ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

যে শহরে তুমি থাকবে না

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম
যে শহরে তুমি থাকবে না
প্রতীকী ছবি

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে আমার স্বপ্নগুলো নিলাম হবে রোজ,
ঝরাপাতার মতো ঝরে যাবে
বে-হিসেবি সুখগুলো।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে কোনো মিটিং মিছিল হবে না,
দৃপ্ত কণ্ঠে স্লোগান দিবে না
সদ্য কৈশোরের চৌকাঠ পেড়িয়ে যাওয়া তরুণ,
হকারের ডাকে ঘুম ভাঙবে না আর,
হবে না কোনো অলিগলিতে হাঁটাহাঁটি।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে কিশোরীর প্রেম
চুষে খাবে শেয়ারবাজার,
গলির মোড়ের চায়ের দোকানটায়
রাজনীতির ঝড় উঠবে না আর,
যৌতুক না দেয়ার অপরাধে
ফাঁসিতে ঝুলবে বৃদ্ধ বাবা,
ঘরে ঘরে গৃহিণীরা হবে
নির্মম দাসপ্রথার শিকার।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে আকাশজুড়ে
লক্ষ্য ফানুস উড়বে না আর,
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হবে হাইকোর্ট,
বিক্রি হবে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড,
ফুলের মালা হাতে সদ্য কিশোরী মেয়েটা
ধর্ষিত হবে বর্বরদের কাছে।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরের পরিত্যক্ত বাড়িটায়
নেমে আসবে নিকষ কালো অন্ধকার,
কুকুরের সাথে বর্জ্যদানির খাবার
কুড়িয়ে খাবে ক্ষুধার্ত যাযাবর,
খাবারের হোটেলে ধস নামবে,
থিয়েটারজুড়ে থাকবে পৈশাচিক উল্লাস।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে সততার মৃত্যু হবে,
শ্রমিকের ঘাম শুকিয়ে যাবে মজুরির অপেক্ষায়,
হায়েনারা কড়া নাড়বে বন্ধ দরজায়,
চিলেকোঠায় নেমে আসবে নিঃস্তদ্ধ ভয়াল রাত,
পানির অভাবে গ্রীষ্মের কাকডাকা দুপুর
মনুষ্য হাহাকারে মাতাল হবে।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে এক রমনী
স্বেচ্ছাবৈধব্যের যন্ত্রনায় ধুঁকে ধুঁকে মরে যাবে,
শতশত প্রেমিক হৃদয় হারাবে ভালবাসার অধিকার।

যে শহরে তুমি থাকবে না
সে শহরে অস্তগামী সূর্যের মতো
মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে আমার ভবিষ্যৎ

শ্রেষ্ঠ রাঁধুনি পুরস্কার

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৫ পিএম
শ্রেষ্ঠ রাঁধুনি পুরস্কার

