ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ভারতে আটকের তিন মাস পর দেশে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৬ পিএম
ভারতে আটকের তিন মাস পর দেশে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি
দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় তের বাংলাদেশী। ছবি: খবরের কাগজ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে কুম্ভমেলা দেখতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক ১৩ বাংলাদেশি তিন মাস পর দেশে ফিরেছেন। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে আটক ১৩ বাংলাদেশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরেন। এদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী রয়েছেন।

ফেরত ব্যক্তিরা হলেন- নাহিদা আক্তার, ফয়েজ ইসলাম, ফাইজা, রুবেল কুমার নাথ, রাজীব বিশ্বাস, শংকর দে, জয় দাস, সঞ্জয় দাস, উল্লাস দাস, দীপক দাস গুপ্তা, রুমান ঘোষ, রুবেল ঘোষ ও প্রান্ত দাস।

পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের স্বজদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কনস্যুলেট অফিসার ওমর শরীফ, আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম রাহাতুল ইসলাম, আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক মো. খাইরুল আলমসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম রাউজানের রুমান ঘোষ বলেন, ‘তিন মাস আগে কুম্ভমেলা দেখতে আমরা ১০ জন খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করি। মেলা দেখতে গিয়ে শহরের দিকে গেলে সেখানকার পুলিশ আমাদের আটক করে। পরে এক মাস কারাবাস ও দুই মাস সেফ হোমে থাকার পর আজ আমরা দেশে ফিরে আসি।’

শংকর দে নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘কুম্বমেলা উপলক্ষে নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ সেখানে যায়। আমরা তাদের সাথে ঘুরতে গিয়ে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হই। পরে আদালতের মাধ্যমে আমাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এক মাস কারাভোগ ও আরও দুই মাস সেখানকার সেফ হোমে থাকার পর বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আজ আমরা দেশে ফিরেছি। দেশে ফিরতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে।’ 

ভারতের ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কনস্যুলেট ওমর শরীফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ফেরত আসাদের মধ্যে এক নারী শিশুসহ তার স্বামীকে নিয়ে মুম্বাই গিয়েছিলেন। তার স্বামী লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রী ও বাচ্চারা ভারতীয় বিএসএফের হাতে আটক হয়। আর বাকি দশজন কুম্বমেলা দেখতে ভারতে প্রবেশ করে। মেলা শেষে তারা ফেরত না এসে আগরতলা শহরে ঘুরতে যায়। পরে তারা বিএসএফের হাতে আটক হয়।’

তিনি আরও বলেন, তাদের নাগরিক শনাক্তকরণ ও দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনের এই কনস্যুলেট বলেন, ত্রিপুরার সেফ হোমসহ বিভিন্ন জায়গায় এ রকম আরও ২০-২৫ জন আটক রয়েছেন। তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

জুটন বনিক/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চাবিকাঠি: বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৪০ এএম
প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চাবিকাঠি: বাংলাদেশ
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৬তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক। ছবি: সংগৃহীত

নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রায় সাত বছর ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৬তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর অনুষ্ঠিত একটি সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। 

এ বিষয়ে তিনি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের আত্মীকরণের জন্য তাদের জীবিকার ব্যবস্থা উন্নয়নকল্পে বিনিয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি রাখাইনের বুথিডং-এ রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের জোরপূর্বক বিভিন্ন সশস্ত্রবাহিনীতে নিয়োগের সাম্প্রতিক খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি মায়ানমারে যুদ্ধরত সকল পক্ষকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে মায়ানমার থেকে গুলি চালানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মায়ানমারের যেকোনো সংঘাত তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে এটি যেন বাংলাদেশের জনগণ ও সম্পদকে প্রভাবিত না করে।’

তিনি বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তার আহ্বান জানান। 

এ ছাড়া তিনি মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে ন্যায়বিচার অর্জন এবং রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সংলাপের শুরুতে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক কাউন্সিলে মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর একটি প্রতিবেদন পেশ করেন।

