হামাস চলতি সপ্তাহে আরও ছয় জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল গাজার উত্তরের বাসিন্দাদের তাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়াির) ভোর থেকে এই বাসিন্দাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার রাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল, নেটজারিম করিডর খুলে দেওয়া হবে এবং সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় আল-রশিদ সড়ক দিয়ে হেঁটে এবং সকাল ৯টায় সালাহ আল-দীন সড়ক দিয়ে যানবাহনযোগে বাসিন্দারা উত্তর গাজায় ফিরতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মাসে সবচেয়ে বেশি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে উত্তর গাজা। ফলে পুরো এলাকাটি পরিণত হয়েছে কংক্রিটের পাহাড়ে।
দীর্ঘ ১৫ মাস পর বাড়ি ফিরতে পেরে গাজাজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। উপত্যকাটির স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তথাকথিত নেটজারিম করিডর খুলে দেওয়া ও বাস্তুচ্যুতদের বাড়ি ফেরার বিষয়টিকে কূটনৈতিক ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছে।
হামাস বলেছে, ‘এটি আমাদের জনগণের জন্য একটি বিজয় এবং ইসরায়েলি দখল ও স্থানান্তর পরিকল্পনার ভেস্তে যাওয়ার ঘোষণা।’
নেটজারিম করিডর সাত কিলোমিটার (৪.৩ মাইল) দীর্ঘ একটি এলাকা, যা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি উত্তর গাজাকে বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর পরই এই করিডর স্থাপন করা হয়েছিল। এটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
মুক্তি পেতে যাওয়া ছয় জিম্মি ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন আরবেল ইয়েহুদ নামে এক বেসামরিক ব্যক্তি। তার মুক্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের কারণে ইসরায়েল গাজাবাসীকে উত্তরে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছিল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন ইসরায়েলি জিম্মি এবং প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি গত ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হলেও এতদিন উত্তর গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। হামাস বারবার অভিযোগ করে আসছিল, এর মাধ্যমে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
তৃতীয় দফায় হামাস বৃহস্পতিবার আরবেল ইয়েহুদসহ আরও দুজন জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এরপর শনিবার আরও তিনজনকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার।
এদিকে হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণ থেকে উত্তর গাজামুখী যাত্রা করায় গতকাল সকাল থেকে সালেহ আল-দীন সড়কে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির সারি নেটজারিম করিডরের ওপারে অপেক্ষমাণ ছিল বলে জানিয়েছেন আল-জাজিরার স্থানীয় প্রতিবেদক।
উত্তর গাজার মানুষের বাড়ি ফেরার বিষয়টিকে হামাসের বিজয় এবং বেপরোয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আরেকটি অপমানজনক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য সাবেক ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিবাদে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট থেকে দুই সহযোগীসহ পদত্যাগ করেন উগ্র ডানপন্থি এই নেতা। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স