গত সংখ্যার পর

এ সময় বার্তা বিভাগের সাংবাদিক দীন আনোয়ার তাঁর আইডিয়া পেশ করতে লাগলেন ভিডিওচিত্রে। 
রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকে ভরপুর কক্ষে জনৈক মন্ত্রী মহোদয় বসে আছেন। 
আনোয়ার : এইবার ঈদ করবেন কোথায়? 
মন্ত্রী : দেখুন, আমার ঠিকানা তো একটিই- আমার জনগণ। যাদের কারণে আমি এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি, আমি তাদের সঙ্গেই ঈদ করব আমার নির্বাচনি এলাকায়। 
আনোয়ার : আপনারা তো দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছেন, দেশে আর হাভাতে মানুষ নেই। এমতাবস্থায় আগের মতো এবারের ঈদে তো গরু-বকরি দান করতে হবে না। 
মন্ত্রী : দেশ এগিয়ে গেলেও প্রাণের টানে মানুষকে আমরা ঈদের উপহার দিই। মানুষও তা নেয়, আনন্দের সঙ্গে নেয়। 
আনোয়ার : প্রতি ঈদে যদি মিসকিনের মাংস জাকাতের কাপড় গ্রহণ করতে হয়, তাহলে মানুষ তো আগের মতো গরিবই রয়ে গেল। 
মন্ত্রী : দেখুন, আজ পবিত্র দিনে এ নিয়ে আপনার সঙ্গে বিতর্ক করতে চাই না, নিশ্চয়ই আপনি বিরোধী দলের সমর্থক। এই কে আছিস- 
এ সময় ভিডিও কাট হয়ে নতুন শট শুরু হয়। সুশীল সমাজের লোকজন তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন- দেশের আয় বাড়লে গ্রামে জাকাতের লাইন লম্বা হচ্ছে কেন, কেন নেতৃবৃন্দ গ্রামের বাড়িতে ঈদের দিন নিজের হস্তে আরও বেশি জনগণকে ঈদের মাংস বিতরণ করে সম্প্রদান কারকের নতুন নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করে চলছেন, ইত্যাদি।
মিটিংয়ের এ পর্যায়ে নির্বাহী সম্পাদক বললেন, সবই ঠিক আছে। দেশের সাধারণ মানুষ যে আরও দরিদ্র হচ্ছে তা ঈদ-পার্বণ এলে ভালো টের পাওয়া যায়। কিন্তু ঈদের দিন এরকম আর্থসামাজিক তর্ক কতটুকু পাবলিক খাবে আর প্রশাসন কীভাবে নেবে ইত্যাদি বিবেচনা করতে হবে। অনেক কিছু ভেবে আমাদের টিভি চালাতে হয়, বুঝলে। 
কে কী বুঝল বোঝা গেল না। তবে কেউ কিছু বলল না। শুধু আনোয়ার মৃদুলের কানে মৃদু কণ্ঠে বলল, এ তো গরিব মানুষের মনের কথা, তারা তা লাইক করবে না কেন? 
মৃদুল কিছু বলল না। এ সময় নতুন একজন তার প্রস্তাবনা নিয়ে পর্দায় হাজির হলেন। 
একজন মন্ত্রী : এবার ঈদ পালন করব আমার নির্বাচনি এলাকায়। 
অন্য এক মন্ত্রী : এবারের ঈদ হবে ঢাকায়। তবে গ্রামে আমার পক্ষ থেকে দশটি গরু কুরবানি দেওয়া হবে। গতবার দিয়েছিলাম সাতটি। এবার মানুষ আরও বেড়েছে। 
বিষয়টি আবার আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিকে মোড় নিচ্ছে দেখে নির্বাহী সম্পাদক কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু এ সময় ভেসে উঠল এক টোকাইয়ের মুখ। সে বলছে- ঈদ কোথায় করমু? আমার তো বাবায় নাইক্যা, মায়ে ঈদ করে না। 
একজন ভিক্ষুক : এবার ঈদ করমু ঢাকায় বনানী গোরস্থানে, ওখানে সবচেয়ে বেশি আয় রোজগার হয়। 
রিকশাওয়ালা : একেবারে ছোটবেলায় বাবায় একবার ঈদ দিছিল খাসি দিয়া, তয় এইবার বাড়ি যামু, কারণ ঈদের দিন লোকজন আহে না শহরে, ভাড়া কম। 
পানের দোকানি : ঈদ মোবারক। এবার ঈদের দিন মুরগি জবাই দিমু একটা। আমার তো আর বেশি সাধ্য নাই। আমার ছেলে দোকানের সামনে ঈদের শুভেচ্ছা লেখা ব্যানার দিছে; কিন্তু নেতাগো লোকেরা ছিঁড়া ফেলেছে, তারাই নাকি ঈদ মুবারক কইতে পারব; কোন দেশত আছি, কন। 
বাসের কন্ডাক্টর : এবার ঈদ কাটব বাসে। ঈদের দিন যাত্রী কম, তবুও পেটের দায়ে আসব, উস্তাদ কইল ফাঁক পেলে ঈদের জামাত পড়ার সুযোগ হবে ’খন। 
ওষুধের ক্যানভাসার : আমি ঈদ করমু বায়তুল মোকাররমের গেটে। আতর বেচমু ঈদের দিন, ওষুধ চলবে না। 
ছিচকে চোর : এবার ঈদ হবে যে-কোনো জেলে। কিছু একটা করমু জেলে যেতে। ঈদের দিন জেলে যে ভোগ দেয় তা কোনোদিন খেতে পারি না, কোনোদিনও না। তাই জেলে যাওন ছাড়া গতি নাই। আমাগো গুরুপের আরও কয়জন যাবে, একটু পিট্টি খাবে কিন্তু বছরে এক কি দুইবার ঈদের খাওয়ার জন্য এ কিছুই না, আন্নি কি কন? 
প্রোগ্রামটি শেষ পর্যন্ত দেখল মৃদুল এবং নেতা-নেত্রী সেলিব্রেটিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে যারা ঈদ করবে না, (বলাই বাহুল্য জনসংখ্যার সিংহভাগ এ ধরনের) ঈদের দিনের যাপন ওঠে আসাতে অনুষ্ঠানটি নতুন মাত্রা পেতে পারে। বিশেষ করে শেষের দিকটা অসাধারণ বানিয়েছেন প্রস্তাবক : 
একজন মধ্যবিত্ত : মেয়েকে নিয়ে ঢাকা শহরে চলে আসমু ঈদের দিন। গ্রামে থাকলে সবাই জানবে ঈদ করতে পারিনি। কেউ-বা ঈদের মাংসের গরিবের ভাগা নিয়ে আসবে দুয়ারে। তাই গ্রামে এবার রটিয়ে দিয়েছি এবার ঈদ করব ঢাকায়। 
রটনার মতো শব্দগুচ্ছ বীররসের পরিচায়ক, কিন্তু ভদ্রলোকের চোখ রসের উপযোগী অভিনয় করতে পারছে না- সেখানে জমছে, জমে স্ফীত হয়ে ঝরে পড়ছে করুণ রসের ধারা- লোনাজলের অশ্রু। 
আর একজন মধ্যবিত্ত : আমি থাকি বরিশালে, ইচ্ছা ছিল ঈদের দিন ঢাকায় চলে যামু যাতে কেউ টের না পায় যে ঈদ করতে পারিনি, কিন্তু ঢাকায় যাব কোথায় আর গেলেও লোকজন পলায়নের সন্দেহ করবে। 
-এখন কী করবেন; তাহলে? 
-একটা প্ল্যান নিয়েছি, মালিক বলেছে, ঈদের আগে মাসের বেতনের অর্ধেক দিবে। তাই দিয়ে ঈদের দিনের বিকালে ভিক্ষুকেরা শহরে যে মাংস ভাগা বসিয়ে বিক্রি করে তার দু-একটা কিনে নিয়ে যাব। গ্রামে আর পরিবারকে বলে দিয়েছি আমার কারখানার আর দুই বন্ধু মিলে এবার অংশীদারি কুরবানি করব। কুরবানির মাংস বাড়িতে পৌঁছাতে বিকেল এমনকি রাতও হয়ে যেতে পারে। 
ভদ্রলোক এতটুকু বলে হঠাৎ থেমে গেলেন। বহুক্ষণ। তার পর বললেন, কিন্তু একটা যে মুশকিল হয়ে গেল। 
-কী মুশকিল হলো আবার? 
-মেয়ে আর তার মা সারা পাড়ায় বলেছে এবার আমরা ঈদ করব। সেটাতে সমস্যা নেই, সমস্যা হলো দুজনই গরু নিজের চোখে দেখতে চায়- সেটি নাকি শরিয়তের বিধান। আপনি কি এ বিষয়ে জ্ঞান রাখেন? 
-আপনি বলতে পারেন, গরু কেনা হবে তো ঈদের আগের দিন আর তা রাখা হবে আপনার বন্ধুর শহরের বাড়িতে। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় ওরা ওখানে কীভাবে যাবে? 
-মিথ্যা বলব? নিজের স্ত্রী, মেয়েকে মিথ্যা বলব? 
-আপনি তো কুরবানি না করেই মিথ্যা করে বলবেন কুরবানি করছেন। এ তে আর নতুন কি মিথ্যা বলা হলো? 
-আমি এই যুক্তি ওদেরকে অলরেডি দেখিয়ে ফেলেছি। ওরা এখন বলছে, ঈদের দিন নিজের কুরবানির মাংস দিয়ে প্রথম আহার করতে হয়, তাই মাংস না আসা পর্যন্ত রোজা রাখবে। আহা রে, আমার মাসুম বাচ্চা মেয়েটি বাবার মিথ্যা কুরবানির আশ্বাসে সারা দিন না খেয়ে কষ্ট পাবে- এতে আমার ওপর আল্লাহ কি নারাজ হবেন? আমার কি বড় কোনো গুনাহ হবে? 
চলবে...

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

চতুর্থ পর্ব

পঞ্চম পর্ব

ষষ্ঠ পর্ব

সপ্তম পর্ব

বইমেলার তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচিত কুড়িটি বই

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৭ পিএম
বইমেলার তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচিত কুড়িটি বই

বই পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা এক অজানা জগতে পৌঁছতে পারি- যা আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। মানব জীবনের শ্রেষ্ঠতম বন্ধু বই, কারণ বই আমাদের সব সমস্যার সমাধান খুঁজে দেয়। একটা ঐতিহাসিক যুগে প্রবেশ করতে চাইলে বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে, তাহলে ওই যুগে কী ঘটেছিল তা জানা যাবে। 

সুশীল সমাজে ভালো বন্ধু পেতে হলে তুমি তাকেই বেছে নাও যে সবসময়ের জন্য সমানভাবে কথা বলে আর সেটি হলো বই। নিয়মিত বই পড়ার মধ্য দিয়ে পাঠকরা প্রত্যহ নিজেদের সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারে। আমেরিকান লেখক ভিনসেন্ট স্টারেট বলেছেন, ‘আমরা যখন বই সংগ্রহ করি, তখন আমরা আনন্দকেই সংগ্রহ করি।’ বই সবসময়ের জন্য আলোকিত মানুষ গড়ে।...

