দারিদ্র্যবিরোধী দাতব্য সংস্থা অক্সফাম সম্প্রতি সতর্ক করে জানায়, আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য গণতন্ত্রের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চারজন ধনী আফ্রিকান ব্যক্তির সম্পদ সমগ্র মহাদেশটির অর্ধেক জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
অর্থাৎ,আফ্রিকার চার ধনী ব্যক্তির সম্পদ এখন পুরো মহাদেশের ৭৫ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি।
অক্সফাম বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানায়, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
অক্সফাম আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে কেবল নাইজেরিয়ান ধনকুবের আলিকো ডাঙ্গোটের নাম উল্লেখ করলেও, ফোর্বসের মতে, অন্যান্য শীর্ষ উপার্জনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান জোহান রুপার্ট ,নিকি ওপেনহাইমার এবং মিশরীয় ধনকুবের নাসেফ সাওরিস।
অক্সফাম জানায়, গত পাঁচ বছরে আফ্রিকান ধনকুবেরদের সম্পদ ৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনীদের সম্পদ আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি অসম দেশের প্রায় অর্ধেকই এই মহাদেশে অবস্থিত।
অক্সফামের দেয়া তথ্যানুসারে, এখানকার সরকারি নীতিগুলো দরিদ্রদের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং অতি ধনীদের আরও বেশি সম্পদ অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ আফ্রিকান দেশ অতি ধনীদের উপর কার্যকরভাবে কর আরোপ এবং বৈষম্য দূর করার জন্য প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করছে না।
সংস্থাটি, ক্রমবর্ধমান এই বৈষম্যের জন্য পশ্চাদগামী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল নীতি, অবৈধ আর্থিক প্রবাহকে দায়ী করেছে - বিশেষ করে বিদেশে সম্পদ লুকানোর সুযোগকে অনুঘটক হিসেবে দায়ী করেছে।
এনজিওটি জানায়, এই বৈষম্য শুধু গণতন্ত্রকেই বাধাগ্রস্ত করছে না বা দারিদ্র্য হ্রাসকে ব্যাহত করছে না বরং এটি জলবায়ু সংকটকে আরও খারাপ করছে। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ-নাইজেরিয়ায় রাজনৈতিক পদপ্রার্থী ব্যক্তিরা প্রায়শই রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি করা অতিরিক্ত ফি- এর কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা চাইলেও নেতৃত্বে অবদান রাখতে পারছে না।
দাতব্য সংস্থাটি বলেছে ,ইতোমধ্যে, ২০২২ সাল থেকে আফ্রিকার প্রায় দশটির মধ্যে ৯টি দেশ কর, শ্রম অধিকার এবং ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত নীতি থেকে সরে এসেছে যা বৈষম্য মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
এ ক্ষেত্রে, অক্সফাম মহাদেশটির কর প্রশাসনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে, আফ্রিকার কর ব্যবস্থা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় এক শতাংশ ধনী ব্যক্তির আয় পুনর্বণ্টনে প্রায় তিনগুণ কম কার্যকর। তার উপর আবার অবৈধ আর্থিক প্রবাহের মাধ্যমে মহাদেশটি বার্ষিক আনুমানিক ৮৮.৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এছাড়া, দাতব্য সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বের ১৫১টি দেশের কর ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, আফ্রিকাই একমাত্র অঞ্চল যেখানে ১৯৮০ সাল থেকে কার্যকর করের হার বৃদ্ধি করা হয়নি।
সুলতানা দিনা/