মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে ভাষণ দিলেন। ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প আমেরিকার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক। আমরা নতুনভাবে শুরু করেছি। গত কয়েক দিনেই এমন কিছু অর্জন করেছি যা অনেকে গত চার বছরে করতে পারেননি।’
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) স্থানীয় সময় রাতে তিনি এই ভাষণ দেন বলে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়।
ভাষণটি ১০০ মিনিট স্থায়ী ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের দেওয়া সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণ।
কংগ্রেসের ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘আমার শপথ গ্রহণের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমি দক্ষিণ সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলাম। সীমান্তে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী জোরদার করার কারণে গত মাসে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ছিল সবচেয়ে কম। তবে বাইডেন প্রশাসনের সময় এক মাসে শত শত অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেছিল।’
এই ভাষণটি এমন সময় দেওয়া হয়, যখন মার্কিন বাজারে অস্থিরতা চলছে এবং ট্রাম্প মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন।
এ ছাড়া ভাষণের আগে তিনি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। যা রাশিয়ার প্রতি তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
ভাষণে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে খুব অল্প সময় কথা বলেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালানোর এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়ার কথা জানান। চিঠিতে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা করতে রাজি আছেন।
ট্রাম্প কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ব্যাপক প্রতিবাদ জানায়। অনেক ডেমোক্র্যাট প্লাকার্ড হাতে কংগ্রেস থেকে বের হয়ে যান। যেগুলোর মধ্যে ছিল ‘নো কিং’ এবং ‘দিস ইজ নট নরমাল’। এ ছাড়া কিছু ডেমোক্র্যাট তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদও জানায়। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/