আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। একটা সময় ছিল, যখন রান্না ছিল শুধু ঘরকেন্দ্রিক। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে এখন রন্ধনশিল্পের সেক্টর অনেক শক্ত, যেখানে শেফরা এখন তারকা। রন্ধনশিল্পে দীর্ঘ সময় কাজ করছেন এবং এই পেশায় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বারিস্তা ট্রেনিং বাংলাদেশ-এর ট্রেইনার আলী আজম। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন ফ্যাশন প্লাসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অজেয় চৌধুরী
শেফ হিসেবে আপনার শুরুর গল্পটা জানতে চাই
আমার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে। ছোটবেলায় মায়ের রান্না দেখে আমার খুব ভালো লাগত। ছোটবেলা থেকেই রান্নার প্রতি আলাদা একটু আকর্ষণ ছিল। সেখান থেকেই আমি শেফ হওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছি এবং বড় হয়ে এই পেশার দিকে ঝুঁকেছি। আমি এসএসসি পাস করে ২০০১ সালে ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় এসে আমি একটি রেস্টুরেন্টে চাকরিতে যোগদান করি। রেস্টুরেন্টে পরিপূর্ণ রান্নার কাজ শেখার আমার খুব ইচ্ছা ছিল। সেই রেস্টুরেন্টের যে কাজগুলো ছিল সেগুলো আমি রপ্ত করি। এরপর আমি বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার তৈরির কাজ শিখে পাঁচ তারকা হোটেলে যোগদান করি। পরবর্তী সময়ে আমি রান্নাবিষয়ক পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এ জন্যই পেশাটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। রন্ধনশিল্পের এই পেশায় খুব আনন্দের সঙ্গে কাজ করছি।
আপনি একজন মাল্টি-কুইজিন শেফ। বারিস্তা ট্রেনিং বাংলাদেশ নামে আপনার একটি ট্রেনিং সেন্টারও আছে। আমাদের দেশে কফি এবং বারিস্তা ট্রেনিংয়ের ভবিষ্যৎ কেমন?
এই ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা আমার। আমি কফি নিয়ে কাজ করার আগে থেকেই শেফ। আমি মূলত মাল্টি-কুইজিন ফুড নিয়ে কাজ করি। তবে কফি নিয়ে করছি ১২ বছর। বাংলাদেশে আগে কফি কালচার এতটা ছিল না। ১৫ বছর আগে ক্যাপাচিনো খেতে গেলে পাঁচ তারকা হোটেলে যেতে হতো। এখন রাস্তাঘাটে ক্যাপাচিনো তৈরি হয়। কফি কালচার আমাদের দেশে প্রতিনিয়িত বাড়ছে। সেই সঙ্গে এর আলাদা মার্কেটও তৈরি হচ্ছে। বারিস্তা ট্রেনিং বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ২০ জন করে শিক্ষার্থী বের হচ্ছে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যারা দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে যাচ্ছে, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে কোর্স করে স্কিল তৈরি করে চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। বিদেশে অনেক কফি শপ আছে, তাই বারিস্তা ট্রেনিং করা থাকলে চাকরি পেতে সুবিধা হয়। তাই এটা নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ আছে। আমার ভালো লাগছে যে, আমি তাদের ট্রেইনআপ করাচ্ছি। গত দুই বছরে ২ হাজার বারিস্তা আমার হাতে তৈরি হয়েছে। যারা সারা বিশ্বের নানা জায়গায় ছড়িয়ে কাজ করছে। এটা আমার জন্য আনন্দের বিষয়।
অনেকেই আপনাকে কফি কিং বলে সম্বোধন করেন। এ বিষয়টি আপনি কীভাবে ইনজয় করেন?
আমাকে কফি কিং বলার কারণ আছে। শেফরা সাধারণত কফি নিয়ে কাজ করে না, তারা কিচেন নিয়ে কাজ করে। আমি কফি নিয়ে কাজ করতে আসি প্রায় ১২ বছর। আমি যখন শিখতে আসি, তখন আমি বাংলাদেশের মোটামুটি নামকরা শেফ। আমি মালয়েশিয়া ও নেপাল থেকে বারিস্তা ট্রেনিং করেছি এবং কফি নিয়ে পড়াশোনা করে এসেছি সিঙ্গাপুর থেকে। যারা বারিস্তা তাদের কিন্তু দেশের বাহিরে এতগুলো ট্রেনিং নেই। আমি যতগুলো দেশে গেছি, একটি করে কফি ট্রেনিং করে আসছি। এটা অন্য কোনো কফি ট্রেইনারের মধ্যে নেই। আবার আমি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি নিয়ে কাজ করছি। নেসলে বাংলাদেশের বারিস্তা ট্রেইনার আমি। আমার নিজের একটা অ্যাকাডেমিও আছে। আমার কয়েকটি কফির ব্র্যান্ড আমার নিজের হাতে তৈরি হয়েছে। যেখানে আমার হাতের কফি যারা খেয়েছে, তারা আমার কফির ভক্ত হয়েছে। এই মানুষগুলো ভালো লাগা থেকে আমাকে কফি কিং বলে সম্বোধন করেন।
/রোদসী