২০২৩ সালের শুরু থেকে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আলী। এর আগে তিনি ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মোহাম্মদ আলী ২০০৮ সালে মহাব্যবস্থাপক ও চিফ টেকনিক্যাল অফিসার পদে পূবালী ব্যাংকে যোগদান করেন। পড়ালেখা করেছেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। পূবালী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংক খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি তিনি খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মৃত্তিকা সাহা
খবরের কাগজ: ব্যাংক খাত কয়েক বছর ধরে ধুঁকছে। প্রাথমিকভাবে এর কারণ কী বলে মনে করেন?
মোহাম্মদ আলী: ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরেই সুশাসনের ঘাটতি দেখা গেছে। ২০২২-২৩ সালে এটা চরম আকার ধারণ করে। যার প্রতিক্রিয়ায় কিছু ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত সেগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পুরো খাতই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই সময়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। ডলারসংকটে ভুগছে ব্যাংকগুলো। সেই সঙ্গে রিজার্ভেও চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়েছেন। তার পর ব্যাংক খাতে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ডলারসংকটও ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করেছে। রিজার্ভেও স্বস্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্য এবং লেনদেন ভারসাম্যেও ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে একটা সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
খবরের কাগজ: হঠাৎ করে ডলারসংকট এবং রিজার্ভে চাপ তৈরির কারণ কী?
মোহাম্মদ আলী: অনেক কারণেই এই সংকট বা চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-পরবর্তী আর্থিক পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ডেফার (বিলম্বে ঋণ পরিশোধের সুবিধা) নিয়েছেন। কেউ নিয়েছেন এক বছরের জন্য, আবার অনেকে নিয়েছেন দুই বছরের জন্য। ২০২২ সালে সব বিল পরিশোধের চাপ একসঙ্গে পড়ে। ফলে রিজার্ভ বেড়ে একসময় ৪৮ বিলিয়ন হলেও পরবর্তী সময়ে তা কমে ২০ বিলিয়নে নেমে যায়। দ্বিতীয়ত, জনবহুল দেশ হওয়ায় আমাদের আমদানিও করতে হয় অনেক বেশি। সেই তুলনায় রপ্তানি বাড়ছে না। ফলে আহরিত রেমিট্যান্স দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হয়। সেখানেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে ডলার কিনতে হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। চলতি হিসাব এবং রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরছে। ডলারের দরও অনেক দিন ধরেই এক জায়গায় প্রায় স্থির আছে।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতি ব্যাংক খাতের জন্য কতটা সহায়ক হবে?
মোহাম্মদ আলী: বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা অনেকটাই কমে ৭ শতাংশে নেমে গেছে। অর্থাৎ টাকার চাহিদা কমছে। হয়তো নির্বাচিত সরকার এলে আবার বাড়বে। সরকারি খাতেও অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে এবং অনিয়মও কমেছে। ফলে সেখানেও চাহিদা কমেছে। এতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য বাড়ছে, যা এতদিন সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করছিল ব্যাংকগুলো। সেখানে সুদহারও সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, যা এখন আবার ধীরে ধীরে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে এবারের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার সাড়ে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর আগে অবশ্য কয়েক দফায় তা বাড়ানো হয়। এই কারণে ঋণের সুদহারও আগামীতে কমে আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপের ফলে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতিও কমতে শুরু করেছে। তবে এটাকে অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ৬-৭ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। যা দেশের প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশিত।
খবরের কাগজ: ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার কমায় ব্যাংকগুলোর এখন কোন খাতে বিনিয়োগ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ আলী: স্বাভাবিকভাবেই এখন বেসরকারি খাত প্রাধান্য পাবে। বিশেষ করে এসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এই খাতে ঋণের সুদহার এখন ১৩ বা ১৪ শতাংশ। ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশে নেমে গেছে। ফলে এখানে ৩-৪ শতাংশ বেশি সুদহার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর উচিত হবে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও এখন এসএমই এবং করপোরেট ঋণ বিতরণে মনোযোগ দেওয়া।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংক খাত সংস্কারে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলোর বাস্তবায়ন হলে ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াবে কী
মোহাম্মদ আলী: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর যেসব সংস্কারকাজ শুরু করেছেন, সেগুলো যথাযথভাবে শেষ হবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। ১৫-২০ বছর আগে ব্যাংকিং খাতে সুবাতাস ছিল। সে সময় ব্যাংকিং খাত নিয়ে আস্থাহীনতা ছিল না। সেই পরিবেশটাই আবার ফিরে আসবে। আমরা সবাই সেটাই চাই। কারণ মিডিয়া থেকে শুরু করে সব জায়গায় যেভাবে গুটিকয়েক ব্যাংক এবং কিছু ব্যাংকার নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, এতে ব্যাংকারদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আগে মানুষ ব্যাংকারদের সম্মান করত, এখন অন্য দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। ফলে আমাদের নিজেদের স্বার্থেও আমরা এই ধরনের সমালোচনামুক্ত ব্যাংকিং খাত চাই। আমরা চাই মানুষ একজন ব্যাংকারকে সৎ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করবে। প্রত্যাশা করব ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরবে। এই ধারণা দেশের জনগণের উপলব্ধিতে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই রাজনৈতিক অঙ্গীকার লাগবে। সেটা যদি ঠিক থাকে তবেই আবার ব্যাংক খাতের সুদিন ফিরবে।
খবরের কাগজ: দেড় দশক আগেও পূবালী ছিল সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক। সেখান থেকে পূবালী এখন শীর্ষ ব্যাংকগুলোর একটি। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?
