বড় পুকুরের পাশে ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গলে ভূত আছে! ভূত মানুষদের ভয় দেখায়। কখনো খুব জোরে শব্দ করে। কখনো পাথর ছুড়ে মারে। গ্রামের মানুষ তাই সেই জঙ্গলে যায় না। ইতি বলল, জানিস রাতুল, ভূতের জঙ্গলে একবার এক মুরগির ছানা ঢুকেছিল। সেই ছানাটা আর ফিরে আসেনি!
রাতুলের বন্ধু মিজান বলল, শুধু কি তাই, গ্রাম থেকে ধীরে ধীরে মুরগি-হাঁস উধাও হচ্ছে, সে খবর রাখিস?
কেউ বলে সেখানে মামদো ভূতের বাস। আবার কেউ বলে শাঁকচুন্নির বাসা। কেউ বলে সেখানে ব্রাহ্মদৈত্য থাকেন।
পুকুরের ধারে বাঙ্গি চাষ হতো, পুকুরে মাছ চাষ হতো। পাশে ছিল হাঁস-মুরগির খামার। খামারিরা, চাষিরা তাই সবসময় ভয়ে থাকত। এই না কোনো ক্ষতি হয়ে যায়!
একদিন শহর থেকে রাজু মামা এলেন। তিনি এলএলবি পরীক্ষা শেষ করেছেন। এসে শোনেন, জঙ্গলের ভূত গ্রামবাসীদের খুব বিরক্ত করছে।
রাজু মামা খুব রেগে গেলেন। বললেন, এখন কি কেউ ভূতে বিশ্বাস করে? চলো সবাই মিলে ওখানে যাই। কী আছে সেই জঙ্গলে দেখে আসি।
রাজু মামার কথায় কেউ রাজি হলো না। মামা নিজে ব্যাপারটা নিয়ে খুব চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি দেখলেন, প্রায় প্রতিদিন রাতে হাঁস-মুরগি উধাও হয়, পুকুর থেকে মাছ উধাও হয়, কিন্তু বাঙ্গি কেন উধাও হয়? এই পানসে বাঙ্গি মানুষই খেতে চায় না কিন্তু ভূতের এত প্রিয়! কী করে!
রাজু মামা সিদ্ধান্ত নিলেন, বাঙ্গিখেতে পাহারা দেবেন। যথারীতি তিনি পাহারায় বসলেন।
রাজু মামা শুনতে পেলেন, ঠিক রাত ১২টায় হুক্কা হুয়াআআ আওয়াজ। কিছুক্ষণ পর পুকুরে ছলছল শব্দ। মনে হচ্ছে কে যেন পুকুরে হাঁটছে। রাজু মামা ঠাণ্ডা মাথায় চুপ করে সবকিছু শুনছেন। দেখতে পাচ্ছেন না কিছুই। কিছুক্ষণ পরে খামারের কাছে দেখা গেল দুটি চোখ। চোখ দুটি এমনভাবে অন্ধকারে জ্বলছে যে কিছু মুহূর্ত রাজু মামা বিশ্বাস করে নিলেন এখানে কিছু একটা সমস্যা তো
নিশ্চয় আছে।
কিছুক্ষণ করে রাজু মামা দেখলেন, পাশেই দুটি চোখ জ্বলজ্বল করছে। খামারের কাছে সেই চোখ দুটি এক সময় শেয়ালে রূপ নিল। এ যে শেয়াল! রাজু মামা মনে মনে হাসলেন। সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে লাইট মেরে দেখলেন পুকুরেও একটা শেয়াল।
গ্রামবাসী জানতে পেরে সেই জঙ্গলে ঢাকঢোল বাজানো শুরু করল। ঢোলের শব্দে শেয়ালেরা যে যার মতো প্রাণ নিয়ে পালাল। রাজু মামা বললেন, পালাবি কোথায়? তোদের ওপর আমি চুরির মামলা করব।
গ্রামবাসীরা বললেন, শেয়াল মামা পালিয়ে যায়,
ধররে তোরা কে কোথায়!
মেহেদী