ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংরক্ষিত নারী আসন। দলটি ইতোমধ্যে সারা দেশে সম্ভাব্য মোট আসনের সংখ্যা পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালেও আসন সংখ্যা নির্ধারণ হয়েছে। তবে বিভাগটিতে সম্ভাব্য তিনটি সংরক্ষিত আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র চাইছেন দলটির অন্তত অর্ধশত নেত্রী। এসব আসনে কাদের মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। তবে বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও নির্যাতনের শিকার নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে কাদের মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কমিটির সমন্বয়ে গঠিত নীতিনির্ধারণী মহল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২১টি সাধারণ আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ১৮টিতে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, একটি দল প্রতি ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পায়। সেই হিসাবে বরিশাল বিভাগ থেকে বিএনপির তিনটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার কথা।
এই তিনটি আসনের জন্য বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ৫০ নারী নেত্রী মনোনয়নপত্র প্রত্যাশা করছেন। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল জেলা ও মহানগরের কয়েকজন শীর্ষ নেত্রী। তাদের মধ্যে আছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেত্রী ও সাবেক এমপির সন্তান ডা. জাহানারা লাইজু।
ঝালকাঠী থেকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী আলোচনায় রয়েছেন। ভোলা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন- খালেদা খানম, সাজেদা বেগম, ইসরাত জাহান বনি ও আইনজীবী নূরজাহান বেগম বিউটি। বরগুনায় আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নূর শাহানা হক, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহসম্পাদক আসমা আজিজ, আইনজীবী রঞ্জুয়ারা শিপু, মেহবুবা আক্তার জুঁই, মারজিয়া হিরা, নাজমুন নাহার পাপড়ি ও মীরা খান।
পিরোজপুরে তালিকায় রয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই।
পটুয়াখালী থেকেও একাধিক নেত্রী মনোনয়নপত্র চাইছেন। তাদের মধ্যে আছেন, সাবেক সংসদ সদস্যের স্ত্রী সালমা আলম লিলি, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা এবং সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন। এ ছাড়া বিভাগটির বিভিন্ন জেলা থেকে আরও প্রায় ২০ নেত্রী মনোনয়নপত্র প্রত্যাশা করছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাশী নেত্রীরা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ ও ত্যাগের মূল্যায়ন চান তারা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনের জন্য যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাশা করছেন, তারা সবাই দলের পরীক্ষিত ও যোগ্য নেত্রী। তাদের মধ্যে অনেকেরই আন্দোলন-সংগ্রামের উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারী সংসদ সদস্য হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা দলীয় চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কমিটি নির্ধারণ করবেন। আন্দোলনে সক্রিয় ও নির্যাতিত নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’