ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
এই ধরনের নৌযানগুলো নজরদারি বা আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বহু বছরের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চালকবিহীন নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ বহর গড়ে তুলতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ড্রোন নৌযান গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যখন বিস্ফোরকভর্তি স্পিডবোট ব্যবহার করে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর বহরে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করে, তারপর থেকেই এটি আলোচনায় উঠে আসে।
ইরানও অন্তত দুবার উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে এ ধরনের ড্রোন নৌযান আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহার করেছে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে সেন্ট্রাল কমান্ডের পেন্টাগন মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, মেরিল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি ব্ল্যাকসির তৈরি গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট (জিএআরসি) নামের চালকবিহীন নৌযানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে টহলের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে জিএআরসির মতো সমুদ্রভিত্তিক ড্রোনও রয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে ৪৫০ ঘণ্টার বেশি সময় সমুদ্রে কার্যক্রম চালিয়েছে এবং ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ টহল দিয়েছে।
তবে আর কোন চালকবিহীন সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে তা প্রকাশ করেননি হকিন্স। একই সঙ্গে ব্ল্যাকসি কোম্পানিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তিনি আরও জানান, জিএআরসি এখনো একটি উদীয়মান প্রযুক্তি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ব্যবহৃত ড্রোন নৌযানের অংশ। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক জলসীমায় কী ঘটছে সে সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া। সূত্র: রয়টার্স