হাইকমিশনার সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ এবং রাখাইনে ঘৃণ্য যুদ্ধ-কৌশল নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।  

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৬তম অধিবেশন ১৮ জুন জেনেভায় শুরু হয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

ফিনল্যান্ডে উদযাপন হয়েছে ঈদুল আজহা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৪, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:১০ পিএম
ফিনল্যান্ডে উদযাপন হয়েছে ঈদুল আজহা
ছবি: সংগৃহীত

ফিনল্যান্ড জুড়ে মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহের মধ্য দিয়ে উদযাপন হয়েছে ঈদুল আজহা।

রবিবার (১৬ জুন) ফিনল্যান্ডের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উদযাপন করলেন ঈদুল আজহা।

হেলসিঙ্কির ভান্তা স্পোর্টস সেন্টারের মিলনায়তনে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত হয় সকাল সোয়া ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল সোয়া ৯টায়।

এতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মো. বশির আহমেদ।

ঈদের জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জামাত দুটিতে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন, লিমন চৌধুরী, নাজমুল হুদা, কামরুল আলম কামাল, নাসির খান, কামরুল হাসান জনি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, এন জামান ভূইয়া, মাহবুবুল আলম, মহিউদ্দিন আহমেদ মানিক, জহিরুল আলম নজরুল, ফয়েজ আহমেদ ঢালী, জামান সরকার, সালেক আহমেদ সালেহ, ইমন আহমেদ, আকরাম হোসেন, মহি খান, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, শামীম বেপারী, আতাউর রহমান খান, মাসুদ আবদুল্লাহ, স্বপন বংগবাসী, আ. লতিফ, লিটন দেওয়ান, মহসিন আলম, হালিম, তানভীর রশিদ, আবুল কালাম আজাদ, মেহেদী হাসান লিও, হামিদুল ইসলাম, দবির হোসেন, মো. রকিবুল ইসলাম রুবেল, সাব্বির আহমেদ লস্কর, রাব্বি আহমেদ, জায়ান, আরিয়ান, হোসাইন রিফাত আরমান, সাজিদ খান জনি, রাফাত ঢালী প্রমুখ।


ফিনল্যান্ডে বরাবরের মত এবারেও বাঙালিদের ঈদ উৎসবে ছিল বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি খাবার, একে অপরের বাড়িতে নেমন্তন্ন খাওয়া, মাতৃভূমি বাংলাদেশে টেলিফোন করে পরিবারের ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোঁজখবর নেওয়া ইত্যাদি । ঈদের এই আনন্দে একে অপরের বাড়িতে নেমন্তন্ন খাওয়ার রেওয়াজ একাধারে ৩-৪ দিন চলতে থাকে।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

লিবিয়ায় অপহৃত নাটোরের চার যুবক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১৩

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম
লিবিয়ায় অপহৃত নাটোরের চার যুবক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১৩
উদ্ধার হওয়া নাটোরের চার যুবক

লিবিয়ায় অপহরণের শিকার নাটোরের গুরুদাসপুরের চার যুবককে উদ্ধার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় অপহরণকারীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (৯ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী যুবকদের একজন সোহান।

১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বার্তায় সোহান তার মা-বাবার উদ্যেশে বলেন, ‘মা-আব্বা, আমরা এখন ভালো আছি, সেভ আছি। সেনাবাহিনীর আন্ডারে আছি। তোমরা টেনশন করো না।’

সোহান উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের বিয়াঘাট  চরপাড়া গ্রামের কৃষক শাজাহান প্রাংয়ের ছেলে।

উদ্ধার অন্য তিন যুবক হলেন- একই এলাকার তয়জাল শেখের ছেলে সাগর হোসেন (২৪), শুকুর আলীর ছেলে নাজিম আলী (৩২) ও ইনামুল ইসলামের ছেলে বিদ্যুৎ হোসেন (২৬)।

সোহানের চাচাতো ভাই সিয়াম জানান, বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ১১টার দিকে লিবিয়া সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে সোহানসহ জিম্মি চারজনকে উদ্ধার করে। ওই সময় ১২ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি, দুইজন লিবিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া সেহানদের সঙ্গে অপহরণ হওয়ার পর রাস্তায় মুক্ত হওয়া ঢাকার ফরহাদকেও পরে গ্রেপ্তার করেছে লিবিয়া সেনাবাহিনী। 

গত ১ জুন শনিবার রাতে খাবার খাওয়ার সময় তারা অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। 

সালমান/অমিয়/

বাংলাদেশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইএলওর গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ০৩:১৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৪, ০৩:৪৭ পিএম
বাংলাদেশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইএলওর গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আগামী ২০২৪-২৭ মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির পূর্ণ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। 

শুক্রবার (৭ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১১২তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংস্থাটির গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়।

আইএলওর পরিচালনা পর্ষদ ও নীতি নির্ধারণী ফোরাম গভর্নিং বডিতে সরকারের জন্য ২৮টি সদস্যপদ রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি উচ্চ শিল্পগুরুত্বসম্পন্ন দেশের জন্য সংরক্ষিত থাকে। অবশিষ্ট ১৮টি সরকারি সদস্যপদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৭৭টি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে। দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ার সাতটি দেশের জন্য একটিমাত্র সদস্যপদ বরাদ্দ থাকায় এ অঞ্চলের সদস্য নির্বাচনে সাধারণত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। 

তবে এ বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে অন্যান্য প্রত্যাশী দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দক্ষিণ-মধ্য এশিয়া অঞ্চল থেকে একমাত্র সদস্যপদ প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের নাম উত্থাপন করে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চল থেকে মোট চারটি দেশ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ১৯৯৬-৯৯ ও ২০০৮-১১ মেয়াদে সংস্থাটির গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। 

এ সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংস্থাটির নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনায় কার্যকর অবদান রাখা এবং সংস্থাটির ত্রিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ পাবে বলে আশা করা যায়। 

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ভোটগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেন এবং কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জেনেভা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

কর্মসংস্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৬:০৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৪, ০৬:০৪ পিএম
কর্মসংস্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : শ্রম প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শোভন কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

বুধবার (৬ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক কনফারেন্সের ১১২তম সভার সাধারণ অধিবেশনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতাভিত্তিক বাংলাদেশ এবং এরই আলোকে ন্যায্য বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা। শ্রম অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতির প্রতি বাংলাদেশ শ্রদ্ধাশীল। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশ আইএলওর ১০টি মূল কনভেনশনের মধ্যে ৮টি এবং মোট ৩৬টি আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। 

তিনি বলেন, ‘শ্রম অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানে কার্যকর উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার আইন সংস্কার ছাড়াও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তায় এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম প্রবর্তন করেছে। এসব পদক্ষেপে সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। সরকার দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে।’

সরকারের শ্রমক্ষেত্রে সংস্কারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণমূলক নেতিবাচক পদক্ষেপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপকারে আসবে না। এর পরিবর্তে পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণ, শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় বহুজাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব, কারিগরি সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমেই উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’

আলোচনা সভা ছাড়াও এদিন সকালে শ্রম প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রমিকবান্ধব নেতা হিসেবে অভিহিত করে শ্রমিকবান্ধব কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং উন্নত শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের স্বদিচ্ছা রয়েছে বলে জানান।

মহাপরিচালক হোংবো গত এক দশকে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে বলে মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের শ্রম খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরূত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমগুলোতেও সংস্থাটির কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে শ্রম সচিব মো. মাহবুব হোসেন, জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের চার্জ দ্য এফেয়ার্স সঞ্চিতা হকসহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও সরকারের শ্রম খাতসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি

সালমান/