ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি দাবি করেছেন যে, বেশ কিছু আরব দেশের নেতাদের সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে এবং তারা এখন ইসরায়েলের পক্ষে ‘একত্রে লড়াই’ করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। হিব্রু ভাষার দৈনিক ‘মাআরিভ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু জানান, অতীতে আরব নেতাদের সঙ্গে তার অনেক গোপন আলোচনা হয়েছে যেখানে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে ইরান সুযোগ পেলেই তাদের রাজতন্ত্র হটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য দখল করে নেবে। নেতানিয়াহুর মতে, “আগে তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে না পারলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এর ভয়াবহতা বুঝতে পারছেন।”
একই সুর শোনা গেছে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের কণ্ঠেও। একটি পডকাস্টে তিনি দাবি করেন, গত এক মাসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের বন্ধুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীর হয়েছে। লাইটার জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইন ছাড়াও সৌদি আরব, ওমান এমনকি কুয়েতের মতো দেশগুলোও বর্তমানে ইসরায়েলের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা চাইছে।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যৌথ সামরিক বা কৌশলগত অভিযানে অংশ নিতে পারে এই আরব দেশগুলো। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসরায়েল এবং তার নতুন এই মিত্ররা ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সাম্প্রতিক উত্তজনা নিরসনে আরব দেশগুলো এখন পর্দার আড়ালে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার পথ বেছে নিচ্ছে। যদি নেতানিয়াহুর এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মোড়, যেখানে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে এক অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে আরব ও ইসরায়েল। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/