যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অন্তত চারটি স্থান গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত আগুনে পুড়েছে। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ গিয়ে ঠেকেছে। আরও মানুষ প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খতিয়ে দেখার আগ পর্যন্ত নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে না।
সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্যালিসেডসের আগুনে। দশ হাজার অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনকবলিত স্থান থেকে যারা দূরে রয়েছেন, তারাও ভালো নেই। দূষিত বাতাসে ছেয়ে গেছে ক্যালিফোর্নিয়া।
দাবানলের মুখে অনেক এলাকার বাসিন্দাকে সরে যেতে বলা হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও দুই লাখ মানুষকে সরে যেতে হতে পারে বলে সতর্কতা সংকেত দিয়ে রাখা হয়েছে।
দমকল বাহিনীকে তীব্র বাতাস ও শুষ্ক পরিস্থিতির জন্য আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ এভাবে বাড়তে থাকলে দমকল বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে না- এমন শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডকবলিত স্থানগুলোর আকাশে ড্রোন উড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও দমকল বাহিনীর আকাশযানের সঙ্গে উড়তে থাকা ড্রোনের সংঘর্ষ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্যালিসেডসে নতুন করে হেলিকপ্টার উড়ানো বন্ধ রাখতে হয়েছে দমকল বাহিনীকে। যে আকাশযানটি সংঘর্ষের কবলে পড়েছে, সেটির সমুদ্র থেকে এক হাজার পাঁচশ গ্যালনেরও বেশি পানি নিয়ে ওপর থেকে ফেলার সক্ষমতা ছিল।
দমকল বাহিনীকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও মাঠে নেমেছে। তারা আটটি সি-১৩০ বিমান দিয়ে দমকল বাহিনীকে সহায়তা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদেরও মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুরো এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও পরিবহন উল্লেখযোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক লাইব্রেরি ও গির্জাও পুড়ে গেছে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভাতে কোনো বিরতি ছাড়াই কাজ করছেন। অনেকে এক শ পাউন্ড ওজনের সরঞ্জাম বহন করছেন। রসদ ও কর্মী সংকটেও ভুগছে দমকল বাহিনী।
দাবানলের মুখে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। দূষিত ধোঁয়ায় বাতাসের মান পড়তির দিকে। ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে ক্লাস করছে।
দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে লুটপাটও শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণকে লুটপাটের ব্যাপারে সতর্ক করছে। বেশ কয়েকজনকে তারা গ্রেপ্তারও করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসদাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের তথ্যানুসারে, আর্থিক ক্ষতি এরই মধ্যে ১৩ হাজার পাঁচশ কোটি ডলার থেকে ১৫ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্যোগের বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই অঞ্চলের ডেমোক্র্যাট সদস্য ও মেয়র ক্যারেন বাস বলেন, আমরা লস অ্যাঞ্জেলেস শহর জোরালোভাবে পুনর্গঠনের কথা ভাবছি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বৃহস্পতিবার জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ ও দূষিতসামগ্রী সরাতে শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেবে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও জরুরি সেবাকর্মীদের বেতনও কেন্দ্র থেকে বহন করা হবে বলে জানান তিনি।
হোয়াইট হাউসে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাইডেন বলেন, ‘আমি গভর্নর ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বলেছি খরচের ব্যাপারে কোনো চিন্তা না করতে, যা যা করা প্রয়োজন করতে এবং এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।’ সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স