মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে জেফ্রি এপস্টিনকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন–এমন একটি ছবি ফাঁস হয় সম্প্রতি। আর সে ছবি ফাঁস হওয়া নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান হিলারি। সাক্ষ্য দেওয়া বাদ দিয়ে উঠে বের হয়ে যেতে চান ওই কক্ষ থেকেই। নতুন প্রকাশিত ভিডিওতে এমনটাই দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি এসবের মধ্যে নেই। আপনারা যদি এমনটা করেন, তাহলে আমি এসবের মধ্যে নেই। চাইলে আমাকে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন।’ গত সোমবার হাউস ওভারসাইট কমিটি যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ক্লিনটন এবং তার স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আলাদা আলাদা জবানবন্দি দিয়েছেন। দুজনই প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে জানান।
এপস্টিনের ভুক্তভোগীরা ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। তবে তদন্তসংক্রান্ত নথিতে বিল ক্লিনটনের নাম ও ছবি রয়েছে। এ কারণেই তাদের জবানবন্দির দাবি ওঠে। শুনানির কয়েক ঘণ্টা পর রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান লরেন বোয়েবার্ট ‘পিৎজাগেট’ ইস্যু তোলেন। এটি একটি ভুয়া ষড়যন্ত্রতত্ত্ব–যেখানে দাবি করা হয়েছিল হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ মহল ওয়াশিংটন ডিসির একটি পিৎজার দোকান থেকে শিশু নির্যাতনের চক্র পরিচালনা করত।
কিছু তর্কবিতর্কের পর বোয়েবার্ট জানতে চান এপস্টিনসংক্রান্ত কোনো নথিতে ‘পিৎসাগেট’ উল্লেখ আছে কি না, তা ক্লিনটন পর্যালোচনা করেছেন কি না। এ সময় হিলারি ক্লিনটনকে বিস্মিত দেখাচ্ছিলেন। তিনি জবাবে বলেন, ‘পিৎজাগেট পুরোপুরি বানানো গল্প। এটি ছিল চরম ভিত্তিহীন অভিযোগ, যা অনেকের ক্ষতি করেছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, আপনি এটা তুলছেন।’
অন্যদিকে দীর্ঘ জবানবন্দির একপর্যায়ে বিল ক্লিনটনকে জিজ্ঞেস করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা উচিত কি না। তিনি বলেন, ‘সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। তবে তিনি (ট্রাম্প) এপস্টিনকে ভালোভাবেই চিনতেন।’
২০০২ বা ২০০৩ সালের দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনকে নিয়ে এক আলাপের কথা স্মরণ করেন বিল ক্লিনটন। তার কথায়, ট্রাম্প এমন কিছু বলেননি, যাতে তার মনে হয়েছে তিনি কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন। ট্রাম্প নাকি বলেছিলেন, ‘আমরা বন্ধু ছিলাম, পরে একটি জমি চুক্তি নিয়ে সম্পর্ক খারাপ হয়।’
বিল ক্লিনটন জানান, এই কথোপকথনটি হয়েছিল ট্রাম্পের গলফ কোর্সে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে। জবানবন্দির মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত একটি ছবির প্রসঙ্গ ওঠে, যেখানে দেখা যায় বিল ক্লিনটন একটি হট টাবে বসে আছেন, পাশে আরেকজন–যার মুখ অস্পষ্ট করা হয়েছে।
ছবির প্রেক্ষাপট জানতে চাইলে ক্লিনটন বলেন, ‘ছবিটি তোলা হয়েছিল, তা আমি জানতাম বলে মনে হয় না।’ তিনি ধারণা করেন, এটি ব্রুনেইয়ে তার এক দীর্ঘ এশিয়া সফরের শেষে তোলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ব্রুনেইয়ের সুলতানের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং সুলতান তাকে একটি হোটেলে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ছবিতে থাকা অন্য ব্যক্তিকে তিনি চেনেন কি না জানতে চাইলে দুবার বলেন, ‘আমি জানি না তিনি কে।’ সূত্র: বিবিসি