ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের অধীনে নয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সংলাপ প্রয়োজন, তবে যদি তা কঠোর চাপের শর্তসাপেক্ষে হয়, তাহলে সেটি আলোচনার বদলে ‘আত্মসমর্পণ’ হয়ে যাবে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক টেলিগ্রাম বার্তায় দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানায়।
আরাঘচি বলেন, ‘আমরা সংলাপের পথ খোলা রাখছি, তবে এটি অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এক হাতে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয় আর অন্য হাতে আলোচনার প্রস্তাব দেয়, তাহলে সেটি কোনো বাস্তবসম্মত সংলাপ নয়।’
আরাঘচির এই মন্তব্য আসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ এড়িয়ে চলার আহ্বানের পরপরই। খামেনি এটিকে ‘বেপরোয়া’ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীত সংলাপের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তি একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর আওতায় তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে একটি ‘যাচাইকৃত পারমাণবিক শান্তি চুক্তি’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, তিনি আবারও বলেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই জোর দিয়ে বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন বৃহস্পতিবার চীনে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি অপরিশোধিত তেল সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় আরাঘচি বলেন, ‘যে দেশ একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেয়, আর অন্যদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়, তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ দুই দেশই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় কি না।
বাসস/তাওফিক/