ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলস ও তার আশপাশে চলমান দাবানল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে পরিণত হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দাবানলে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশের দুই অর্থবছরের বাজেটের সমান।
বেসরকারি সংস্থা অ্যাকিউওয়েদারের প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৩৫-১৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যেহেতু লস অ্যাঞ্জেলসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি স্থাপনা, আবাসিক এলাকা রয়েছে, তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হলিউডের শহরখ্যাত লস অ্যাঞ্জেলসে রয়েছে হলিউডের অনেক স্থাপনা, তারকা অভিনেতাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ভিলা, রিসোর্ট, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র। অনেক তারকা ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আবেগ জাানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে বিমা কোম্পানিগুলো। তাদের মোট ৮ বিলিয়নের বেশি ক্ষতি হতে পারে।
দাবানলের স্যাটেলাইট ইমেজ
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, লস অ্যাঞ্জেলসের অভিজাত এলাকা প্যালিসেইডের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ স্থাপনা দাবালনে পুড়ে গেছে, যা প্রায় ২০ হাজার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পার্শ্ববর্তী ইয়াটনে ১৪ হাজার একর এলাকাজুড়ে ৫ হাজার স্থাপনা পুড়ে গেছে। তা ছাড়া কেনেথ, হার্স্ট, লিডিয়া অঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। যা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তীব্র বাতাসের কারণে নতুন নুতন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। মোট ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১ লাখ ৮০ হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থা পুরোদমে কাজ করছে।
এর আগে ২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে ৮৫ জন মারা গিয়েছিল। মোট ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। সূত্র : বিবিসি
মাহফুজ/