ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মাদক বহনে কিশোর, হচ্ছে খুন খুলনায় ফিরছে গ্যাং কালচার

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ০৩ মে ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
খুলনায় ফিরছে গ্যাং কালচার
প্রতীকী ছবি

মাদক বিক্রি-সেবন, চাঁদাবাজি, দখল, খুনসহ নানা অপরাধে খুলনায় বখাটে কিশোর-যুবকদের জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। এসব কিশোর-যুবক বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গ্যাং তৈরি করছে। বিশেষ করে মাদক বিক্রিতে কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গ্যাংয়ে যুক্ত হচ্ছে উঠতি বয়সী শিশু-কিশোর ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত দেড় বছরে খুলনা নগরীতে শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মাদককেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে খুলনায় দুটি খুন, আলাদা ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজনকে গুলি ও একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধে উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকদের সম্পৃক্ততা দেখা গেছে।

গত ১৬ এপ্রিল রাতে খুলনার ফুলতলায় ছুরিকাঘাতে সাব্বির হোসেন নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্র নিহত হয়। একই ঘটনায় আরেক যুবক গুরুতর জখম হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এসব ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবীর সিদ্দিকী শুভ্র জানান, হামলাকারী এবং যারা হতাহত হয়েছে তারা একে অপরের বন্ধু। ৪-৫ দিন আগে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে।

১৭ এপ্রিল লবণচরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রায়হান শেখ ওরফে মিঠু (১৯) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ১৯ এপ্রিল মাদকের চালান পরিবহন না করায় নগরীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় একই পরিবারের নারীসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ১২ এপ্রিল খুলনায় নয়াবাটি এলাকায় ছুরিকাঘাতে তাঁতী দলের ১০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. সোনামিয়া নিহত হন। তিনি নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা জব্বার সরদারের ছেলে।

সর্বশেষ ১ মে লবণচরা সাচিবুনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মোহাম্মদ তাইজুল নামে এক যুবক আহত হন। দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত এসে তাইজুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি তার বাম পায়ের হাঁটুতে বিদ্ধ হয়।জানা যায়, খুলনায় ছয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।

২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদাররা আত্মগোপনে গেলে নিচের সারির কারবারিরা বাজার দখলে নিতে গ্যাং তৈরি করেছে। পাড়া-মহল্লায় পুলিশের চোখে ফাঁকি দিতে উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকদের মাদক বিক্রির কাজে লাগানো হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে মাদক বিক্রি করে। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে করে নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে মাদক পৌঁছে দেওয়া হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কিশোর গ্যাং চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। তাদের হাতে অস্ত্র থাকায় উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বেশি।

সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে বখাটে গ্যাংয়ের উত্থান ঘটে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারাই উঠতি বয়সী কিশোরদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটে সাধারণ মানুষের।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদক পাচারের রুট হিসেবে ঢাকা-খুলনা সড়ক ব্যবহার করায় যাত্রীবাহী বাসে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ৩০ দিনের মধ্যে ২০ দিনই হরিণটানা থানা পুলিশ বিভিন্ন বাস থেকে মাদক উদ্ধার করছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও পাড়া-মহল্লায় পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।

মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ
ধর্ষণ মামলার পর থানায় আত্মসমর্পন করেন পলাতক আসামি ও বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহন তালুকদার

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. মহন তালুকদার।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে মোহনগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আত্মসমর্পণ করেছেন।’

মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন মহন। পুলিশ এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করেনি। ধর্ষণের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। এরকম অবস্থায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মহন তালুকদার ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।

ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, আসামি মহন তালুকদারকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

তামান্না রুপা/

ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় রিক্তা আক্তার (১১) নামে এক গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ, রোডের ৩৭ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। রিক্তা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলার শাহিনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (১৯ জুন) সকালে রিক্তা ধানমন্ডির ৯/এ, রোডের ৩৭ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা স্পেশালাইজড অ্যান্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায়। 

ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, আশপাশের লোকজন জানিয়েছে, ভবনের ছাদে থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের শঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যাতে কোনো সভা, সমাবেশ বা মিছিল করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অন্তরা/

মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে স্ত্রীর অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক  চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও প্রতারণার পর, অবশেষে জেলা পুলিশের তৎপরতায় শিশু টুকটুকিকে (১ মাস ২৫ দিন) উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।

প্রেস ব্রিফিংয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের নবজাতক সন্তানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। তিনি মাত্র ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সন্তানটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর এলাকার দম্পতি মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।  

সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকলে, অভিযুক্ত পিতা সাগর হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক অবিশ্বাস্য নাটকের আশ্রয় নেন। তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ান যে, শিশুটিকে 'জ্বীনে' নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জ্বীনের মাধ্যমেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হবে—এমন ভুঁয়া আশ্বাস দিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিবাহিত করেন।  

পরবর্তীতে এ ঘটনাটি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে। 

ধারাবাহিক তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ দুপুরে পুলিশ শিশুটির ক্রেতা শাহাবুর ও মনিরা খাতুনের বাড়ি থেকে শিশু টুকটুকিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবুঝ শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

কাসেমুর রহমান/নাঈম

টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে যুবকদের মারধর এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন টঙ্গীর মুদাফা এলাকার কনসেপ্ট গার্মেন্টস সংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া (২৮) ও তার বন্ধু টিটু মিয়াকে এক নারী সদস্যের মাধ্যমে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৭৬ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় হানি ট্রাপ চক্র।

এর আগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পেনাল কোডে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে এসআই এসএম মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সঙ্গীয় ফোর্সের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের হানি ট্র্যাপ চক্রের মধ্যে দুই নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য এবং এর আগেও তারা একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। হানি ট্র্যাপসহ যেকোনো ধরনের প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।

পলাশ প্রধান/নাঈম