পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের আকাতের ঘাটের চরের জমি দখল নিয়ে আবারও ইয়াছিন গ্রুপ ও মুকুল গ্রুপের মধ্যে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সেনাবহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আগের দিনের গুলিবিদ্ধ চার ব্যক্তি হলেন- লক্ষ্মীকুণ্ডা চরকুড়লিয়া গ্রামের রেকাত আলীর ছেলে মো. পিল্লু (২৫), হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন (২৪), মো. আসিফ (২০) ও মো. আলম (২৭)।
এর আগে গত ১৪ মার্চ গভীর রাতে লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের তালবাড়িয়া ডিগ্রির চরের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত ১২টা থেকে- ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তালবাড়িয়া ডিগ্রির চরের নছিরের ঘাট ও আকাতের ঘাটে গুলিবর্ষণ, মহড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের সরকারি খাস জমি ডিগ্রির চর ১ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ইজারা পেয়েছেন সাইদুল প্রামাণিক। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাইদুল প্রামাণিকের ভাই ইয়াসিন প্রামাণিক তার লোকজন নিয়ে লিজ পাওয়া ডিগ্রির চর দখল নিতে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুকুল গ্রুপের লোকজন তা প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। সংঘর্ষ বাঁধে দুই গ্রুপের মধ্যে। এতে গুলিবিদ্ধ হন চারজন।
লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল মিয়া জানান, চর এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে কাউকে সেখানে পায়নি। সংঘর্ষ চলাকালে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এদিকে শনিবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে যান। পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেলে তারা ডিগ্রির চর এলাকা যেয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত জানার চেষ্টা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ যৌথভাবে ডিগ্রির চর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার বলেন, ‘চরের জমি দখল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। যৌথবাহিনীর অভিযানে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সংঘর্ষে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের নামে মামলার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
জাহাঙ্গীর/তাওফিক/