ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ইউরো (৩২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) তহবিল পশ্চিমা বিশ্ব জব্দ করেছে। যার মধ্যে ২১০ বিলিয়ন ইউরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রয়েছে এবং ইউরোক্লিয়ার একাই প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন ইউরো ধারণ করে। ফ্রন্ট নিউজের খবর।
তবে কোনও দেশ আবার রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার চেষ্টা করলে সেই দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে মস্কো। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া।
সিএনবিসির মতে, অনেক ইইউ দেশ মনে করছে ইউরোপে রাশিয়ার বেশিরভাগ সম্পদ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাই এগুলো জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে।
এই সতর্কবাণী এমন সময়ে উচ্চারিত হলো-যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সহায়তা করতে জায়গাভিত্তিকভাবে জমে থাকা রুশ সম্পদ থেকে বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরিকল্পনার খবর পাওয়া গেছে।
২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনাবাহিনী পাঠানোর পর, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রলয়ের সঙ্গে লেনদেন সীমাবদ্ধ করে। এসময় প্রায় ৩০০–৩৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ অবরুদ্ধ রাখে।
এগুলোতে প্রধানত ইউরোপীয়, যুক্তরাষ্ট্রের এবং ব্রিটিশ সরকারের বন্ড রয়েছে এবং যা ইউরোপিয়ান সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরিতে রাখা ছিল।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লিয়েনের পরিকল্পনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপে জমে থাকা রাশিয়ার সম্পদগুলোর নগদ অর্থ ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অর্থায়ন করার একটা নতুন উপায় খুঁজে নেওয়া।
পলিটিকো জানায়, ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাশিয়ার মালিকানাধীন মেয়াদ উত্তীর্ণ বন্ড থেকে মেয়াদ শেষে আসা নগদ আমানত ব্যবহার করে ইউক্রেনের জন্য ক্ষতিপূরণমূলক ঋণ প্রদানের ধারণার কথা ভাবছে।
এদিকে, রাশিয়া বলছে, তাদের সম্পদের যেকোনও ধরনের জব্দ পশ্চিমের পক্ষ থেকে চুরির সমতুল্য। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বন্ড ও মুদ্রার প্রতি বিশ্বাস ভঙ্গ করবে।
সুলতানা দিনা/