মোহাম্মদ আলী: আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৯ সালে ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক নামে। সে সময়ে এটি ছিল বেসরকারি ব্যাংক। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণের কারণে এটি সরকারি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। নামকরণ করা হয় পূবালী ব্যাংক। ১৯৮৪ সালে এটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন এটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের তালিকায় ছিল। তখন খেলাপি ঋণ ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০০৫ সালে ব্যাংকটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে। ২০০৭ সালে পূবালী ব্যাংক থেকে পর্যবেক্ষক তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর থেকেই পূবালী ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে করপোরেট সুশাসন। ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে কাজ করেছে। পর্ষদ ব্যাংকের নীতি প্রণয়ন করেছে। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সে নীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছে। এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে স্বাধীনতা আছে। প্রতিটি শাখাও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন। শাখা, অঞ্চলসহ প্রতিটি ধাপের স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয় থেকে যেকোনো ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সুশাসন ছাড়াও সততা, নৈতিকতা ও কমপ্লায়েন্স, আধুনিক টেকনোলজির সমন্বয়ে ব্যাংক পরিচালনার কারণে পূবালী ব্যাংক সেরাদের কাতারে উঠে এসেছে। পূবালী ব্যাংক গ্রাহকের আস্থা এবং ভরসার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। চলতি বছর সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণের তালিকায় আমরা রয়েছি। আমাদের খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশের নিচে রয়েছে। মুনাফার দিক থেকেও প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক।
খবরের কাগজ: তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন সাফল্যের প্রধান সূত্র সুশাসন?
মোহাম্মদ আলী: অবশ্যই। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধানের পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব রীতিনীতি যথাযথ মেনে চলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুয়ের সমন্বয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করা হয়। সুশাসন থাকলে কোনো ব্যাংকই খারাপ হওয়ার কথা নয়।
খবরের কাগজ: এই মুহূর্তে পূবালী ব্যাংক ব্যবসা পরিচালনায় কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?
মোহাম্মদ আলী: আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ওপর আরও জোর দিচ্ছি। সেটিই সম্প্রসারণের কাজ করছি। আমরা সব ক্ষেত্রেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা মাইলিং, ডেটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে করপোরেট থেকে শুরু করে সিএমএসএমই খাতেও ডিজিটাল সেবা বাড়াতে চাই। যাতে গ্রাহক মনে করে পূবালী ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে। এটা একটা দীর্ঘ যাত্রা। আমাদের লক্ষ্য সেই যাত্রাকে সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা। আমরা চাই সেবার মান উন্নীত করে সেই স্তরে নিতে যেখানে আমাদের গ্রাহকদের রিটেইল, করপোরেট বা সিএমএসএমই- কোনো সেবা গ্রহণের জন্যই ব্যাংকে আসতে না হয়।
খবরের কাগজ: পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে কম। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এখনো অন্যতম সমস্যা। এর কী কারণ?
