রংপুরের অন্যতম পুরোনো হাট নগরীর লালবাগ বাজার। রংপুর-কুড়িগ্রাম-ঢাকা সড়কের ওপর সপ্তাহে দুই দিন বসে কবুতর ও হাঁস-মুরগি বিক্রির এ হাট। তবে সড়ক দখল করে হাট বসার কারণে এ পথে চলাচলকারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বহু বছর ধরে এভাবে চললেও সংশ্লিষ্টরা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যদিও শিগগিরই হাট সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের অর্ধেকের বেশি জায়গাজুড়ে চলছে হাটের বেচাকেনা। এতে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
হাট কমিটি সূত্রে জানা যায়, লালবাগ পশুর হাটের জায়গা কম। গত ১০ বছর ধরে সপ্তাহে দুই দিন (রবি ও বুধবার) এ হাটের কার্যক্রম চলছে। সিটি করপোরেশনের কাছে পশু হাটের জন্য নতুন জায়গার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এ হাটের কারণে নগরের প্রায় ১৫টি পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাসহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হুসাইন বলেন, ‘সড়কের পাশে দোকান, হাট বাজার বসা নিয়ে যে নীতিমালা রয়েছে, তা না মেনেই চলছে লালবাগ পশুবাজারের কার্যক্রম। প্রতি রবিবার আর বুধবার শহরে যেতে লালবাগ এলাকায় গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়।’ লালবাগ পশুর হাটে আটকা পড়া অটোরিকশার ছয় যাত্রী ও চালকের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা বলেন, বহুদিন ধরে এভাবে চলাচল করছি। এই জায়গাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পশুপাখির হাট অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা গেলে ভালো হয়।
এ ছাড়া কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা জানান, সড়কের ওপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের বেচাকেনা করতে হয়। বেশ কয়েকবার হাট কমিটির কাছে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। হাট কমিটি তাদের সমস্যা সমাধানের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এভাবে তারা বেচাকেনা করেন।
হাটের ইজারাদার গোলাম কিবরিয়া বাবু বলেন, ‘এই হাটের অনেক জায়গা বেদখল হয়েছে। জায়গার অভাবে হাটটি সড়কে ওপরেই বসানো হচ্ছে। দেশে আইন আছে, মানার লোক কম। ঝুঁকি নিয়ে চলতে চলতে আর ঝুঁকি মনে হয় না। সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রতি হাটে লক্ষাধিক টাকার পশুপাখি বেচাকেনা হয়।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী জয়শ্রী রানী রায় বলেন, ‘আমরা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে লালবাগ পশুহাট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে হাটটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরের চেষ্টা করব।’