ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ

হাসিমুখের সেলফি কি চীন-দক্ষিণ কোরিয়া জটিল সম্পর্কের পুর্নবিন্যাস করতে পারবে?

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
হাসিমুখের সেলফি কি চীন-দক্ষিণ কোরিয়া জটিল সম্পর্কের পুর্নবিন্যাস করতে পারবে?
চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে সেলফি তোলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যকার জটিল সম্পর্ককে নতুন দিশা দিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে গত দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠকে বসেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং।

এর আগে গত নভেম্বরে গিয়ংজুতে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (APEC) সম্মেলনের সাইডলাইনে লি শির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। গত রবিবার লি তার চার দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছান; ২০১৯ সালের পর কোনো দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে একটি জটিল অবস্থানে রয়েছে। তাদের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক প্রয়োজন, কিন্তু সিউলের দুই প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ খারাপ হয়েছে। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যু, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক মালিকানা নিয়ে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব মতভেদ তো রয়েছেই।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন চীনকে প্রয়োজন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লি চলতি মাসের শেষের দিকে জাপান সফর করবেন, কিন্তু তিনি আগে চীন ভ্রমণ বেছে নিয়েছেন।

এখানে অর্থের বিষয়টি স্পষ্টতই গুরুত্বপূর্ণ। চীন দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক অংশীদার, তাদের রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য এবং আমদানির প্রাথমিক উৎস। কিন্তু সিউলের কাছে বেইজিংয়ের গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক কারণে নয়। উত্তর কোরিয়া এবং তার নেতা কিম জং উনের ওপর চীনের যে প্রভাব রয়েছে, তার জন্যও বেইজিং সিউলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লির চীন যাত্রার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল লক্ষ্য করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সেই জরুরি অবস্থাকেই মনে করিয়ে দিয়েছে।

শি-লি শীর্ষ সম্মেলনে কী আলোচনা হলো?

গতকাল সোমবারের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় দুই নেতার উষ্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে। শি জোর দিয়ে বলেন যে, উভয় দেশই ‘‘দক্ষিণ কোরিয়া-চীন সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।’’

শি বলেন, ‘‘প্রতিটি সাক্ষাতে বন্ধুত্ব গভীর হয় এবং প্রতিটি সফরে প্রতিবেশীরা আরও কাছে আসে।’’ ২০১৪ সালের পর শির গত নভেম্বরের দক্ষিণ কোরিয়া সফরটিই ছিল কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। তিনি আরও বলেন, ‘‘বন্ধু এবং প্রতিবেশী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনকে আরও ঘন ঘন যোগাযোগ করতে হবে।’’

লি-ও শির সুরেই কথা বলেন। সিউলের হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক ম্যাসন রিচি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম সাত মাস লির মনোযোগ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। সেই তুলনায় লির এই চীন সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চীনের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সূক্ষ্ম সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই তার ক্ষমতার প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা।’’

তবে রিচি সতর্ক করে বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ হলেও বেশ কিছু অমীমাংসিত এবং সংবেদনশীল ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। বিশেষ করে পীত সাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে চীনের ‘হাইব্রিড থ্রেট’ বা ছদ্মবেশী হুমকি এবং তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের ওপর চীনের চাপের বিষয়টি অনুচ্চারিত থেকেছে।

আসসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের গবেষক লি ডং-গিউ বলেন, ‘‘উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত। তবে কূটনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থানে আসা সহজ হবে না।’’

উত্তর কোরিয়া ইস্যু

৯০ মিনিটের সম্মেলনে লি উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্য চীনের সহযোগিতার ওপর জোর দেন। পিয়ংইয়ং বর্তমানে কোনো কূটনৈতিক সংলাপে বসার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র এবং অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি। শি উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং গত বছর বেইজিংয়ে বিজয় দিবসের প্যারেডে কিমকে শির পাশে দেখা গিয়েছিল। এদিকে, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাকে ‘ভণ্ড’ এবং ‘সংঘাত সৃষ্টিকারী উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেছে।

বৈঠকে লি বলেন, ‘‘(আমি) কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির কার্যকর বিকল্প অনুসন্ধানে চীনের সঙ্গে কাজ করব যাতে উভয় দেশ সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথ অবদান রাখতে পারে।’’ পারমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করলেও শি বলেন, দুই দেশের ওপর আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক জানান, দুই নেতা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ শুরুর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে প্রতিরক্ষা পর্যায়ে যোগাযোগ ও বার্ষিক বৈঠক আয়োজনে সম্মত হয়েছেন।

