ঈশ্বরের নামে নিবেদন করা দানেও এবার থাবা জালিয়াতদের। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বিশ্বখ্যাত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া রুপার নৈবেদ্য নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সরকারি পরীক্ষার রিপোর্টে জানা গেছে, মন্দিরে জমা হওয়া রুপার গহনা ও মুদ্রার প্রায় ৯৫ শতাংশই নকল। ভক্তির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভক্তদের হাতে রুপার নামে ক্যাডমিয়াম ও লোহা ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
৫৫০ কোটির সম্পত্তি নেমে এল ৩০ কোটিতে
মন্দির কর্তৃপক্ষের ভাণ্ডারে গত কয়েক বছরে ভক্তদের দানে প্রায় ২০ টন রুপা জমা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সেই রুপা গলিয়ে সংরক্ষণ করার জন্য সরকারি টাঁকশালের দ্বারস্থ হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, বর্তমানে রুপার বাজারমূল্য প্রতি কেজি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ অনুযায়ী এই রুপার দাম হবে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি রুপি। কিন্তু পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, আসল রুপার পরিমাণ ৫-৬ শতাংশের বেশি নয়। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ কোটি টাকারও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্যাডমিয়ামের কারসাজি
টাঁকশালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুপার নামে যা জমা পড়েছে তার বেশিরভাগই ক্যাডমিয়াম ও লোহা। ক্যাডমিয়াম দেখতে হুবহু রুপার মতো হলেও এর দাম কেজি প্রতি মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা। টাঁকশালের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক ৭০ কেজি ধাতুর মধ্যে মাত্র ৩ কেজি খাঁটি রুপা মিলেছে।
ক্যাডমিয়াম গলানোর সময় অত্যন্ত বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী ধোঁয়া নির্গত হয়। তাই টাঁকশালের কর্মীরা প্রথমে এই ধাতু গলাতে অস্বীকার করেছিলেন। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সামান্য পরিমাণ আসল রুপা আলাদা করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযোগে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ী চক্র
এই জালিয়াতি সামনে আসার পর থেকেই সন্দেহ বাড়ছে মন্দিরের আশেপাশে থাকা গয়না ব্যবসায়ীদের দিকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা না বুঝে স্থানীয় দোকান থেকে রুপার ছত্র বা মুদ্রা কেনেন।
অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ীরাই জেনেবুঝে ভক্তদের কাছে রুপার দামে সস্তা ক্যাডমিয়াম বিক্রি করেছেন। ফলে ভক্তরা মনে করছেন তারা রুপা দান করছেন, অথচ এগুলো আসলে মূল্যহীন বিষাক্ত ধাতু।
অমিয়/