চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে টানা সাড়ে ৬ ঘণ্টা তালাবদ্ধ ছিল প্রশাসনিক ভবন। এ সময় ভেতরে আটকা পড়েন অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এতে রেজিস্ট্রার দপ্তর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব নিয়ামক অফিস থেকে শুরু করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দপ্তরও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
রাত ৯টার দিকে উপাচার্যের আশ্বাসের পর অবশেষে প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়।
আটকে থাকা রেজিস্ট্রার দপ্তরের ঊর্ধ্বতন সহকারী সদর উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি প্রশাসন দেখবে, আমরা তো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় নেই। অথচ আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হলো কেন?’
একই দপ্তরের নিরাপত্তাকর্মী আবু বকর অভিযোগ করেন, ‘নারী ও অসুস্থ কর্মচারীদেরও বন্দি করে রাখা হয়েছে—এটা কোনোভাবেই মানবিক নয়।’
ফটোগ্রাফি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত অনেক কর্মচারী সমস্যায় পড়েছেন। এতক্ষণ আটকে রাখা অমানবিক আচরণ।’
আন্দোলন শুরুর আগে রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৫ দফা দাবিতে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পরই ফটকে তালা ঝোলানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দীন খান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলে বাকবিতণ্ডার কারণে সেটি ভেস্তে যায়। ফলে তারা ভবনে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দেন।
রাত ৯টা পর্যন্ত চলা অবরোধের মধ্যে কাউকেই ভবন থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে উপাচার্যের সঙ্গে সমঝোতায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনের সমন্বয়ক জুলকার নাঈন বলেন, ‘উপাচার্য আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তাই আমরা সে সময় পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখছি।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার জানান, ‘শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান নিয়ে আগামী ২১ তারিখ বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শিক্ষার্থীদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।’
নাঈম/মৌসুমী/