মানবাধিকার দিবস প্রতি বছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সভ্যতার অগ্রগতি শুধু প্রযুক্তি বা উন্নয়নের অঙ্কে নয় বরং মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তায় পরিমাপ করা হয়। ৭৫ বছরেরও বেশি সময় আগে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু আজকের বিশ্ব সেই স্বপ্ন থেকে কতটা দূরে- এটাই এ দিবসের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, দখল, গণ-অবস্থানচ্যুতি, ঘৃণানীতি, নজরদারি এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সংকট মানবাধিকারের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই নিজেদের স্বার্থে মানবাধিকারকে ব্যবহার করে, আবার অন্যত্র নীরব থাকে। এই দ্বিমুখী মানদণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোকে দুর্বল করছে। আবার রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি দুর্বল হলে মানবাধিকার কেবল আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। মানবাধিকার রক্ষা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের সমন্বিত দায়িত্ব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া মানবাধিকার রক্ষা সম্ভব নয়। কেবল উন্নয়ন নয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবনই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত মানদণ্ড।
মানবাধিকার দিবস তাই উদ্যাপনের দিন নয়, এটি আত্মসমালোচনার দিন। আজকের বিশ্বকে যদি শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমতার পথে নিয়ে যেতে হয়, তবে মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়নের লড়াইকে নতুন করে শুরু করতে হবে। মানবাধিকার রক্ষা মানে মানবতার ভবিষ্যৎ রক্ষা।
তাকবির জাহান
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]