তাইওয়ান নিয়ে নীরবতা

গত সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লি বলেছিলেন যে দক্ষিণ কোরিয়া ‘এক চীন নীতিতে’ বিশ্বাসী। তবে আগে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে, তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক দ্বন্দ্বে দক্ষিণ কোরিয়ার সরাসরি জড়িত হওয়া উচিত নয়।

জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে চীনা আক্রমণের ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপের যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তাতে চীন-জাপান উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। সোমবারের বৈঠকে শি সরাসরি তাইওয়ান ইস্যু না তুলে বরং লি-কে ‘‘ইতিহাসের সঠিক পক্ষে দাঁড়াতে’’ এবং ‘‘সঠিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে’’ বলেন। 

পরিবর্তে, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে চীন ও কোরিয়ার যৌথ লড়াইয়ের ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন। লি-ও হাজার বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পরোক্ষভাবে জাপানি উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইকে স্মরণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াকে একটি কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেই এশিয়ার বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।

অধ্যাপক রিচি মনে করেন, লি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই সম্পর্ককে বেশি প্রাধান্য দেবেন, কারণ ঘরোয়াভাবে চীনে জনপ্রিয়তা অনেক কম এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় তার কোনো বিকল্প নেই। 

গত নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। চীনের আধিপত্য রুখতে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও তারা একে অপরকে সহযোগিতা করছে। যদিও শীর্ষ সম্মেলনে সাবমেরিন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রশাসনের আমলে যখন যুক্তরাষ্ট্র তার এশীয় মিত্রদের ওপর আরও বেশি দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পারে, তখন চীন সেই সুযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে মার্কিন প্রভাব কমানোর চেষ্টা করতে পারে।

দক্ষিণ চীন সাগরের নাটকীয়তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি

পীত সাগরের একটি যৌথভাবে পরিচালিত প্রোভিশনাল মেরিটাইম জোনে (PMZ) চীনের কিছু ইস্পাত কাঠামো নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্বেগ রয়েছে। চীন একে মাছ চাষের সরঞ্জাম বললেও সিউল একে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে। দুই দেশই এই সমুদ্রকে ‘‘শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ’’ করতে সম্মত হয়েছে এবং সমুদ্রসীমা নির্ধারণে চলতি বছরেই উপ-মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সফরে লির সঙ্গে স্যামসাং, এসকে গ্রুপ এবং এলজি’র মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ছিলেন। দুই দেশ বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং পরিবেশের ওপর ১৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ এবং চিপ রপ্তানির জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ব্যাপকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে হুয়াওয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের এআই চিপ চালু করার পরিকল্পনা করছে।

সাংস্কৃতিক বিনিময় ও অমীমাংসিত সমস্যা

অভিসংশিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ায় চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কথা মাথায় রেখে সিউল এখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে চাইছে। 

লি বলেন, ‘‘দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীন একই সমুদ্রে একই দিকে অগ্রসরমান দুটি জাহাজের মতো।’’

সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির চিফ অব স্টাফ কাং হুন-সিক মনে করেন, কে-পপ বা কে-ড্রামার ওপর থেকে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বেইজিং খুব দ্রুত তুলে নেবে না। এমনকি জনমত জরিপগুলোও দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একে অপরের প্রতি বিরূপ মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।

তা সত্ত্বেও, শীর্ষ সম্মেলন শেষে শি জিনপিংয়ের দেওয়া শাওমি ফোনে দুই নেতার হাসিখুশি সেলফি এবং লির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট ‘‘অসাধারণ ছবি হয়েছে’’ অন্তত বাহ্যিকভাবে দুই দেশের সম্পর্কের একটি ইতিবাচক রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সূত্র: আল জাজিরা

 

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চরমভাবে ভেঙে পড়ল কূটনৈতিক সৌজন্যতা। সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন ইসরায়েলি দূত।

বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনের তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ড্যানন এই প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য মহাসচিবের যে মায়াজাল রয়েছে, আপনি তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’

ড্যাননের এমন মন্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেসা ফ্রেজিয়ার তীব্র আপত্তি জানান। তিনি মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতিনিধি এবং আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনের সংকলক (যেখানেও ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

ফ্রেজিয়ার চিৎকার করে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেন এবং ড্যাননকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার কাছে এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি দূত ড্যানন ফ্রেজিয়ারকে সরাসরি চুপ থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের জন্য কাজ করেন। তাই এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদন- উভয়ই চুপ থাকবে।’

মাল্টার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভেনেসা ফ্রেজিয়ার চলতি সপ্তাহে মহাসচিব গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের তথাকথিত 'লজ্জার তালিকা' অ্যানেক্সে স্থান পেয়েছে।

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড্যানন এটিকে জাতিসংঘের ‘নতুন পতন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই উভয় প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের পাশাপাশি তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/