মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য চিহুয়াহুয়ায় এক কৃষকের জমিতে খনন কাজ চলাকালীন হঠাৎ আবিষ্কৃত হয়েছে এক বিরল প্রত্নসম্পদ— দুই হাজার বছর আগে মারা যাওয়া এক টিয়া পাখির মমি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ম্যাকাও পাখির মমি।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের। টেক্সাস সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দক্ষিণে এক কৃষক নিজের জমিতে থাকা একটি গুহা সমান করার কাজ করছিলেন। বুলডোজার দিয়ে মাটি সমতল করার সময় শ্রমিকরা হঠাৎ কিছু অদ্ভুত জিনিস পেয়ে থেমে যান। কৃষক সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর ছবি তুলে পাঠান প্রত্নতত্ত্ববিদ এমিলিয়ানো গালাগাকে, যিনি মেক্সিকোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যানথ্রোপলজি অ্যান্ড হিস্টরির উত্তরাঞ্চলীয় শাখার পরিচালক।
গালাগা জানান, “প্রথমেই আমরা দেখি এক ম্যাকাও পাখির মাথা একদম অক্ষত অবস্থায় আছে। পালকের সবুজ রং এখনো ঝলমলে, আর ঠোঁটটিও সম্পূর্ণ অক্ষত।”
গবেষণায় জানা গেছে, পাখিটি সামরিক ম্যাকাও (Military Macaw) প্রজাতির। এটি প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত হয়ে গেছে, অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুহার শুষ্ক পরিবেশেই মমিতে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি প্রায় ২,০০০ বছর পুরনো—যা এখন পর্যন্ত পাওয়া অন্য সব ম্যাকাও অবশেষের তুলনায় অন্তত ৮০০ বছর বেশি প্রাচীন।
গুহায় আরও কী মিলেছে
অভেন্দানো গুহায় শুধু টিয়া পাখির মমিই নয়, পাওয়া গেছে এক শিশু মানুষের কঙ্কাল ও এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের নিম্নাঙ্গ—যার পা দুটি বাঁধা ছিল। এছাড়া পাওয়া গেছে পাথরের অস্ত্র, প্রাচীন বস্ত্রের টুকরোসহ অসংখ্য নিদর্শন।
আজ পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকো অঞ্চলে প্রায় ৬৭০টি ম্যাকাও পাখির অবশেষ পাওয়া গেছে, যেগুলোর সময়কাল আনুমানিক খ্রিষ্টাব্দ ১২০০ সালের আশেপাশে। কিন্তু অভেন্দানো গুহার এই ম্যাকাও হলো প্রথম, যা পকিমে (Paquimé) অঞ্চলের বাইরে পাওয়া গেছে।
বাণিজ্য ও ধর্মের যোগসূত্র
গবেষকরা মনে করেন, প্রাচীনকালে ম্যাকাও পাখি ছিল অভিজাত শ্রেণির মানুষের পোষা প্রাণী। দূর দক্ষিণ থেকে এদের আনা হতো, কারণ স্থানীয়ভাবে এ প্রজাতির পাখি পাওয়া যেত না। তাই এগুলো ছিল একধরনের বিলাসপণ্য, যেগুলো ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
গালাগা বলেন, “এগুলো আনতে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হতো। সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সম্ভব ছিল না।”
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, টিয়া পাখিগুলোকে কেবল বাণিজ্যের অংশ নয়, বরং দেবতা ও মানুষের মধ্যবর্তী বার্তাবাহক হিসেবেও দেখা হতো। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে তাদের প্রতীকী ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যৎ গবেষণার অপেক্ষা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবিষ্কার উত্তর মেক্সিকোর লেট আর্কেইক যুগের সমাজ ও ধর্ম সম্পর্কে নতুন আলোকপাত করবে। গালাগা জানান, “এই অঞ্চল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত। গুহাটিতে আরও গবেষণা করলে প্রাচীন সমাজের সংস্কৃতি ও বাণিজ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে।”
মেহেদী/