 

বিচার ও প্রশাসন: ভেতর থেকে দেখা
কাজী হাবিবুল আউয়াল
শ্রেণি: স্মৃতিচারণ ও বিবিধ
প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩৭৮; মূল্য: ১৯৯৫ টাকা

‘বিচার ও প্রশাসন : ভেতর থেকে দেখা’ বইয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল ছত্রিশ বছরের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শুরুটা হয়েছিল সংক্ষিপ্ত একটি ভ্রমণ ও ক্ষণস্থায়ী একটি ব্যবসা দিয়ে। এরপর বছরখানেক আইন পেশায় ‘বিফল পদচারণা’। অতঃপর সরকারি চাকরিতে প্রবেশ। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে জীবনের সার্থকতা এবং ব্যর্থতার অনেক উপাখ্যান লেখক অকপটে প্রকাশ করেছেন। লেখক মনে করেন, বর্ণিত সেসব অভিজ্ঞতা ও ঘটনা আগ্রহী পাঠককে বিনোদন দিতে পারে, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও ধারণাও দিতে পারে।
যেকোনো মানুষের জীবনে অনেক বৈচিত্র্য থাকে। কর্মক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য থাকে। ভালোমন্দ বিভিন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতাকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে এ গ্রন্থে।

 

আমার জীবন আমার সংগ্রাম
মাহ্বুব উল্লাহ্
শ্রেণি: আত্মচরিত
প্রকাশনী: বাঙ্গালা গবেষণা, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৫৯২; মূল্য: ১২০০ টাকা

আমার জীবন আমার সংগ্রাম গ্রন্থে লেখকের শৈশব, স্কুলজীবন, কলেজজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের পূর্বাপর রাজনৈতিক ঘটনাবলি যেভাবে অবলোকন করেছেন তার বিবরণ ঠাঁই পেয়েছে। রাজনৈতিক ইতিহাসের অজানা পর্বগুলো অনেকটাই ফুটে উঠেছে এই গ্রন্থে। যেসব ঘটনার সঙ্গে লেখকের সংশ্লিষ্টতা ছিল সেগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক নিজেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় করে তুলে ধরেননি। ইতিহাসের বিষয়গুলো নিয়ে লেখক যেভাবে সংযম ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন তা এ দেশের ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। লেখক আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে সমকালীন সমাজ ও লৌকিক আচরণের যে বিবরণ দিয়েছেন তা সমাজবিজ্ঞানীদের অনেক কৌতূহল মেটাতে সাহায্য করবে।

 

 

লেনিন কেন জরুরী
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
শ্রেণি: রাজনৈতিক গবেষণা ও প্রবন্ধ
প্রকাশনী: বিদ্যাপ্রকাশ, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৯২; মূল্য: ৪২০ টাকা

এই বইয়ের প্রবন্ধগুলোর অধিকাংশই লেখা হয়েছিল ১৯৯২ সালে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটেছে এবং সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেই বলে ধারণা প্রবল হয়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রবন্ধগুলোর মূল বক্তব্যটি হচ্ছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক, অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা। পুঁজিবাদ যে আজ চরম অবস্থায় পৌঁছে ফ্যাসিবাদী রূপ পরিগ্রহ করেছে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বিশ্বব্যাপী এই সচেতনতা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, ঘটনা যেদিকে চলছে সেদিকে চলতে দিলে মানুষের মনুষ্যত্বই কেবল নয়, তার বেঁচে থাকাটাই হুমকির মুখে পড়বে। লেখকের উদ্দেশ্য সমস্যা নিয়ে কেবল ভাবিত করা নয়, সমাধানে আগ্রহ বৃদ্ধি করাও বটে।

 

মাইকেলের দু শো বছর
গোলাম মুরশিদ
শ্রেণি: সাহিত্য ও সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ
প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৬০; মূল্য: ৪০০ টাকা

কবিতার নিবাস ছিল মধ্যযুগে। কবিতা না-বলে তাকে লোকে বলত পদ্য। ইংরেজ রাজত্বে ইংরেজি না-জানার অপরাধে তিনি আধুনিকতার আলো দেখিয়েও সে আলোকে জ্বালিয়ে রাখতে পারলেন না। ইংরেজি শিখে রঙ্গলালও নয়। রঙ্গলালের পড়শি মধুসূদন দত্ত ইংরেজি শিখলেন আরও ভালো করে। পিতামাতাকেও ত্যাগ করলেন। কবিতা লেখেন বাংলায়, কিন্তু বাংলায় একটি কথাও বলেন না। একটি বাক্যও না। তা সত্ত্বেও, তার ইংরেজি বিদ্যা খাটিয়ে বাংলায় লিখলেন পুরাণের কাহিনি। জন্ম থেকে হিসাব করলে তার দু শো বছর পূর্তি হলো। বাঙালিরা আজও ভোলেনি তাকে। কী জাদু তার!

 

কবি চন্দ্রাবতী এবং
হাসনাত আবদুল হাই
শ্রেণি: ঐতিহাসিক উপন্যাস
প্রকাশনী: কিংবদন্তী পাবলিকেশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৮০; মূল্য: ৩৩৪ টাকা

এক ছুটির সকালে লেখকের বাসায় কবি বেলাল চৌধুরী এলেন, সঙ্গে কবি-প্রাবন্ধিক-কথাসাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। বেলাল বললেন, নবনীতা কবি চন্দ্রাবতীর রামায়ণ লেখার ওপর গবেষণা করেছেন। সেই উপলক্ষে ময়মনসিংহের কেন্দুরা উপজেলার এক গ্রামে যেতে চান। যেখানে মেয়েরা পালা-পার্বণে সীতার বারোমাসি গেয়ে থাকে। কবি চন্দ্রাবতী এবং নবনীতা দেবসেনের জীবনে এক জাগায় মিল দেখতে পেয়ে লেখক কল্পনা মিশিয়ে তাদের নিয়ে ডকুমেন্টারি উপন্যাস লেখার কথা ভাবেন এবং পরে নিজে সেই গ্রামে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। কাজের ব্যস্ততায় এক সময় লেখার কথা ভুলে যান তিনি। ৮০০ বছর পর হঠাৎ পুরোনো তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পেয়ে ‘কবি চন্দ্রাবলী এবং’ বহু বিশ্রুত এক কাহিনির নব রূপান্তর।

 

কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু
মুনতাসীর মামুন
শ্রেণি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
প্রকাশনী: সময় প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৬৮; মূল্য: ৪০০ টাকা

বঙ্গবন্ধুর ওপর সংকলিত ভিন্নধর্মী প্রবন্ধের সংকলন কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। লেখক তার লেখা ছয়টি প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বৈচিত্র্যময় দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ‘কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’তে তিনি দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক অবস্থান। ‘বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে গণহত্যা ১৯৭১’-এ বিবৃত হয়েছে সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরে গণহত্যা কীভাবে অনুভব নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু যে গান ও শিশু-কিশোরদের ভালোবাসতেন তা জানেন কজন? এ বিষয় দুটি নিয়ে লেখা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রিয় গান’ ও ‘শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধু’। ‘পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ পালনের এক অনুষ্ঠানে ছিলেন লেখক। সে অনুষ্ঠানের বর্ণনা আছে ‘পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ প্রবন্ধে। সবশেষ প্রবন্ধটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইতিহাস চর্চার প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে।

 

বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ 
সৈয়দ আবুল মকসুদ
শ্রেণি: বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সংকলন
প্রকাশনী: আগামী প্রকাশনী, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৭৬; মূল্য: ৫৫০ টাকা

‘বঙ্গবন্ধু’ খেতাবটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালি জাতির শ্রদ্ধা ও সীমাহীন ভালোবাসা। ‘বাংলা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ এক ও অবিচ্ছেদ্য। এ কারণেই ‘জয় বাংলা’ শব্দ উচ্চারণ করার পরে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ না-বললে বাঙালি জাতির অন্তরের আবেগ মুক্তি পায় না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের জাতির পিতা, শোষিত মানুষের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান একদিনেই ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠেননি। তার ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠার পেছনে আছে দীর্ঘদিনের আপসহীন সংগ্রাম ও কারান্তরালে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করার বেদনাবিধুর ইতিহাস। পৃথিবীর আর কোনো জাতি এত রক্ত আর মৃত্যুর বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেনি। এই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত রচনার সংকলন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই আয়োজন।

