রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ব্যক্তিগতভাবে একটি চিঠি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আলাস্কা বৈঠকের সময় মেলানিয়ার লেখা সেই চিঠি পুতিনের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে খোলসা করেনি হোয়াইট হাউস।
এতটুকু জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের ফলে যে সমস্ত শিশুরা সমস্যায় পড়েছে, তাদের কথা লিখেছেন মেলানিয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের দুর্দশার প্রতি পুতিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
ইউক্রেনের অভিযোগ, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন থেকে অনেক শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়েছে রাশিয়া। তিন বছরে অপহৃত শিশুর সংখ্যা কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়। পরিবার বা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই তাদের আটকে রাখা হয়েছে। রুশ বাহিনীর এই আচরণকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইউক্রেন।
অন্যদিকে, মস্কো দাবি করছে, শিশুরা দুর্বল, তাই শিশুদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ অবশ্য রাশিয়ার এই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে। জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের লক্ষ লক্ষ শিশুকে যন্ত্রণা দিচ্ছে রাশিয়া। তাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার, আলাস্কায় ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দুই নেতা যখন বৈঠকে বসতে প্রস্তুত হচ্ছেন, তখন হোয়াইট হাউস জানায়, রাশিয়ার ২০,০০০ এরও বেশি ইউক্রেনীয় শিশু অপহরণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই শীর্ষ সম্মেলনে এই অপহৃত শিশুদের ভাগ্য পরিবর্তন না হলে, স্থায়ী শান্তির দিকে কোনও অর্থবহ অগ্রগতি কল্পনা করা কঠিন।
আগস্টের গোড়ার দিকেই মস্কোয় ইউক্রেনীয় শিশুদের গণহত্যা এবং অপহরণের ঘটনা আবারও সংবাদ শিরোনামে আসে, যখন রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ দত্তক নেওয়ার জন্য ইউক্রেনীয় শিশুদের একটি অনলাইন ক্যাটালগ প্রকাশ করে।
এ সম্পর্কিত প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রায় তিনশো ইউক্রেনীয় এই শিশুদের ই-কমার্স স্টোরের পণ্যের মতো উপস্থাপন করা হয় বয়স, লিঙ্গ, চোখ এবং চুলের রঙ, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং এমনকি ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য অনুসারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার অপহরণের শিকার এই ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত সংস্থা সেভ ইউক্রেনের সিইও মাইকোলা কুলেবা মন্তব্য করেন, রাশিয়া আর এটি লুকানোর চেষ্টাও করছে না। তারা প্রকাশ্যে ইউক্রেনীয় শিশুদের পাচার করছে।
সুলতানা দিনা/