মোহাম্মদ আলী: ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হচ্ছে সঠিক পদ্ধতিতে গ্রাহক চিহ্নিত করা। শুধু গ্রাহকের আর্থিক দিক দেখলে হবে না, তার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনাচারও দেখতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব এবং সামাজিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করে, এই ধরনের গ্রাহককে যতদূর সম্ভব বাস্তবতার আলোকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। ঋণ গ্রহণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে গিয়ে যথাযথভাবে পরিদর্শন করতে হবে। ব্যাংকের সুশাসন ঠিক থাকলে কোনো ঋণই খেলাপি হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। পূবালী ব্যাংক সব সময়ই ব্যবসাকে প্রাধান্য দিয়েছে। আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থকে প্রকৃত অর্থেই আমরা আমানত মনে করি। তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছি। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও পূবালী ব্যাংক সব সময় নিজ মানদণ্ডে অটুট থেকেছে। এ ক্ষেত্রে আমরা ব্যাংকের গাইডলাইন মেনে চলেছি। আমি প্রায়ই বলি, পূবালী ব্যাংক অস্তিত্বহীন কোনো প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়নি। শুধু কোম্পানির সুনাম বা নামের ওপর ভিত্তি করেও ঋণ অনুমোদন করা হয়নি। এক খাতের সেরা বা সুনামধারী কোম্পানিকে অন্য খাতের প্রজেক্টে ঋণ দিইনি। আমরা চেষ্টা করেছি ভালো গ্রাহকদের পাশে থাকার। তাদের সম্প্রসারণ ও ব্যবসায় ভূমিকা রাখার। সেটা করতে পারছি বলেই হয়তো আমাদের গ্রাহকরাও আমাদের আস্থার মান রাখতে পারছে। ঋণ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। ফলে আমাদের খেলাপি ঋণও কম হচ্ছে।
এটা ঠিক, আমাদের ব্যাংকিং খাতে বড় সমস্যা বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ। এই ঋণ উদ্ধার করতে হলে গ্রাহকের পিছনে লেগে থাকতে হবে। আইনি পদ্ধতিতে যেতে হবে শেষ পর্যায়ে। এ ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে, যেন জেলা পর্যায়েও মামলা করতে পারে ব্যাংকগুলো। বড় সমস্যা হচ্ছে, বড় বড় খেলাপি গ্রাহকরা কিছুদিন পরেই আদালত থেকে একটা স্টে অর্ডার (স্থগিতাদেশ) নিয়ে আসছেন। সেই জায়গায়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা গেলে অর্থাৎ স্টে অর্ডার নিতে গেলেও যদি ২০ বা ৩০ শতাংশ টাকা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়, তাহলে হয়তো ব্যাংকগুলো দ্রুত খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারবে।
খবরের কাগজ: পূবালী ব্যাংকের গ্রাহকসেবার মান কেমন?
মোহাম্মদ আলী: আমরা প্রতিবছর গ্রাহকসেবার মান নিয়ে একটা জরিপ করি। এতে দেখা যায়, প্রতিবছরই আমাদের গ্রাহকসেবার মান বাড়ছে। কারণ আমরা সেদিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে থাকি। আমরা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা যেমন বাড়িয়েছি, তেমনি ডিজিটাল এবং লজিস্টিক সহায়তাও প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছি।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি যে কয়েকটি ব্যাংক দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সেখানে সুশাসনের ঘাটতি এমনকি পরিচালনা পর্ষদের চাপও ছিল। এ ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংকের অবস্থান কি?
মোহাম্মদ আলী: পূবালী ব্যাংকের পরিচালনাগত কাজে কখনোই পর্ষদের কোনো চাপ নেই। আপনি যদি এক মাস নিয়মিত এই ব্যাংকে আসেন, তাহলেও কোনো পরিচালককে দেখতে পাবেন না। সেই সঙ্গে সুশাসনের যতগুলো প্যারামিটার আছে বা থাকা দরকার পূবালী ব্যাংক তার সবই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে থাকে। যেমন আমাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই দুই পক্ষের সবার ক্ষেত্রেই সুশাসন, সততা, নৈতিকতা ও কমপ্লায়েন্স মেনে চলার মানসিকতা রয়েছে। প্রত্যেকেই আমরা আমাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্র মেনে চলি।
খবরের কাগজ: অধিকাংশ ব্যাংকই সিএমএসই এবং কৃষি খাতে ঋণ দিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে পূবালী ব্যাংক কী উদ্যোগ নিচ্ছে?
মোহাম্মদ আলী: ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আমরা এখন এসএমই, রিটেইল ও কৃষিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। রিটেইলের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যক্তিগত ঋণ দিচ্ছি না। এসএমই ও রিটেইল ঋণ দেওয়ার জন্য আমরা পূবালী ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় দুজন কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তাদের কাজই হলো এ খাতে ঋণের মার্কেটিং করা। এসএমই খাতে সঠিক উদ্যোক্তা চিহ্নিত করে ঋণ দিলে তাতে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম। তবে সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের কাগজপত্রে কিছু সমস্যার কারণে অনেক সময় ঋণ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকেই ৫ বা ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কাজ শুরু করে আজ অনেক বড় এবং প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের পাশাপাশি গ্রাহকের সচেতনতা এবং বিচক্ষণতা বড় বিষয়। এসএমই হলো যেকোনো ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর শক্তি। এ খাতের কিছু উদ্যোক্তা খেলাপি হলেও ব্যাংকের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি করে না। বিপরীতে একটি করপোরেট গ্রাহক খেলাপি হলে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।