 

১৯৭১ : আন্তর্জাতিক পরিসর
আফসান চৌধুরী (সম্পাদনা)
শ্রেণি: মুক্তিযুদ্ধের দলিল ও গবেষণাপত্র
প্রকাশনী: ঐতিহ্য, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ২৯৬; মূল্য: ৬৫০ টাকা

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছে। তবে তাতে মুক্তিযুদ্ধ ঘিরে বিশ্বের বহুপক্ষীয় অবস্থান সম্পর্কে তথ্যবহুল এবং একই সঙ্গে বিশ্লেষণঋদ্ধ উপাদান অনেকাংশেই অপ্রতুল। এই বইয়ে বাংলাদেশের আবির্ভাবকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘসহ বৃহৎ শক্তিসমূহের নানামুখী তৎপরতার পাশাপাশি অঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংস্থাগুলোর অবদানও আলোচিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চায় এই বই একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।

 

রাজনীতি আইন ও সুশাসন
ড. বদিউল আলম মজুমদার
শ্রেণি: বাংলাদেশের রাজনীতি
প্রকাশনী: আগামী প্রকাশনী, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ২২৪; মূল্য: ৭০০ টাকা

দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকেই বাংলাদেশে রাজনীতি নিতান্তই একটি ‘কন্টাক্ট স্পোর্টসে’ বা দ্বন্দ্বাত্মক প্রতিযোগিতায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘ব্লাড স্পোর্টে’ পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ব্যবহার করে আলাপ-আলোচনা, সংলাপ ও কম্প্রোমাইজ বা ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাজপথে শক্তি প্রদর্শনে এবং দ্বন্দ্ব-হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে। বস্তুত, রাজনীতি এখন নিতান্তই একধরনের ‘খেলায়’ পেশি শক্তিনির্ভর হয়েছে। বর্তমান গ্রন্থে সন্নিবেশিত লেখনীগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংকটের এমন বিষয়াদিই আলোচিত হয়েছে।

 

ছেঁটে ফেলা বটগাছ, খেয়ে ফেলা নদী
আনু মুহাম্মদ
শ্রেণি: সমসাময়িক বিষয়ক প্রবন্ধ
প্রকাশনী: আদর্শ, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৯২; মূল্য: ৪৮০ টাকা

দেশে এখন বড় রাজনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থা চলছে। পাশাপাশি দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটেও আক্রান্ত। একদিকে রিজার্ভ সংকট, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ। এর পাশাপাশি আছে লাগামছাড়া সন্ত্রাস, দখল, লুণ্ঠন, সম্পদ পাচার। দৃশ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশে ঋণ ও দুর্নীতির পাহাড়; এর তাণ্ডবে বন, নদী, মানুষ, পশু, পাখি, জীববৈচিত্র্য তথা সর্বপ্রাণের বিপণ্ন দশা। দেশের নাগরিকদের জন্য আছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা আর বিচারহীনতা। আছে শিক্ষা ও চিকিৎসার দুর্গতি। ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের চেষ্টায় একতরফা নির্বাচনের আয়োজনে দেশজুড়ে ধরপাকড়, সন্ত্রাস, আতঙ্ক। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকার- সবই বিপর্যস্ত। এই বইয়ের মূল মনোযোগ এখানেই।

 

গরিবের রবীন্দ্রনাথ
আহমদ ছফা, সলিমুল্লাহ খান (সম্পাদিত)
শ্রেণি: প্রবন্ধ- রবীন্দ্রনাথ
প্রকাশনী: মধুপোক, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৪৩; মূল্য: ৪৫০ টাকা

‘গরিবের রবীন্দ্রনাথ’ সংকলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে আহমেদ ছফার মনোভাবের একটা সহজ বিবর্তন চোখে পড়ে। বাংলাদেশে জাতীয় চেতনা বিকাশের যুগে তিনি রবীন্দ্রনাথে যতখানি সঘন মুগ্ধতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তার জীবনের শেষের দিকে তা ততখানি প্রগাঢ় থাকেনি। ১৯৯২ সালের পর, হতে পারে অযোধ্যার ঘটনাবলির ছায়ায় তার মুগ্ধতায় একটু বিচারের নোনাও মিশেছিল। তিনি প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন। সেই প্রশ্নপত্রের কিছু কিছু এই গ্রন্থে পাওয়া যাবে। জীবদ্দশায় আহমদ ছফা লিখিত ও কথিত রবীন্দ্র রচনাবলি কখনো এক জায়গায় সংগৃহীত হয়নি। এই প্রথম তার এসব রচনা একখণ্ডে প্রকাশ পেল। 
এখানে মোট ১৫টি (তর্জমাশুদ্ধ ষোলো) লেখা পাবেন। এর মধ্যে ইংরেজি লেখাটি এবং তার বাংলা তর্জমার প্রথম প্রকাশ এখানেই।

 

বাংলাদেশের অর্থ খাত ও নীতি-অনীতির দ্বন্দ্ব
বিরূপাক্ষ পাল
শ্রেণি: বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১২০; মূল্য: ৩৫০ টাকা

আমাদের অর্থব্যবস্থায় যারা নীতিনির্ধারকের অবস্থানে আছেন, নীতির চেয়ে অনীতির প্রয়োগে তাদের বেশি উৎসাহী দেখা যায়। এতে বাংলাদেশের মতো একটি সম্ভাবনাময় ও উন্নয়নমুখী অর্থনীতিতে লাভ নাকি ক্ষতির পরিমাণ বেশি হচ্ছে? সে প্রশ্বের উত্তর খোঁজা ও সরস বিশ্লেষণ রয়েছে এই বইয়ে। বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি, যা ঠেকাতে সরকারি নীতিনির্ধারকরা তাত্ত্বিক নিষ্ঠা কিংবা সদিচ্ছার পরিচয় দিতে পারেননি। সংকটে পড়েছে অর্থনীতি। বেড়েছে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জন করতে পারেনি। প্রবৃদ্ধিও গেছে নেমে। প্রাসঙ্গিক সব প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বই।

 

নব্বুই-এর অভ্যুত্থান
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও আবুল হাসানাত (সম্পাদক)
শ্রেণি: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
প্রকাশনী: ঐতিহ্য, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৮৬; মূল্য: ৪০০ টাকা

নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থানের একদিকে রয়েছে জনমতের জয়, অন্যদিকে স্বৈরশাসনের পরাজয়। শাসক যদি অত্যাচারী হয় তা হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার হাত থেকে অব্যাহতির পথটি হচ্ছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অপসারণ। কিন্তু যেখানে নির্বাচন হয় না, জোর করে ক্ষমতা দখল করে একদল শাসক নির্বাচনের নামে প্রহসনের সৃষ্টি করে এবং নিজেদের জবরদখলকে বৈধ করে নেয় সেখানে পরিবর্তনের আর কোনো উপায় থাকে না। পাল্টা অভ্যুত্থান ভিন্ন। জবরদখল একটি অভ্যুত্থান, গোপনে, জনগণের অভ্যুত্থানও একটি অভ্যুত্থান, প্রকাশ্যে। একটির চরিত্র ষড়যন্ত্রের, অপরটির আন্দোলনের। জবরদখল ঘটে রাজপ্রাসাদে, গণ অভ্যুত্থান রাজপথে।

 

ছাতা ও চশমা
আন্দালিব রাশদী
শ্রেণি: বিবিধ বিষয়ক প্রবন্ধ
প্রকাশনী: নয়নজুলি, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৬৪; মূল্য: ২৩০ টাকা

