বিবিএস ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি তিন মাস পর পর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জাহাঙ্গীর/ইসরাত/অমিয়/

এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম
এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

এবার বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইউসিবি ব্যাংকের একজন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে আজ বৈঠক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বৈঠকে ইউসিবি কর্তৃপক্ষকে একীভূত হওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংকের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একীভূতকরণ ইস্যুতে এর আগে দুই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিমালা জারি করেছে। যেখানে স্বেচ্ছায় ও বাধ্যতামূলক- এই দুইভাবে দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ হওয়ার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। অন্যদিকে ইউসিবির আর্থিক ভিত্তি সবল। 

এর আগে সোমবার (৮ এপ্রিল) বেসরকারি সিটি ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারি দুটি ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে এমওইউ সই করেছে। 

সালমান/

রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা ঘোষণা করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। রোজার মাসে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম ছাড়িয়েছে। প্রভাব পড়েছে মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতিতে। এ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৬৭। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৩ সালের মার্চে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের মার্চে তা ১০৯ টাকা ৮১ পয়সায় কিনতে হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চে এসব পণ্যের  মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৩।

চলতি অর্থবছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার। তবে সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু তাতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮, যেখানে শহরের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮, গ্রামে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও পূর্বাভাস দিয়েছে

তিন কারণে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বহাল থাকবে। কারণ তিনটি হলো- ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি সংকোচন ও জ্বালানি সংকট বহাল। 

জাহাঙ্গীর/সালমান/

দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

দুর্বল ব্যাংকগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শিগগিরই এসব ব্যাংক একীভূত করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় কোনো ইসলামি ব্যাংকের নাম নেই।

সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়েছে ধুঁকতে থাকা পদ্মা ব্যাংক। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ১০ বছরের মাথায় দেশের চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ডুবতে থাকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের মতো আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হবে খুব শিগগিরই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে বিভিন্ন সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। 

তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো- পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বিডিবিএল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংক।

তবে আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাংকের শেয়ার ওরিয়ন গ্রুপ কিনে নেওয়ার বিষয়ে কথা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

অন্যদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে।  তবে এসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

গত মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে পদ্মা ব্যাংক। এখন একীভূত হওয়ার প্রকৃয়ায় রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংক।

এরমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এবং বেসিক ব্যাংক সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে।

তাছাড়া তালিকায় থাকা অন্য ব্যাংকগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একীভূত হওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে কেউ একীভূত না হলে আগামী বছর মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এগুলোকে মিলিয়ে দেওয়া হবে।

গত ৪ এপ্রিল স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ‘একীভূতকরণের পর যে ব্যাংক বিলীন হয়ে যাবে, সেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছরের আগে ছাঁটাই করা যাবে না। তবে ওই ব্যাংকের বড় কর্মকর্তারা (এমডি, ডিএমডি) থাকতে পারবেন না।’

অমিয়/