ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার টিভিতে আজকের খেলা দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যেভাবে নির্ধারিত হবে সেরা ৮ ‘তৃতীয় দল’ কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’ লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
Nagad desktop

বিক্রিতে মন্দা, বিপুল ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশকদের

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:২৩ পিএম
বিক্রিতে মন্দা, বিপুল ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশকদের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

অমর একুশে বইমেলা শেষ হতে বাকি আর তিন দিন। চিরায়ত নিয়মানুযায়ী বইমেলার শেষ সপ্তাহে বইয়ের বিকিকিনি থাকে তুঙ্গে। কিন্তু এবারের বইমেলার চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় বইমেলার শুরুতে যে মন্দাভাব শুরু হয়েছে, তা বলবৎ রয়েছে শেষ সপ্তাহে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বইমেলার একাধিক প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এমন কথা। 

তাদের ভাষ্যে, শেষ বেলায় যতটুকু দর্শক-পাঠক সমাগম হয়েছে, বইমেলায় তাদের সিকিভাগই বই কেনেননি।

প্রকাশনী সংস্থা অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘মেলার শুরু থেকেই তো মন্দাভাব লেগে আছে। দর্শক, পাঠক সমাগম নেহায়েত কম হয়েছে তা বলব না। যথেষ্টই ছিল সব কটি দিন। কিন্তু তারা এবার তেমন বই কিনছেন না। প্যাভিলিয়ন বা স্টলগুলোতে এসে বই দেখে চলে যাচ্ছেন।’ 

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বইমেলার মূল আকর্ষণ লেখকরা। আমাদের প্রকাশনীতে বাংলাদেশের প্রথিতযশা সব লেখকের বই থাকলেও তারা কিন্তু বইমেলায় আসেননি। তাদের টানে অনেক তরুণ আসেন, তারা বই কেনেন, বই নিয়ে কথা বলেন। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অনেক লেখক বইমেলাতে আসতে চাননি। তাই পাঠকরাও বইমেলাবিমুখ হয়েছেন।’ 

অবসর প্রকাশনীর কর্ণধার নুর-ই-মুনতাকিম আলমগীর বলেন, ‘চিরায়ত বইয়ের জন্য অবসর প্রকাশনীতে তরুণদের ভিড় লেগে থাকত। সেই ভিড়টা এ বছর নেই। তরুণরা ক্রমেই বইবিমুখ হচ্ছেন। এ বছর যত টাকা লগ্নি করেছি বইয়ের জন্য, তার কত শতাংশ উঠে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

‘ইত্যাদি’র অন্যতম কর্ণধার জহিরুল আবেদিন জুয়েল অবশ্য দায় দেখেন বইমেলার পরিবেশের। ইত্যাদির প্যাভিলিয়নে গতকাল সন্ধ্যায় যখন কথা হচ্ছিল জুয়েলের সঙ্গে, তখন পাশে দেখা গেল ভ্রাম্যমাণ হকারদের উৎপাত। এই দৃশ্য দেখিয়ে প্রকাশক জুয়েল বলেন, ‘বেশ অনেক বছর বইমেলায় হকার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রান্তে অবাধে হকার প্রবেশ করেছে। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। 

পাঠক এসে নির্বিঘ্নে বই কিনবেন, কোথাও বসে নতুন কেনা বইটি একটু পড়বেন, সেই পরিবেশ নেই। পাঠক এমন দৃশ্য দেখে যারপরনাই বিরক্ত। অনেক পাঠক বই না কিনে ফেরত গেছেন।’

প্রকাশনী সংস্থা মুক্তধারার বিপণন কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সেন বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ব্যাপক ছাপ পড়েছে এবারের বইমেলায়। বইমেলায় তরুণরা রোমান্টিক উপন্যাসই বেশি খুঁজেছেন। তবে এবার জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে রচিত বইয়ের দিকে তাদের নজর বেশি দেখেছি। সব মিলিয়ে পাঠকের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে আমরা প্রকাশকরাও হয়তো সবাই পেরে ওঠেনি। তারা যে ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন, সে ধরনের বই হয়তো আমরা আনতে পারিনি বইমেলায়। তাই বিক্রির অবস্থা এক কথায় খারাপ।’

আফসার ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার জাওয়াদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসের দিকে তরুণদের ঝোঁক থাকলেও এবার তারা রাজনৈতিক গল্পের দিকে ঝুঁকেছেন। সমসাময়িক রাজনীতির বইগুলো ভালো বিক্রি হয়েছে।’ 

শিশু-কিশোরভিত্তিক লিটলম্যাগ প্রকাশনা ‘দোলন’ এবার লিটলম্যাগের চত্বর থেকে মেলার মূল চত্বরে ঠাঁই পেয়েছে। তরুণ প্রকাশক কামাল মোস্তফা বলেন, ‘এ বছর ৩০টি নতুন বই প্রকাশ করেছি। লেখকরা সবাই তরুণ। মেলার নতুন প্রকাশক হিসেবে ভালোই সাড়া পেয়েছি।’ 

ব্রেইলভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্পর্শ’ থেকে এবার ১০টি ব্রেইল বই প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা নাজিয়া জাবীন। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে লায়লা খন্দকারের ‘স্বপ্ন ভূমিতে রঙধনু সাপ’, রহিমা আক্তার মৌয়ের ‘গল্পে গল্পে ফেব্রুয়ারি’, নাজনীন নাহারের ‘মনভালোদের স্বরলিপি’, বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ পাঁচটি সুরার বইয়ের সংকলন, বিপ্রদাশ বড়ুয়ার ‘তিব্বতের লোককাহিনী’। 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সাইফুদ্দিন রফিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন সম্প্রতি। তিনি গতকালই প্রথম এসেছেন ব্রেইল প্রকাশনা ‘স্পর্শ’-এর স্টলে। তিনি বলেন, ‘আজ এখানে এসে বইগুলো পড়ে দেখছি। স্পর্শকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে হবে যে তারা আমাদের কাছে সাহিত্যকে সহজ করে এনেছে। আমি থ্রিলার পড়তে ভালোবাসি। তাই স্পর্শ-এর উদ্যোক্তাদের বলেছি, তারা যেন আমাদের জন্য ভালো ভালো থ্রিলার আর অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ নিয়ে আসেন।’

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী গতকাল বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৯৮টি। 

গতকাল বিকেলে বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জনআকাঙ্ক্ষার নাট্যকলা-যাত্রা: ঐতিহ্যের পরম্পরায় জাতীয়তাবাদী শিল্পরীতি এবং অমলেন্দু বিশ্বাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইদুর রহমান লিপন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শাহমান মৈশান। সভাপতিত্ব করেন মিলনকান্তি দে।

‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শাহীন রেজা, কবি এজাজ ইউসুফী এবং কবি শোভা চৌধুরী।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ফাতিমা তামান্না, টোকন ঠাকুর এবং রশিদ কামাল। এ ছাড়া আবৃত্তি করেন মাহবুব মুকুল এবং নূরুল হাসনাত জিলান। গতকাল ছিল সেলিনা ফারজানা কেয়ার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বুলবুল ললিতকলা একাডেমি’ এবং আলী আশরাফ আখন্দের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জিয়া সাংস্কৃতিক জোট’-এর পরিবেশনা। 

আজ বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই অভ্যুত্থান: গ্রাফিতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মুনেম ওয়াসিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন তাসলিমা আখতার এবং কামার আহমাদ সাইমন। সভাপতিত্ব করবেন ফারুক ওয়াসিফ।

তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে

ডোঙা আগের মতোই গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে উবা কিশোরটিকে নিয়ে বড় বড় গাছে ঘেরা উঠানের মতো জায়গায় ফিরে আসে। তখন সেখানে নানা বয়সের কুড়ি-বাইশজন মেয়ে-ছেলে দেখে সে অবাক হয়। সবার বাঁ হাতে নারকেলের মালা। মালা থেকে ডান হাতে রক্ত নিয়ে নিজেদের মুখে মাখছে। এরা কি পশু শিকার করে ফিরেছে—সকলের হাতের মালায় তারই রক্ত? নাকি জঙ্গলে পথ-হারানো কোনো মানুষ শিকার করে তার রক্ত মাখছে? সকলের হাতে-মুখে রক্ত দেখে ভয়ে হিম হয়ে যায় কিশোর। হিম হওয়া থেকে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে তারই আমাজন জঙ্গলের বন্ধু উবা।
আমাজন জঙ্গল, উবা, বন্ধু! কেমন কেমন লাগছে না? এই কেমন কেমনের দেখা পাই আমরা ‘আমাজনের জঙ্গলে’ বইটিতে। অরণ্য-নদী-আরণ্য প্রকৃতি বিষয়ে ভালোবাসা সৃজনের বীজ শিশুমনেই রোপণ করতে হয়। তা করতে হয় গল্প বলে। বড়ই সহজ সে পন্থা; কিন্তু সহজ কাজটা করার মানুষ নেই। আর তা বুঝেই লেখক অমরেন্দ্র চক্রবর্তী লিখেছেন ‘আমাজনের জঙ্গলে’ বইটি। এই বইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের দুনিয়ার নির্মম সত্যও জানিয়ে দেন তিনি। আমাজনের অরণ্যসন্তানরা বোতোর আশ্রয়ে থাকে। গাছপালা-ফলমূলের বিষয়ে সব জানে তারা। ভারত থেকে ব্রাজিলে বেড়াতে আসা কিশোরটিও আদিবাসী কিশোর উবার কাছ থেকে ঘটনাচক্রে জানতে পারে সেসব। চিরহরিৎ এ জঙ্গলের প্রতি কিশোরটির প্রেম জেগে ওঠে ক্রমশ।  
চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড বিমানের টিকিট পায় এই বইয়ের কিশোর। সেই সূত্রে চাচার কাছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে পাড়ি জমায় সে। চাচার সঙ্গে আমাজনের জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে চিরহরিৎ ঘন অরণ্যে হারিয়ে যায় কিশোরটি। এরই মধ্যে সমবয়সি আদিবাসী কিশোর উবার সঙ্গে গড়ে ওঠে তার গভীর বন্ধুত্ব। উবার কাছ থেকে জঙ্গলের অধিবাসীদের জীবনযাত্রা, অরণ্য-উৎসব, নৌকা-উৎসব সম্পর্কে জানতে পারে সে।

এদিকে জঙ্গল যারা কেটে ফেলতে চায়, তারা একদিন হেলিকপ্টারে এসে জোর করে কিশোরটিকে ধরে নিয়ে যায়। কিশোরটি কি পারবে কলকাতায় তার মা-বাবার কাছে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়তে হবে ‘আমাজনের জঙ্গলে’ বইটি। বিখ্যাত সাহিত্যিক অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর লেখা এই বই প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। আর সবুজ সবুজ চোখজুড়ানো অলংকরণ করেছেন শিল্পী হিরন্ময় চন্দ। সংগ্রহ করে পড়ে ফেলো ‘আমাজনের জঙ্গলে’, আর হারিয়ে যাও আমাজনের গভীর জঙ্গলে।

ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে চৈতন্য প্রকাশনের প্রকাশকের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট অঞ্চলের প্রতিবেশী ও সিলেটভাষী হিসেবে ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে বইমেলার আয়োজন এবং সিলেটের বইমেলায় ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে সিলেটে প্রকাশকদের আট দিনব্যাপী বইমেলার প্রেক্ষিতে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে দুই বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে আয়োজিত বিভিন্ন বইমেলায় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের প্রকাশকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। 

পাশাপাশি সিলেটের বইমেলা ও সাহিত্য আয়োজনগুলোতে ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

প্রকাশক রাজীব চৌধুরী বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সেতুবন্ধন। সীমান্ত ও ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বই, ভাষা ও চিন্তার আদান-প্রদান দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের লেখক, পাঠক, গবেষক ও প্রকাশকরা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন পাঠকগোষ্ঠী এবং বিস্তৃত সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোর মধ্যে সাহিত্যিক মেলবন্ধন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গত ১০ মে থেকে আট দিনব্যাপী বইমেলা চলছে। প্রকাশক পরিষদ সিলেট আয়োজিত এই মেলাটি চলবে ১৮ মে পর্যন্ত। 

বইমেলার আয়োজন করতে গিয়ে বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার আমলেও একই রকম বাধার মুখে পড়ে বইমেলা বাতিল করা হয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশ অনুমতি দিলে বইমেলা শুরু হয়।

প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব খবরের কাগজকে বলেন, সিলেট বইমেলা সফলভাবে সম্পন্নের পর বহির্বিশ্বে সিলেট বইমেলার আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রকাশক পরিষদের। ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাতে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছি।

অমিয়/

আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট
প্রকাশক পরিষদ সিলেটের আয়োজনে গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে আট দিনের বইমেলা। গতকাল সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে পাঠকদের ভিড় দেখা যায়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে তোলা। ছববরের কাগজ

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আবারও বইমেলার ধারায় ফিরেছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে ছিল বাধা, পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এলেও সেই প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে আবারও বইমেলার আয়োজনে ফিরেছে নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

গত রবিবার বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মুক্তমঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আট দিনব্যাপী বইমেলা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি নাজমুল হক নাজুর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমরা সব সময় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করি। এতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে আমরা ব্যথিত হই। সিলেটে বইমেলার আয়োজন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আশা করি, এই বইমেলা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সিটি করপোরেশন সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

বইমেলার প্রথম আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারা প্রায় এক দশকের পুরোনো। টিলাভূমির আদলে উঁচুতে নির্মিত শহিদ স্মারকস্তম্ভ ও মাঝখানে রক্তিম সূর্যের নকশায় পুনর্নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধনের পর থেকেই নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে একদল বইপ্রেমী তরুণ সেখানে প্রথম বইমেলার আয়োজন করেন। একটি পাঠক সংগঠনের উদ্যোগে তিন দিনের ছোট পরিসরের সেই আয়োজন পরের বছর ২০১৬ সালে আরও বিস্তৃত হয়। এরপর থেকেই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সাহিত্য-সংস্কৃতিজনের মিলনমেলা।

শহিদ মিনারে প্রথম বইমেলার পৃষ্ঠপোষক ছিল সিলেট মডেল লাইব্রেরি। পরে যুক্ত হয় সিটি করপোরেশন। প্রথম বইমেলার অন্যতম সংগঠক মোমেন মিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সিলেট মডেল লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দেশেই আছেন।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সেই আয়োজনের পর যতবার বইমেলা হয়েছে, ততবারই গর্ববোধ করেছি। কারণ বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজনের শুরুতে আমারও অংশগ্রহণ ছিল।’

করোনাকালেও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি। তবে বইমেলার পরিসর বড় করতে প্রকাশক পরিষদ উদ্যোগী হলে একটি মহল নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলকে কেন্দ্র করে প্রকাশক পরিষদকে বইমেলার আয়োজন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। গত দুই বছর দফায় দফায় উদ্যোগ নিয়েও বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি নির্বাচিত সরকার আমলেও অনুমতি দিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছিল। অবশেষে পুনরায় অনুমতি মেলায় গত ১০ মে থেকে শুরু হয় বইমেলা।

প্রকাশনা জগৎ পুরোনো হলেও সিলেটে প্রকাশকদের সাংগঠনিক যাত্রা নতুন। ২০২৩ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকাশক পরিষদ সিলেট। এবারের বইমেলায় অংশ নেওয়া সদস্যভুক্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দোআঁশ, মাছরাঙা, নাগরী, পাপড়ি, গ্রন্থকুটির, ঘাস, দ্যু, গাঙুর, চৈতন্য, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন, চিলেকোঠা, কালান্তর, স্বরবর্ণ, গ্রন্থিক, নোভা, স্বপ্ন ৭১, পাণ্ডুলিপি ও বুনন।

আগামী ১৮ মে পর্যন্ত চলবে বইমেলা। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান জানান, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলাকালে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল সংগীত পরিবেশনা ও নতুন বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা।

কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?
লাল কাঁকড়ার বাড়ি

ভোরের সূর্য উঁকি দিতেই ঘুম ভাঙে ছোট্ট লাল কাঁকড়ার। ঝুঁটি করা শিং দুটো আহ্লাদে নাড়ায়। ওর নাম সান্দ্রা।
মায়ের দিকে তাকায় সে। গভীর ঘুমে মা-বাবা। শব্দ না করে আস্তে আস্তে গর্ত থেকে মাথা বের করতেই মা ঘুমজড়ানো গলায় বলেন,
‘সান্দ্রা, বেশিদূর যেও না। আশেপাশেই থাকবে। আজকাল সৈকতে মানুষের খুব আনাগোনা বেড়েছে।’
আচ্ছা, সে যে বাইরে যাবে—এটা মা কীভাবে বুঝল?
মায়েরা তো সবই বুঝে যায়!
বেশি দূর না যাওয়ার অঙ্গীকার করে গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়ে সান্দ্রা। তাকে দেখেই পিলপিল করে ছুটে আসে মারি—সান্দ্রার বন্ধু। আট পায়ের ছাপে বালুর ওপর আঁকে যেন আলপনা। পিলপিল করে দৌড়ায় তারা, খিলখিল করে হাসে। তাদের হাসিতে দুলে ওঠে ঝাউবন।
এরপর? শেষ হয়ে যায় খেলা। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা লাবি আর শ্রেয়ের বাবার ঝুড়িতে ধরা পড়ে সান্দ্রা।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছ—সান্দ্রা একটি কাঁকড়া। লাল কাঁকড়া। মায়ের কথা না শুনে সৈকতে চলে এসেছিল সে, আর ধরা পড়ে মানুষের হাতে। তবে জানো কী? সেই মানুষ—শ্রেয় ও লাবিদের পরিবার—খুব ভালো। তাই তারা সান্দ্রাকে আবার ছেড়ে দেয়।
আসলে মানুষ কাঁকড়া ধরে খাওয়ার জন্য। তাই কাঁকড়ারা মানুষকে ভয় পায়, তাদের থেকে লুকিয়ে থাকে। কাঁকড়া সান্দ্রা, তার পরিবার আর লাবি-শ্রেয়দের পরিবারকে নিয়ে চমৎকার এক গল্প লিখেছেন লেখক আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তোমরা হয়তো বালিতে কাঁকড়াদের নানান নকশা করতে দেখেছ। আট পায়ের এই সুন্দর প্রাণীটিকে দেখে চমকিত হয়েছ। বাবা-মায়ের সঙ্গে মজা করে খেয়েছ কাঁকড়া ফ্রাইও। কিন্তু এই ছোট্ট প্রাণীটিকে নিয়ে কখনো ভেবেছ কি?
মানুষ দেখলে কেন ভয়ে বালির গর্তে লুকিয়ে পড়ে কাঁকড়ারা? কেন মানুষ তাদের ধরে নিয়ে খায়? মানুষ আর প্রকৃতি কি বন্ধু হতে পারে না?—এমন প্রশ্নগুলোই ভেবেছেন আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
এসব ভাবনা নিয়েই তিনি লিখেছেন শিশুতোষ গল্পের বই ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’।
বইটিতে দেখা যায়, ছোট্ট লাল কাঁকড়া সান্দ্রা ধরা পড়ে শ্রেয়দের হাতে। পরে নানা বুদ্ধি করে সে আবার ফিরে আসে সৈকতে। লাবি-শ্রেয়ের বাবা তাকে সাহায্য করেন। তারা বুঝতে পারেন, এভাবে কাঁকড়া ধরা ঠিক নয়। প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীরাও একে অন্যকে সাহায্য করে—যেমনটি আমরা টিকটিকি ও মশার ক্ষেত্রে বইটিতে দেখি।
শিশুমনে প্রকৃতির প্রতি মায়া জাগাতেই এই গল্প লেখা। গল্পটি চমৎকার আঙ্গিকে বই আকারে প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। এর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন তাপস সরকার।
তোমাদের যাদের বয়স দশ বা তার বেশি, তারা পড়ে ফেলতে পারো ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’ বইটি। আর হারিয়ে যেতে পারো সান্দ্রার রঙিন জগতে।

মেলার মুখ এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক
দীপংকর দাশ

এবারের একুশে বইমেলা যেন একধরনের দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার আবহে পথচলা শুরু করেছিল। বইমেলা নিয়ে নানা শঙ্কা-সংশয়ের কারণে লেখক, প্রকাশক–কেউই খুব একটা প্রস্তুত হতে পারেননি। এমনকি আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলা একাডেমির প্রস্তুতিতেও ঘাটতি চোখে পড়েছে বলে অনেকেই মনে করেছেন। তবু সব অনিশ্চয়তার মাঝে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তবে এই শঙ্কার কারণে পাঠকরাও বিভ্রান্ত হয়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিশেষ দিনগুলোতে পাঠকরা অনেকে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে গেছেন। সার্বিকভাবে এবারের মেলায় পাঠকের উপস্থিতি কম, বিক্রিও আশাব্যঞ্জক নয়। এ ছাড়া মেলার শেষ দিকে হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রকাশকরা অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ধাক্কা খেলেন। অনেকের পক্ষে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোই কষ্টকর হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে ভালো বই কেনা, স্কুল-কলেজে বই পড়া উৎসাহিত করা, পাঠাগারগুলোর কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নিয়মিত বইমেলার আয়োজন করা–এ রকম নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বই পড়ার সংস্কৃতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আগামী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

রয়্যালটি নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু অভিযোগ শোনা যায়। তবে অনেক সময় যেসব বই খুব বেশি বিক্রি হয় না কিংবা যেসব বই লেখক নিজ খরচে প্রকাশ করেন, সেসব ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ বেশি ওঠে। তবে পেশাদার লেখকদের ক্ষেত্রে রয়্যালটি একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া। প্রকাশনা জগতে তা যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়। এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো–লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে স্পষ্ট চুক্তি থাকা। লিখিত চুক্তি থাকলে উভয় পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকে এবং ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ কমে যায়।

বাতিঘর প্রতিবছর বইমেলা শেষ হওয়ার পর পরই পরবর্তী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আমাদের চেষ্টা থাকে সারা বছরই নতুন বই প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার। পাঠকের রুচি ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ভালো মানের পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করা হয়। পাণ্ডুলিপি যাচাই, সম্পাদনা, প্রুফ সংশোধন এবং প্রকাশ উপযোগী করে তোলার প্রতিটি ধাপেই আমরা যত্নবান থাকার চেষ্টা করি।

তবু এটি সত্যি যে, বর্তমানে সত্যিকারের ভালো মানের লেখার বড় অভাব। নানা অনিশ্চয়তা ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এবারের বইমেলায় বাতিঘর ৪০টির মতো বই প্রকাশ করেছে। বাতিঘর প্রকাশনার পাশাপাশি যেহেতু পরিবেশকও, তাই আমরা চেষ্টা করি বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে। নিজস্ব কয়েকটি আউটলেটের মাধ্যমে আমরা সরাসরি পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও আমরা আউটলেট করেছি। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আমরা পাঠকের কাছে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছি।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যেসব পাঠক ও ক্রেতা বইমেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাঠকদের বলব, শুধু বইমেলাকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর বই কিনুন এবং প্রিয়জনদের উপহার দিন। 

দীপংকর দাশ: স্বত্বাধিকারী, বাতিঘর। অনুলিখন: মুসতাক মুকুল।