ইউরোপে ছাতা ছিল মূলত নারীত্বের প্রতীক। ঘর থেকে বের হওয়া নারীর সঙ্গে ছাতা থাকবেই। কিন্তু ১৮ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পুরুষরাও ছাতা ব্যবহার শুরু করে। কলাপসিবল আব্রেলা- ভেঙে ভাঁজ করা যায় এমন ছাতা আবিষ্কার করতে ইংরেজদের ২ হাজার বছর লেগে যায় অথচ খ্রিষ্টজন্মের বহু বছর আগে মৃত চীন রাজা ওয়াং কুয়াংয়ের কবরে কলাপসিবল আমব্রেলা পাওয়া যায়। চশমা কি সার্বক্ষণিক পরিধেয়? ক্ষীণ দৃষ্টি সারাতে যেমন পাণ্ডিত্যের প্রকাশেও তেমন চশমা চাই। চশমাধারী অ্যারন হিল বলেছেন, ‘তুমি পৃথিবীকে নোংরা বলতে যেও-না, আসলে তুমি চশমার কাচ মুছতে ভুলে গেছ।’

 

আমি আবু বকর
আসিফ নজরুল
শ্রেণি: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৩৬; মূল্য: ৩৫০ টাকা

ভয়াবহ এক অভিযোগ তুলে নির্যাতন করা হয়েছিল তাকে। বের করে দেওয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে। বাঁচার তাগিদে সে একসময় যোগ দেয় নির্যাতকদের দলে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। জেলখানায় প্রিয় বন্ধুর পরিণতি জেনে একসময় মুখোমুখি হয় নতুন জিজ্ঞাসার। ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে তুমি কীভাবে করো স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন?’ ‘স্যার, আমি করি না। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে যে শাস্তি দেন মাথা পেতে নেব।’ প্রক্টর স্যার হুংকার দিয়ে ওঠেন। কী প্রমাণ চাও তুমি? তোমার ফোন পরীক্ষা করেছে ছেলেরা। অবশ্যই তুমি স্বাধীনতাবিরোধীদের লোক। আমি চিৎকার করে উঠি, এসব সত্যি না, স্যার। তুমি আমাকে চ্যালেঞ্জ করো! আবার তোমার এত বড় সাহস, তুমি ফোন করো আমাকে! স্যার! আমি কেঁদে ফেলি এবার।

 

দেশভাগ ১৯৪৭
জাহিদ হোসেন
শ্রেণি: ঔপনিবেশকাল ও ভারত বিভাগ
প্রকাশনী: অন্বেষা প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৬৬৪; মূল্য: ৮০০ টাকা

ভারতবর্ষের ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি ১৯৪৭-এর দেশভাগ। দেশভাগ হয়েছিল তিন পক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে। যেখানে ছিল না মেহনতি মানুষের প্রতিনিধিত্ব। দেশভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের। লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছে। সব ফেলে শুধু সন্তানদের নিয়ে মানুষ দেশত্যাগ করেছিল। তাদের চোখে-মুখে ছিল হতাশা, উদ্বাস্তু হওয়ার বেদনা এবং মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা।

 

সুন্দরবনের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য
মৃত্যুঞ্জয় রায়
শ্রেণি: পরিবেশ ও প্রকৃতি
প্রকাশনী: অনুপম প্রকাশনী, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ২১৫; মূল্য: ৫০০ টাকা

সুন্দরবনের সব জীবের সমাহার থাকবে বইটিতে। বইটি আবার হতে হবে বিজ্ঞানের বই। সেটি নিখুঁতভাবে বিজ্ঞানের তথ্য দিয়ে লেখা এক বিশাল দুরূহ কাজ, সময় দরকার। এর আগে সুন্দরবনের ওপর যেসব লেখা লিখেছি সেগুলো ছিল সাহিত্যধর্মী। এখনকার বইটি হবে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গবেষণাধর্মী। দুটোর আঙ্গিক আলাদা। বইটিতে বিভিন্ন গবেষকদের গবেষণা তথ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সন্নিবেশ ঘটিয়েছি। এটি মৌলিক কোনো বই না, তাদের বিভিন্ন তথ্যের সন্নিবেশ। বিজ্ঞানের বইগুলো তো এরকমই নয়, লেখকের মনগড়া তথ্য থাকে না, তবে ভাষা থাকে।

 


জলের অক্ষরে লেখা
আহমাদ মোস্তফা কামাল
শ্রেণি: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩১০; মূল্য: ৬৯৫ টাকা

জীবনের ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়ানো কয়েকজন মানুষ। যখন নিজের দিকে ফিরে তাকাতে হয়, অনেক প্রশ্নের মীমাংসা চায় মন- উত্তর খোঁজার জন্য ফেলে আসার দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকাতে হয়, সেরকম এক ক্রান্তিলগ্নের গল্প এটি। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে তারা, সামনেও রয়েছে অনেকটা পথ। সেই পথ পেরোবার সম্ভাব্য উপায়ও খোঁজে না। বন্ধু তারা, দীর্ঘকাল পরস্পরের হাত ধরে আছে, এখনো পরস্পরকে সহায়তা করতে চায়, এ গল্প সেই অমলিন বন্ধুত্বেরও। কিন্তু উপন্যাস কখনো কয়েকজনে সীমাবদ্ধ থাকে না, তাদের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত মানুষও আসেন তাদের বেদনা ও দীর্ঘশ্বাস নিয়ে, প্রশ্ন ও সংকট নিয়ে, আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে। এ গল্প তাদেরও।

 

ইহযৌবন
স্বকৃত নোমান
শ্রেণি: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ২৮৬; মূল্য: ৪৯৫ টাকা

কুশল আদিত্যকে তাড়িয়ে বেড়ায় কামিনী ফুলের ঘ্রাণ। কামিনীর ঘ্রাণ তাকে তাড়াতে তাড়াতে নিয়ে যায় মধ্যযুগে রচিত এক কাহিনিকাব্যের কাছে...। ইহযৌবন নামের এই বৃত্তান্তে দেখতে পাওয়া যাবে বোমা হামলায় নিহত এয়াকুত মস্তানকে। এক বৃষ্টিস্নাত ভোরে সে অক্ষত উঠে আসে কবর থেকে, কারু বাঙালি ছদ্মনামে ঘুরে বেড়ায় নগরীর রাস্তাঘাটে। আর দেখতে পাওয়া যাবে জ্যোৎস্নার ডাকে সাড়া দেওয়া উদয়কে, ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পেতে নৌকায় বসতি গড়া হারিসকে, নাম-পরিচয় ভুলে যাওয়া এক ভয়ংকর খুনিকে এবং কুয়াশার সফেদ সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে মরে যেতে চাওয়া এক দুর্ধর্ষ চোরকে। এই উপন্যাস স্বকৃত নোমানের এক বিস্ময়কর নির্মাণ।

 

আগুনডানা মেয়ে
সাদাত হোসাইন
শ্রেণি: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩০৪; মূল্য: ৮০০ টাকা

