তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে প্রাকৃতিক ভয়াবহ দূর্যোগ হতে রক্ষা পাবে তিস্তা পাড়ের মানুষ। তাই এই মহাপরিকল্পনা যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তারা।
রবিবার (৯ মার্চ) থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) পর্যন্ত ৫ দিন টানা চলবে এই গণশুনানি। পাঁচদিনব্যাপী গণশুনানির মধ্যে চতুর্থ দিন বুধবার (১২ মার্চ) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের চায়না পাওয়ার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড গণশুনানির মাধ্যমে মহাপরিকল্পনার সমীক্ষা চূড়ান্ত করবেন। এই মতবিনিময় সভায় চীনের পাওয়ার চায়না কোম্পানির প্রতিনিধিরা তিস্তা নিয়ে করা তাদের পূর্বের সমীক্ষা তুলে ধরেন। যেখানে সরাসরি মত-দ্বিমত প্রকাশ করেন তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা ছাড়াও তিস্তা নিয়ে কাজ করছে এমন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান।
বলা হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার আমুল পরিবর্তন ঘটবে। প্রকল্পের আওতায় গ্রোয়েন নির্মাণ এবং তীর প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে নদী ভাঙনরোধ, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের মাধ্যমে বন্যা ঝুঁকি হ্রাস, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও নদী পুনরুদ্ধার, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে শাখা নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষাসহ নদী সমুহে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ পূর্বক প্রকল্প এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান এতে স্বাগত বক্তব্য দেন।
এছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সাংবাদিকসহ তিস্তা পাড়ের লোকজন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক আবু সায়েদ লিওন বলেন, আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ করা হোক।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল আলম বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। এখনকার তিস্তার যে অবস্থা ও বর্ষাকালের অবস্থা যেন ঠিক থাকে সেকল দিক নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।
জেলা জামায়াতের অধ্যক্ষ আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, এ প্রকল্পের নামে যেন কোনো দুর্নীতি না হয়, সেদিক খেয়াল করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।
সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য উপস্থাপন করেন পাওয়ার চায়না প্রকল্পের প্রতিনিধি অবসরপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মকবুল হোসেন।
মমিনুর আজাদ/মাহফুজ