ইরান সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করাতে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তারা বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে রেডলাইন ঘোষণা করে। রয়টার্সের খবর।
এদিকে, তেহরানের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘টাইম ম্যাগাজিন’কে জানান, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে—যাদের বেশির ভাগই গুলিতে নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য সেনারা কোনোভাবেই রেডলাইন লঙ্ঘন করতে দেবে না। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা জনসম্পত্তি ও কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষায় প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে নতুন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই সতর্কবার্তা এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।
দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হলেও দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নিয়ে বড় আকাড় ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছে।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ‘দাঙ্গা’ উসকে দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করা হয়। একই সঙ্গে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। ইরানজুড়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ এখনো ব্যাপকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সুলতানা দিনা/