মা যখন টুপ করে মরে গেল আর কাপড়ের পুটুলিতে পেঁচানো মাংসের দলার মতন মনুকে রেখে গেল এইটুকু, তখন থেকেই পাখি জানত, তার জন্ম অন্যের ভার কাঁধে নিয়ে চলার জন্য। কিন্তু তার ভার বইবার এ জগতে কেউ নেই। এনিয়ে পাখির যে খুব আক্ষেপ ছিল তাও নয়। রবং এসবে তার অভ্যাসই হয়ে গিয়েছিল। কতদিন ভাতের হাঁড়ির শেষ ভাতটুকু বাবা আর মনুকে খাইয়ে নিজে ঢকঢক করে দু-মগ পানি গিলে বিছানায় শুয়ে পড়েছে তার ইয়ত্তা নেই! পাশে থাকা বাবা কিংবা মনু তা কখনো টেরই পায়নি।... দুঃখ ভুলতে কাউকে লাগে না তার। সে নিজেই নিজের আশ্রয়। কিন্তু জীবন জানত না, সে সেই পুড়ে পাওয়া ছাইয়ের ভেতর থেকে জেগে ওঠা ফিনিক্স পাখি! হার না মানা আগুনডানা মেয়ে।

মহাকাব্যের অনুবাদক মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
মহাকাব্যের অনুবাদক মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ
কালীপ্রসন্ন সিংহ

সাংবাদিক কৃষ্ণদাস পাল রায়বাহাদুর লিখেছেন, ‘কিন্তু তারুণ্যের অস্থির জলের তলদেশে উদারতার একটি রূপালি স্রোত বর্তমান ছিল, উদারতা, ভাল সহকারিতা এবং উচ্চ নজর, যা খুব কম লোকই প্রশংসা না করে থাকতে পারে। তার সমস্ত ত্রুটি সত্ত্বেও কালীপ্রসন্ন ছিলেন একটি উজ্জ্বল চরিত্র।’…

বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্য ‘মহাভারত’ (১৮৫৮-৬৬) বাংলা অনুবাদ এবং ‘হুতোম প্যাঁচার নক্‌শা’ (১৮৬১) গ্রন্থ লেখার মাধ্যমে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। বড় কীর্তি হলো, তার সম্পাদনায় আঠারো পর্ব মহাভারত গদ্য আকারে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে, যা এখনো ব্যাপকভাবে পঠিত। পুরো গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বারা পরিদর্শিত হয়। ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রিয় ছাত্র। তার রচিত মহাভারত অনুবাদটি মহারানি ভিক্টোরিয়াকে উত্‍সর্গ করেছিলেন। তিনি একাধারে লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, লোকহিতৈষী, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। জন্ম ১৮৪০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ‘সিংহ’ পরিবারে। পিতা বাবু নন্দলাল সিংহ ও মাতা ত্রৈলোক্যমোহিনী দেবী। তিনি ১৮৭০ সালের ২৪ জুলাই পরলোক গমন করেন।

কায়কোবাদ: মহাশ্মশান ও জাতীয়তাবোধ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২২ পিএম
কায়কোবাদ: মহাশ্মশান ও জাতীয়তাবোধ
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে মুসলিম সাহিত্যিকদের ভূমিকা তেমন অগ্রগণ্য নয়। ওই সময়ে যারা সাহিত্যচর্চা করতেন প্রায় সবাই রত ছিলেন দোভাষী পুঁথিসাহিত্য, ঈশ্বর বন্দনা ও নর-নারীর প্রণোয়োপাখ্যান রচনায়। আবদুল হাকিম বা এরকম দু-একজন বাদে অধিকাংশের চেতনায় এ দেশের মুক্ত বাতাসের চেয়ে আপন ছিল মরুভূমির লু’হাওয়া। আরব, ইরান ছিল বেশি আত্মীয়। জাতীয়তাবোধের চেয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভিনদেশি মুসলিম বীরত্বের গৌরবগাথা। এমনকি বাঙালি জাতীয়তাবাদ বা নবজাগরণের সূচনা হওয়ার পরও তাদের এসব স্পর্শ করেনি। ব্যতিক্রম কায়কোবাদ। তিনি  সময়ের ধ্বনি ও প্রয়োজনকে খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছিলেন।…

কায়কোবাদ। যিনি মহাকবি নামে পরিচিত। আরও পরিচিত মহাশ্মশানের মহাকবি হিসেবে। কায়কোবাদ বললেই মহাশ্মশান কিংবা মহাশ্মশান উচ্চারণ করলেই কবি কায়কোবাদের নাম বাঙালির মানসপটে ভেসে ওঠে। মহাশ্মশান মহাকাব্য ছাড়াও এই কবি দশের অধিক কাব্যের রচয়িতা ছিলেন। লিখেছিলেন আরও কয়েকটি মহাকাব্য। লিখেছিলেন গদ্য ও পদ্যমিশ্রিত এক ধরনের রচনা ‘গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।’ প্রকাশিত হয়েছিল তার মৃত্যুর বহু বছর পর- ১৯৭৯ সালে।

তিনি যে সময়ে মহাকাব্য রচনায় ব্রতী হন সেই সময় ছিল গীতিকবিতার স্বর্ণকাল। বিংশ শতাব্দীর ওই  সময়টা মহাকাব্য রচনার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। তবুও তিনি নিবিষ্ট থাকলেন। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে এবং তার কবি-মানসের মূল দর্শন উদ্ধার করতে গেলে কয়েকটি উপাদানের গভীরে যেতে হবে। এক. মহাশ্মানের ভূমিকা, দুই. মহাশ্মশানের কবিতার কিছু অংশ পাঠ, তিন. মহাশ্মমানের বিষয় ও কবির এতদ্বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি।

প্রথমেই আসা যাক মহাশ্মশানের ভূমিকায়। কবি সেখানে লিখেছেন, ‘সাহিত্যের বাজারে আজকাল কবিতার বড়ই ছড়াছড়ি। কিন্তু দুঃখের বিষয় বঙ্গসাহিত্যে মহাকাব্যের জন্ম অতি বিরল। মধুসূদনের পর হইতে আজ পর্যন্ত মহাকবি হেমচন্দ্র ও নবীনচন্দ্র ব্যতীত কয়জন কবি মহাকাব্য লিখিয়াছেন? এখনকার কবিগণ কেবল নদীর জল, আকাশের তারা ফুলের হাসি, মলয়পবন ও প্রিয়তমার কটাক্ষ লইয়াই পাগল। প্রেমের ললিত ঝংকারে তাহাদের কর্ণ এরূপ বধির যে, অস্ত্রের ঝনঝনি বীরবৃন্দের ভীষণ হুংকার তাহাদিগের কর্ণে প্রবেশ করিতে অবসর পায় না। তাহারা কেবল প্রেমপূর্ণ খণ্ড কবিতা লিখিয়া নিজেরকে গৌরবান্বিত করেন।

খণ্ড কবিতা কেবল কতগুলি চরণের সমষ্টি, সামান্য একটি ভাব ব্যতীত তাহার বিশেষ কোনো লক্ষ্য নাই, কিন্তু মহাকাব্য তাহা নহে, তাহাতে বিশেষ একটা লক্ষ্য আছে, কেন্দ্র আছে। কবি কোন একটি বিশেষ লক্ষ্য ঠিক করিয়া ও ভিন্ন ভিন্ন গঠনপ্রণালীর অনুসরণ করিয়া নানারূপ মালমসলার যোগে বহু কক্ষ সমন্বিত একটি সুন্দর অট্টালিকা নির্মাণ করেন।

