ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রয়াস থেকে সরে না আসলে এবং তাদের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ভেঙে না ফেললে প্রয়োজনে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত পরিসরে হামলাও চালাতে পারে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) ব্রিটশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান হয়।
রয়টার্সের দাবি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি সূত্র এবং এই বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত এই ধরনের পদক্ষেপে সমর্থন দিতে রাজি নয়। এরপরও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর চিন্তাভাবনা থেকে সরে আসেনি।
রয়টার্সের কাছে সূত্রগুলো দাবি করে, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালানোর জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করে। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে বিমান হামলা এবং কমান্ডো অভিযানও রয়েছে। হামলার সময়সীমা বসন্তের শেষ বা গ্রীষ্মকাল বলে উল্লেখ করা হয়। এতে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অস্ত্র বানানোর সক্ষমতাকে কয়েক মাস বা এক বছর পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বুধবার( ১৬ এপ্রিল)জানায়, ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিতে চায় এবং স্বল্প মেয়াদে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনাতে সমর্থন দিতে তিনি রাজি নন।
কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলেও তাদের সেনাবাহিনী ইরানের ওপর একটি সীমিত হামলা চালাতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েলের এ ধরনের পদক্ষেপে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হতে পারেন এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল কখন বা আদৌ এ ধরনের হামলা চালাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সকে বাইডেন প্রশাসনের সাবেক দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত বছর বাইডেন প্রশাসনের কাছেও এই পরিকল্পনার কিছু অংশ উপস্থাপন করা হয়। প্রায় সব বিকল্পের ক্ষেত্রেই ইরানে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বা গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। ইসরায়েল ওয়াশিংটনের কাছে এই অনুরোধও করে যে, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায় তবে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরায়েলকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য আছে যে, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। তেহরান ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত এবং যেকোনো হামলা ইরানের পক্ষ থেকে ‘কঠোর ও অটল জবাব’দেওয়া হবে।‘ সুত্র: রয়টার্স
দিনা