ইসরায়েল যখন কোনো দেশে বা কারও ওপর হামলা চালায় তখন নির্ভুল তথ্য নিয়ে নিখুঁত হামলা পরিচালনা করে। এসব হামলায় ইসরায়েলের সফলতা ব্যাপক। এসব হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার, আরেক শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া যিনি ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের গুপ্ত হামলায় নিহত হন, মুখপাত্র আবু ওবায়দা, হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নসরুল্লাহ, কিংবা কয়েক মাস আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানীদেরকেও ইসরায়েল হত্যা করে। অতীতেও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সাফল্য রয়েছে ব্যাপক। তবে এবার কাতারের দোহায় অভাবনীয় কারণে বেঁছে গেলেন হামাসের শীর্ষ নেতা খালিল আল হায়্যা ও অন্যান্যরা।
স্থানীয় আরব গণমাধ্যম ও ইসরায়েলের N-12 সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, মূলত নামাজ পড়তে যাওয়ার কারণে বেঁচে গেছেন হামাসের শীর্ষ নেতারা।
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা হামাস নেতাদের মোবাইলের সিগনাল ট্র্যাকের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। তারপর যথাসময়ে ওই অবস্থানে হামলা করে ইসরায়েলের বিমানগুলো। কিন্তু হামাসের নেতারা নামাজে যাওয়ার সময় মোবাইলগুলো সঙ্গে নিয়ে যান নি। যে রুমে বৈঠক হচ্ছিল সে রুমেই তারা মোবাইলগুলো রেখে নামাজে গিয়েছিলেন পাশের ভবনে। আর ঠিক ওই মুহুর্তেই হামলা হয়।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তারা কাতারকে হামলার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক করেছে, তবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী আবদুল রহমান জসিম আল থানি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে মিথ্যা বলেছেন। তবে আরেকটি সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন কাতারে ফোন করে ঠিক ওই মূহুর্তেই হামলা হয়। সেদিক থেকে এটা নিশ্চিত যে, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তায় হামাসের নেতারা বেঁছে গেছেন সে কথা বলার সুয়োগ নেই। কারণ ওই হামলায় মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে খালিল আল হায়্যার পুত্র ও কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকতাও রয়েছেন। তারা হামলার সময় ওই বৈঠক রুমে অবস্থান করছিলেন। সতর্ক বার্তা পেলে নিশ্চয়ই তারাও বের হয়ে যেতেন।
হামাসের সর্বোচ্চ নেতা খালেদ মিশাল, খালিল আল-হায়্যা, জাহের জাবারিন, মোহাম্মদ দারউইশ, হুসাম বাদরান, তাহের আল-নোনো ও মুসা আবু মারজুককে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু তারা সবাই বেঁচে যান। ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য নির্ভুল হলেও ভাগ্যক্রমেই বেঁচে গেলেন তারা।
মাহফুজ/