জোয়ারের পানি ও সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে রবিবার (২৭ জুলাই) নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রায় চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনের চারদিকের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বাড়িঘর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।
এদিকে রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।
এর আগে বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
রবিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানানো হয়েছে, সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।
হাতিয়া (নোয়াখালী): রবিবার দুপুরে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের সময় হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জলোচ্ছ্বাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সুখচর ইউনিয়নের ২, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা ৪ নম্বর ওয়ার্ড, চরইশ্বর ইউনিয়ন ও হরণী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরে অধিকাংশ এলাকা সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের।
কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরপানি জমে গেছে। এ ছাড়া নলচিরা, চরইস্বর ও নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদেও পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর এই অঞ্চলগুলোতেও ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি।
এসব চরে বসবাসকারী হাজারও মানুষ এখন বিপদাপন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সেন্ট মার্টিন: লঘুচাপের প্রভাবে সেন্ট মার্টিনে প্রায় ২০টি বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দ্বীপে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি। নিরাপত্তার স্বার্থে মাছ ধরার ট্রলারগুলো জেটির আশপাশে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, টানা চার দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ দ্বীপের সুরক্ষা বাঁধে আঘাত হানতে শুরু করেছে। সমুদ্রের পানিতে অনেকের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। প্যারাডাইজ নামে তিনতলাবিশিষ্ট একটি রিসোর্ট পানিতে ডুবে আছে। গাছপালা পড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল ধরেছে।
সেন্ট মার্টিন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের চতুর্দিকে ভাঙন ধরেছে। বিভিন্ন অংশ দিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফয়েজুল ইসলাম বলেন, শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে দ্বীপবাসীর ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপের বাজারে সরবরাহকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কমতে শুরু করেছে। এভাবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে খাদ্যসংকটে ভুগবেন দ্বীপের বাসিন্দারা।