দ্বিতীয় অধ্যায় : সমাজকর্মের শাখা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-৩
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
রাইসা নবম শ্রেণির ছাত্রী। নবম শ্রেণিতে তার পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। শিক্ষক বিষয়টি রাইসার বাবাকে অবহিত করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে একটি সমাজসেবা এজেন্সির শরণাপন্ন হন। সেখানকার কর্মকর্তা সমস্যাটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হন।
ক. ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম কী?
খ. প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন শাখার মাধ্যমে রাইসার সমস্যার সমাধান করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে অনুশীলন করা সমাজকর্মের শাখাটির কার্যকারিতা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করো।
উত্তর: ক. ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো মানসিক ও সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, বিকলাঙ্গতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো অক্ষমতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন।
খ. প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্ম অনুশীলনের বিশেষায়িত শাখা, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি, দক্ষতা ও কৌশল প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ প্রবীণকল্যাণের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি ও দক্ষতার অনুশীলনই প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম। সমাজকর্ম অভিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের বিশেষ অনুশীলনক্ষেত্র, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মনোসামাজিক চিকিৎসা, প্রবীণদের প্রয়োজনীয় সমাজসেবা কার্যক্রমের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন : সমাজকর্মের শাখা অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ১৩তম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রাইসার সমস্যা সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা বিদ্যালয় সমাজকর্মের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। পেশাদার সমাজকর্মের একটি প্রায়োগিক শাখা হলো বিদ্যালয় সমাজকর্ম। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালনা করা, ভবিষ্যৎ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে সমাজকর্মের এ শাখা কাজ করে। মূলত বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানে সহায়তা করা সমাজকর্মের এই শাখার প্রধান লক্ষ্য। সাধারণত শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক আচরণ, যেমন- স্কুল পালানো, পারস্পরিক বিদ্বেষমূলক মনোভাব, লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা, বিশেষ দৈহিক, আবেগীয় বা আর্থিক সমস্যা প্রভৃতি সমাধানে বিদ্যালয় সমাজকর্ম কাজ করে।
অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নিয়মনীতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারে না। ফলে একপর্যায়ে Dropout হয় বা ঝরে পড়ে। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কারণে ঝরে পড়ার হাত থেকে সমাজকর্মীরা উদ্ধার করে থাকেন।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, বিদ্যালয় সমাজকর্মের মাধ্যমে রাইসার সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
ঘ. শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়োজিত সমাজকর্মের একটি বিশেষ শাখা হলো বিদ্যালয় সমাজকর্ম।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও চারিত্রিক দিক বিকাশে সমাজকর্মের এ শাখা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতিকর পারিপার্শ্বিকতার হাত থেকে রক্ষা এবং সেই সঙ্গে স্কুল জীবনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সফল জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীর গৃহ, স্কুল ও কমিউনিটিতে এমন অনেক সমস্যা রয়েছে, যেগুলো শিক্ষার্থীর স্কুল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিদ্যালয় সমাজকর্মী সাহায্য করে থাকেন। সমস্যাগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিকাশে এবং সামাজিক পরিবেশগত তথ্যাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিদ্যালয় সমাজকর্মীরা স্কুল ও সামাজিক এজেন্সির মধ্যে সংযোগকারী ভূমিকা পালন করেন। দুর্বল, অমনোযোগী ও কম মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের যথাযথ যত্ন করা শিক্ষক, অভিভাবক কারও পক্ষে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে সমাজকর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। সর্বোপরি এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে অনুশীলন করা সমাজকর্মের শাখাটির কার্যকারিতা বাংলাদেশে অনন্য।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর