দ্বিতীয় অধ্যায় : সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে রাসেল সিইপিজেড এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করেন। তার পাশেই সুমন সুস্থ ও সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও একই পদ্ধতিতে সাহায্য কামনা করেন। এজন্য তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়। পথচারী হাসিব তাদের অবস্থা দেখে ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের কথা স্মরণ করেন।
ক. ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?
খ. পেশাগত দুর্ঘটনা বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের রাসেল ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের আলোকে কোন শ্রেণির দরিদ্র? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ওই আইনে রাসেল ও সুমনের মতো দরিদ্রদের অবস্থার উন্নয়নে কী ধরনের কার্যক্রম উল্লেখ আছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. লর্ড জর্জ হ্যামিল্টন ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের সভাপতি ছিলেন।
খ. শিল্পবিপ্লবের ফলে পৃথিবীব্যাপী নতুন নতুন শিল্প-কারখানার উদ্ভব হলে মানুষ দলে দলে শ্রমের জন্য কারখানাগুলোয় ভিড় করতে থাকে। অর্থনীতি গড়ে ওঠে শিল্প-কারখানাকেন্দ্রিক, যন্ত্রনির্ভর এই শিল্প-কারখানায় কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকদের বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করে। কর্মক্ষেত্রে এই দুর্ঘটনাকে পেশাগত দুর্ঘটনা বলে।
গ. উদ্দীপকের রাসেল ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে অক্ষম দরিদ্র শ্রেণির আওতাভুক্ত।
১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু। এর মধ্যে অক্ষম দরিদ্র হলো তারা, যারা কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করতে অক্ষম তাকে অক্ষম দরিদ্র বলা হয়। রুগ্ণ, বৃদ্ধ, অন্ধ, বধির, বিকলাঙ্গ, উন্মাদ প্রভৃতি অক্ষম দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অক্ষম দরিদ্র শ্রেণিকে দরিদ্রাগারে রাখা হতো এবং সেখানে তাদের সাধ্যমতো কাজ করতে হতো। কারও আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকলে এবং সেখানে ভরণপোষণের খরচ কম হলে তাদের সেখানে রেখে ওভারসিয়ারের মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো। উদ্দীপকের রাসেল সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত হয়েছে। সুতরাং সে অক্ষম দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
ঘ. ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে উদ্দীপকের রাসেল ও সুমনের মতো দরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
দরিদ্র আইনে সেবাদানের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দরিদ্রদের আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের কর্তব্য চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সে সময় এ আইনকে সরকারি দায়িত্বশীলতার সূচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হতো। এর মাধ্যমে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে কার্যকর প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। সামর্থ্যবান পরিবার ও সম্পদশালী আত্মীয়স্বজন যেন দায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য থাকেন সেজন্য দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্যদানের তালিকায় রাখা হতো না। শারীরিকভাবে সক্ষম ও সচ্ছল আত্মীয়স্বজনসম্পন্ন ভিক্ষুকদের ১৬০১ সালের আইনে সাহায্য দেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দরিদ্রদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সক্ষমদের সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অক্ষমদের জন্য দরিদ্রাগারের ব্যবস্থা করা হয়। নির্ভরশীল শিশুদের জন্য দত্তকের ব্যবস্থা করা হয়। দরিদ্রদের সহায়তা ও সাহায্যদানের জন্য অর্থ জোগানের মূল উৎস নির্ধারণ করা হয় দরিদ্র কর। প্যারিসভিত্তিক ওভারসিয়ারের হাতে কর আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সর্বোপরি একটি কাঠামো দাঁড় করানো হয় সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগের সংমিশ্রণ ঘটে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর