‘কি, কি বললেন? আপনার ঘোড়াটা সোনায় নির্মিত?’ ঘোড়ার ডিমের মতো বড় বড় চোখ করে পাতলাদার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে সর্বনাশ মিয়া, জুরাইন থানার নতুন দারোগা।
‘জি, আমার ঘোড়াটা চব্বিশ ক্যারেট খাঁটি স্বর্ণে নির্মিত। অনেক খেটেখুটে, দশ বছর গবেষণা করে আমি নিজেই আমার কারখানায় ঘোড়াটা তৈরি করেছি। এটি বানাতে লেগেছে মোট তিন টন ছাব্বিশ কেজি স্বর্ণ। সব সোনা আমি আফ্রিকার সেরা সেরা খনি থেকে সরাসরি আনিয়েছি।’ — পাতলাদা তার সোনার ঘোড়ার গল্প করেন।
আচ্ছা, মাঝে মাঝেই তো বাসার বড়দের বলতে শোনা যায়—দিনদিন স্বর্ণের দাম বেড়েই চলছে। স্বর্ণের যখন এত দাম, সেই সময়ে এমন ঘোড়া! নিশ্চয়ই আক্ষরিক অর্থে তোমাদের চোখ কপালে উঠে গেছে। কোথায় এই ঘোড়া? কীভাবে বানানো হলো এই স্বর্ণের ঘোড়া? মনের মধ্যে কত প্রশ্নের ঝড়! তাই না?
তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে ‘উড়িতেছে সোনার ঘোড়া’ বইটিতে। এই বইয়ের লেখক মনি হায়দার। বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড, ২০২৫ সালের বইমেলায়।
তোমাদের যাদের বয়স ১৪ বছর হয়েছে, মূলত তাদের জন্যই পাতলাদা সিরিজের এই বই। তবে কি বড়রা পড়তে পারবে না? উঁহু... এমন মজার বই তো সবার জন্যই! চাইলে তোমার পড়া শেষে বাবা-মাকেও পড়তে দিতে পারো ‘উড়িতেছে সোনার ঘোড়া’।
পাতলাদা আসলে পাতলা বা চিকন নন, বরং ইয়া মোটা! বখতিয়ার খিলজির মতো লম্বা দুটি হাত, বসে থাকেন ডান হাতল ভাঙা বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসনের চেয়ারে। পান চিবিয়ে চলেন অনবরত। থাকেন পুরান ঢাকার এঁদো গলির জুরাইনে—জন্মসূত্রে সেখানকার বাসিন্দা। পাতলাদার শাগরেদ হলো ভোম্বল, সাগর, জগলুল, টিয়া, আবুল, ইগল আর ব্যাকুল। এদের সঙ্গে নিয়ে অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য কাণ্ড করে বেড়ান তিনি।
জুরাইনে পাতলাদার ভূগর্ভস্থ কারখানায় তৈরি হয় সোনার ঘোড়া। গোপনে সেই খবর পৌঁছে যায় শত্রুরাষ্ট্রে। সেখানকার জেনারেলরা ঘোড়া চুরি করতে পাঠায় চৌকস সৈন্যদের একটি দল। ডুবোজাহাজে করে বুড়িগঙ্গায় এসে ভেসে ওঠে তারা। কালো পোশাকে রাতের অন্ধকারে শুরু হয় সোনার ঘোড়া চুরির অভিযান।
এদিকে পাতলাদার ঘোড়া চুরি হওয়ার খবর পেয়ে থানায় জানালে পেটমোটা দারোগা সর্বনাশ মিয়া তা বিশ্বাসই করে না। রাগে-দুঃখে পাতলাদা ও তার শাগরেদদের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করে তার।
অন্যদিকে ঢাকার আকাশে কালো জালে আটকা পড়ে শত্রুরাষ্ট্রের চোরের দল। তাহলে সোনার ঘোড়া কোথায়? আকাশে উড়ল কীভাবে?
কী, আরও জানতে ইচ্ছে করছে সোনার ঘোড়ার খুঁটিনাটি? তাহলে আমার মতো তোমরাও পড়ে ফেলো মনি হায়দারের এই চমৎকার বইটি — ‘উড়িতেছে সোনার ঘোড়া’, প্রকাশিত হয়েছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড থেকে। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন হিরন্ময় চন্দ।