সুদানের দারফুরের গভর্নর মিনি আরকো মিনাওয়ি মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের দখলের পর মাত্র তিন দিনে সেখানে ২৭ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে আরএসএফ (র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস)।
তিনি জানান, সেখানে আরএসএফ পরপর তিন দিন এত সংখ্যক মানুষ হত্যা করে যে, এল-ফাশেরে যেখানে সেখানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর সেসব মরদেহ দাফন করার মতোও কাওকে পাওয়া যায়নি।
মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই সংখ্যা আগে প্রকাশ পাওয়া সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
প্রসঙ্গত, এর আগে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, এল-ফাশের পতনের পর অন্তত ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর সুদানি সেনাবাহিনী (এসএএফ) শহর ছাড়ার পর আরএসএফ হঠাৎ হামলা চালায়। তার আগে শহরটি টানা ৫৫০ দিনের বেশি অবরুদ্ধ ছিল। শহর পতনের পর একের পর এক গণহত্যার বর্ণনা উঠে আসে। আশঙ্কার বিষয়, এত বড় হত্যাকাণ্ডের মধ্যেও খুব কম মানুষ শহর থেকে পালাতে পেরেছে।
প্রাণে বাঁচা মানুষজন মিডল ইস্ট আইকে জানান, সেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যা, যৌন সহিংসতা ও নানান নির্যাতন চলেছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দারফুর সফর শেষে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এল-ফাশের পরিস্থিতিকে ‘সর্বোচ্চ ভয়াবহ’ এবং ‘একটি অপরাধস্থল’ বলে অভিহিত করেন।
পোর্ট সুদানে সাময়িক কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিনাওয়ি। খার্তুমে দুই বছর আগে লড়াই ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সুদানি সেনাপ্রধান ও সরকারের বেশির ভাগ অংশ সেখানেই অবস্থান করছেন।
উত্তর দারফুরের বাসিন্দা এবং আরএসএফের টার্গেটে থাকা জাঘাওয়া সম্প্রদায়ের সদস্য মিনাওয়ি তাঁর নিজের পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি। শুধু বলেছেন, ‘আমার পরিবারের অনেকজনকেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে।’
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা, নারী নির্যাতনসহ নানান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম দারফুরে মাসালিত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও রয়েছে।
কিন্তু এল-ফাশের নিয়ে সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের এই শহর টানা দেড় বছর খাদ্য-ওষুধের অভাবে অবরুদ্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরবরাহ করা উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে আরএসএফ ২৬ অক্টোবর শহর দখল করে।
এল-ফাশের ছিল দারফুরে সুদানি সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র ‘জয়েন্ট ফোর্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ বড় শহর। মিনাওয়ি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিস্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহুবার সতর্ক করেছি। বলেছি, দারফুর দখল হলে সেটা গণহত্যায় পরিণত হবে। কিন্তু আমাদের সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছে।’
সুদান প্রসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের ও আমিরাতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা পায়েমার শায়না লুইস বলেছেন, অঞ্চলটিতে গণহত্যা রোধে উদাসীনতা দেখিয়ে যুক্তরাজ্য ‘পরোক্ষভাবে দায়ী।’
সুলতানা দিনা/