মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে তিনি এ সংক্রান্ত আদেশে সই করেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
ট্রাম্প আমেরিকার শিল্প রক্ষার নামে নতুন এই শুল্ক আরোপকে একটি ‘বড় ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতির জন্য ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রতেই তৈরি হওয়া প্রয়োজন, বিদেশি মাটিতে নয়।’
আগামী ৪ মার্চ থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে এবং এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়াও ট্রাম্প অন্যান্য শিল্পের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়েও ভাবছেন। বিশেষ করে তিনি অটোমোবাইল, ওষুধপত্র ও কম্পিউটার চিপ আমদানিতে শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করছেন।
ট্রাম্প এর আগেও তার প্রথম মেয়াদে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকারখানাগুলো এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছে। তাই দেশের শিল্পকে রক্ষা করতে শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন।
ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত আমদানিকারক দেশ। দেশটির প্রধান ইস্পাত সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কানাডা, ব্রাজিল ও মেক্সিকো। অন্যদিকে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া অ্যালুমিনিয়ামের ৫০ শতাংশের বেশি এসেছে কানাডা থেকে। ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কানাডা।
এ বিষয়ে কানাডার উদ্ভাবন মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেইন এই শুল্ক ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রেরে প্রতিরক্ষা, জাহাজ নির্মাণ, জ্বালানি এবং অটোমোবাইল শিল্পে সহায়তা করে। আর এটি উত্তর আমেরিকাকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করে তুলছে।’
এদিকে কানাডার ইস্পাত প্রস্তুতকারকদের লবিং গ্রুপ সরকারকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই শুল্ক আরোপ করা হলেও এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: বিবিসি
তাওফিক/