ইহার প্রত্যেক কক্ষের সহিত প্রত্যেক কক্ষেরই ঘনিষ্ট সম্বন্ধ, অথচ সবগুলিই পৃথক, সেই পৃথকত্বের মধ্যেই আবার একত্ব, ইহাই কবির নূতন সৃষ্টি ও রচনা কৌশল। ইহাই মহাকাব্য।’ বোঝা যাচ্ছে, প্রচলিত পথের পথিক তিনি হতে চাননি। প্রেমের ললিত ঝংকারের পরিবর্তে তিনি শুনেছিলেন অস্ত্রের ঝনঝনানি। সেই অস্ত্রের ঝনঝনানি কত গভীর খাদে নিয়ে যায় মানবতাকে, সেই অস্ত্রের ঝনঝনানি মানুষের অগ্রগামিতাকে কত পশ্চাতে নিয়ে যায়, সেই অস্ত্রেও ঝনঝনানি কত রক্তপাত ঘটায় তা তারা বোঝেনি। অস্ত্রের ঝনঝনানির ভেতরে ঝরে যাওয়া রক্তস্রোত যখন মিশে একাকার হয়ে যায় তখন পৃথক করা যায় না কে হিন্দু কে মুসলমান।

কবি কায়কোবাদ সেই মিশে যাওয়া রক্তের ভেতরে দেখেছিলেন ঐক্যের সুর। তাই তো মানবশরীরে প্রবহমান রক্তের জয়গান গেয়েছেন। রক্তপাতের নয়। যে রক্তপাত হিন্দুকে আরও হিন্দু করে তোলে, মুসলমানকে আরও মুসলমান। তিনি দেখাতে চেয়েছেন হিন্দু হিন্দু নয়, মুসলমান মুসলমান নয়। তিনি দেখাতে চেয়েছেন হিন্দু-মুসলমান আসলে মানুষ। দেখাতে চেয়েছেন ভারতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য আসলে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত ইতিহাস।

বলবার অপেক্ষা রাখে না যে, মহাশ্মশানের কাহিনি তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। সঙ্গে রয়েছে কবি-কল্পিত কয়েকটি প্রেমোপাখ্যান। ইতিহাসের সত্যের সঙ্গে তিনি কবি-কল্পনার কিংবা বলা যায় কাব্যসত্যের মিলমিশ করেছেন। সচেতন পাঠক মহাশ্মান পাঠে ঠিকই পৃথক করে ফেলবেন ইতিহাসের সত্য আর কবিতার সত্যকে। মহাশ্মশানের মূল শক্তি সেখানেও নয়। এটা কাঠামো, মূল শক্তি অন্য জায়গায়।

সেই জায়গাটা ধরতে গেলে প্রথমে যেতে হবে ইতিহাসের সত্যের কাছে। আমরা জানি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল মারাঠা-শিখ ও আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালির মধ্যে। যুদ্ধে মহারাষ্ট্রীয়দের পরাজয় হয়। আহমদ শাহ বিজয়ী হন। ভারতে হিন্দু রাজ্য পুনঃস্থাপনের সংকল্পে হিন্দুত্ববাদী মারাঠারা যখন অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, কাবুল অধিপতি আহমদ শাহ আবদালির সহায়তার রোহিলার অধিপতি নজীবদ্দৌলা ভারতে মুসলিম শক্তির সংগঠন করেন। যুদ্ধে মুসলমানরা জয় লাভ করে।

ইতিহাসের এই সত্যের কাছে কবি কায়কোবাদ তার কাব্যসত্তাকে বিলীন করেননি। তিনি অনুধাবন করেছিলেন ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে মানবভাগ্যের উত্থান-পতনের ভয়ংকর পরিণাম। ইতিহাসের সত্য যেখানে মুসলমানরা জয়ী। কায়কোবাদের মহাশ্মশানের সত্য সেখানে মানবতার পরাজয়। ভূমিকায় তিনি বলেছিলেন, ‘একপক্ষে পানিপথ যেমন হিন্দু গৌরবের সমাধিক্ষেত্র, অপরপক্ষে মুসলমান গৌরবেরও মহাশ্মমান।’ তিনি এখানে হিন্দুকে ছোট করেননি, মুসলমানকেও। উভয়ই বীর। কিন্তু তাদের পরিণাম কীসে? পরিণাম শক্তিক্ষয়ে ও ধ্বংসে।

ঔপনিবেশিক শাসনামলে হিন্দু-মুসলমানকে এরূপ বীর রূপে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি আসলে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত শক্তির ভেতরে দেখছিলেন জাতীয়তাবোধের উপাদান ও চেতনা। এখানেই মহাশ্মশান শুধু তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাপিয়ে কাব্যমূল্যে ও জাতীয়তাবোধের উপাদানের আলোকে মহান হয়ে ওঠে। এই জাতীয়তাবাদী চেতনার গভীরে হিন্দু-মুসলমান তথা এই সমগ্র সম্প্রদায়ের মিলিত শক্তিতে যে অমিত তেজ রয়েছে, যে বীরত্বব্যঞ্জক গুন রয়েছে তারই মহিমাকীর্তনই মহাশ্মশানের লক্ষ্য ও কেন্দ্র। রক্তপাত ও বীরগাথা এর লক্ষ্য ও কেন্দ্র নয়। কিংবা মুসলমানকে বিজয়ী দেখানো বা হিন্দুকে পরাজিত দেখিয়ে স্থুল এবং তথাকথিত আত্মপ্রসাদ লাভ- কোনোটাই নয়। মহাশ্মশান কখনোই নিছক ইতিহাসের একরৈখিক সরল উপস্থাপন নয়। 

মহাশ্মশান মহাকাব্যের নিম্নোক্ত অংশটুকুতেও কায়কোবাদের মূল অভীষ্ঠ কী, তা অনুধাবন করা যায় ‘তুমি মুসলমান/ আমি হিন্দু, কি পার্থক্য প্রেমের নিকটে/ হিন্দু-মুসলমানে নাথ? নিজে প্রেমময়/জগদীশ, প্রেম শ্রেষ্ঠ সর্ব ধর্ম্ম হতে।/ হিন্দু মুসলমান করে সৃজেছে বি বিধি/ জীবশ্রেষ্ঠ মানবেরে-তোমারে আমারে?/ আমরা মানব মূর্খ পড়ি ভ্রান্তির ঘোরে/সৃজিয়াছি জাতিভেদ ধ্বংসের কারণ/ হিংসা বশে, ভাবিতে তা হৃদয় শিহরে।’

কবিতাংশের এটুকুতেই কবির অন্তর্দৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায়, যা মহাশ্মমানের প্রাণভোমরা।

অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত, নয় শ পৃষ্ঠার এই মহাকাব্য মুসলিম কবিদের বাংলা ভাষায় লিখিত সর্বপ্রথম মহাকাব্য।

মহান এই কবি জন্মেছিলেন ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লবের বছর- ১৮৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। জন্মদিনে তাকে প্রণতি জানাই।

মুক্তচিন্তার অনন্য ব্যক্তিত্ব প্রথাবিরোধী গবেষক ড. আহমদ শরীফ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১৯ পিএম
মুক্তচিন্তার অনন্য ব্যক্তিত্ব প্রথাবিরোধী গবেষক ড. আহমদ শরীফ
ড. আহমদ শরীফ

মধ্যযুগের সাহিত্য ও ইতিহাসের বিদগ্ধ পণ্ডিত ড. আহমদ শরীফ পঞ্চাশের দশক থেকে নিয়মিতভাবে লেখা শুরু করেছিলেন এবং তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলমান ছিল। তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব যাকে উপেক্ষা করা যায়, তবে কোনো অবস্থাতেই তার বিশাল কীর্তি অস্বীকার করা যায় না। নিজস্ব দর্শন, চিন্তা ও বৈশিষ্ট্যের কারণে বোদ্ধা সমাজের কাছে তিনি ছিলেন বহুল আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত এবং তার মৃত্যুর পরও এ ধারা বহমান। ভাববাদ, মানবতাবাদ ও মার্কসবাদের যৌক্তিক সমন্বয় প্রতিফলিত হয়েছিল তার চিন্তাচেতনা, ধ্যানধারণা, আচার-আচরণে, বক্তব্য ও লেখনীতে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও সমাজ সম্পর্কে পাহাড়সম গবেষণাকর্ম, সহস্রাধিক প্রবন্ধ তাকে কিংবদন্তি পণ্ডিত হিসেবে উভয় বঙ্গে ব্যাপকভাবে পরিচিতি দিয়েছে।...

সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যে ড. আহমদ শরীফই সম্ভবত একমাত্র ব্যক্তি তিনি সবার কাছে প্রিয় হওয়ার দুর্বলতাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জন্ম ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে। মৃত্যু ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। পিতা আব্দুল আজিজ ও মাতা সিরাজ খাতুন।

প্রথম স্কুল চট্টগ্রাম শহরের আলকরণ মিউনিসিপ্যাল প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবেশিকা পাস করেন পটিয়া হাইস্কুল থেকে, আর আইএ, বিএ পাস করেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ও ১৯৬৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার অভিসন্দর্ভের বিষয় ‘সৈয়দ সুলতান, তাঁর গ্রন্থাবলি ও তাঁর যুগ’। পেশাগত জীবন শুরু (১৯৪৫-৪৯) কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে। পরে এক বছরের কিছু বেশি সময় রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠান সহকারী হিসেবে থাকার পর ১৯৫০-এর শেষের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগ দিয়ে একটানা ৩৪ বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৪ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে তিনি বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সিন্ডিকেট সদস্য, সিনেট সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, শিক্ষকদের ক্লাবের সভাপতি ও কলা অনুষদের চারবার নির্বাচিত ডিন ছিলেন। সেই সঙ্গে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অন্যতম রূপকার ছিলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম ‘কাজী নজরুল ইসলাম অধ্যাপক’ পদে ১৯৮৪-৮৬ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

দ্রোহী সমাজ পরিবর্তনকামীদের কাছে তার পুস্তকরাশির জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়, তার রচিত পুস্তকরাশির মধ্যে ‘বিচিত চিন্তা’, ‘স্বদেশ অন্বেষা’, ‘মধ্যযুগের সাহিত্যে সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ’, ‘বাঙলার সুফী সাহিত্য’, ‘বাঙালির চিন্তাচেতনার বিবর্তনধারা’, ‘বাঙলার বিপ্লবী পটভূমি’, ‘এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা’, ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’, ‘প্রত্যয় ও প্রত্যাশা’ এবং বিশেষ করে দুই খণ্ডে রচিত ‘বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য’ তার অসামান্য কীর্তি। 

আহমদ শরীফ বড় হয়ে উঠেছিলেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের দুর্লভ অমূল্য পুঁথির ভাণ্ডার ও সাময়িক পত্রপত্রিকার সম্ভারের মধ্যে। তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পিতৃব্য আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ-এর অনুপ্রেরণায় মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও সমাজ সম্পর্কে পাহাড়সম গবেষণাকর্ম তাকে কিংবদন্তি পণ্ডিতে পরিণত করেছে। উভয় বঙ্গে এ বিষয়ে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় এবং অদ্যাবধি স্থানটি শূন্য রয়ে গেছে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে তিনি মধ্যযুগের সাহিত্য ও সামাজিক ইতিহাস রচনা করে গেছেন। যা ইতিহাসের অন্যতম দলিল। বিশ্লেষণাত্মক তথ্য, তত্ত্ব ও যুক্তিসমৃদ্ধ দীর্ঘ ভূমিকার মাধ্যমে তিনি মধ্যযুগের সমাজ ও সংস্কৃতির ইতিহাস বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে দিয়ে গেছেন, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমর গাঁথা হয়ে থাকবে। তিনি জীবৎকালে বেশ কিছু পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক (১৯৯১), পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সম্মান সূচক ডিলিট’ ডিগ্রি পেয়েছিলেন।

বিশাল পুস্তকরাশির মধ্যে যেমন মানুষের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তির কথা রয়েছে, তেমনি তৎকালীন পাকিস্তানের বেড়াজাল থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নেতা তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে গঠিত ‘নিউক্লিয়াস’ স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদেরর সঙ্গে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার একনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ১৯৬৫ সালে রচিত ‘ইতিহাসের ধারায় বাঙালী’ প্রবন্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে বাঙলাদেশে এবং ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি উল্লেখ ছিল এবং পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব সময় থেকে তার মৃত্যু অবধি তিনি দেশের সব ক্রান্তিলগ্নে কখনো এককভাবে, কখনো সম্মিলিতভাবে তা প্রশমনের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন।

উপমহাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে অসামান্য পণ্ডিত, বিদ্রোহী, অসাম্প্রদায়িক, যুক্তিবাদী, দার্শনিক, বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব, প্রগতিশীল, মানবতাবাদী, মুক্তবুদ্ধির ও নির্মোহ চিন্তার ধারক ড. আহমদ শরীফকে ধর্মান্ধরা শাস্ত্র ও প্রথাবিরোধিতার কারণে ‘মুরতাদ’ আখ্যায়িত করেছিল। কথা ও কর্মে অবিচল, অটল, দৃঢ় মনোভাবের নাস্তিক সবরকমের প্রথাসংস্কার শৃঙ্খল ছিন্ন করে ১৯৯৫ সালে লিপিবন্ধ করা ‘অসিয়তনামা’র মাধ্যমে মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান করে গেছেন। সেই অসিয়তনামায় উল্লেখ ছিল ‘চক্ষু শ্রেষ্ঠ প্রত্যঙ্গ, আর রক্ত হচ্ছে প্রাণ প্রতীক। কাজেই গোটা অঙ্গ কবরের কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই তো বাঞ্ছনীয়।’ তার উইল অনুযায়ী মৃত্যুর পর তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য দান করে দেওয়া হয়।

ড. আহমদ শরীফের মতো হাতেগোনা চার থেকে পাঁচজন লেখক পাওয়া যাবে, যারা কোনো সময়ই সরকারি বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার বেড়াজালে নিজেদের জড়াননি। তাই তারা মননশীল লেখক হিসেবে বা তাদের চিন্তাসমৃদ্ধ গ্রন্থগুলো লেখাপড়া জানা মানুষের কাছে অদ্যাবধি অজ্ঞাত ও অপঠিত থেকে গেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে মৃত্যুর পরবর্তী বছর পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে দুটি করে মৌলিক রচনাসংবলিত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার লিখিত সমাজ-সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর শতাধিক মননশীল গ্রন্থ শুধু অপঠিতই নয়, অগোচরে থেকে গেছে। তার প্রথম সম্পাদিত গ্রন্থ ‘লায়লী মজনু’ (১৯৫৭) এবং মৌলিক গ্রন্থ ‘বিচিত চিন্তা’ (১৯৫৯)। আহমদ শরীফ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বদেশ চিন্তা সংঘ কর্তৃক ড. আহমদ শরীফ স্মারক বক্তৃতা ও পুরস্কার প্রবর্তন করে প্রতিবছর এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।